ইসরায়েলের বিতর্কিত নতুন বসতি নির্মাণ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ ২১ দেশ। তাদের অভিযোগ, এ পদক্ষেপ ফিলিস্তিনে দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে কার্যত অসম্ভব করে তুলবে। খবর আল জাজিরা।
বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘এই সিদ্ধান্তের কঠোর নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।’ দেশগুলোর মতে, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, পূর্ব জেরুজালেমের পূর্ব দিকে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ‘ইস্ট ১’ বা ই-ওয়ান নামে পরিচিত অঞ্চলে ৩ হাজার চারশ’ নতুন বসতি স্থাপন করবে। এতে পশ্চিম তীরের একটি বড় অংশ পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পার্শ্ববর্তী হাজারো অবৈধ বসতির সঙ্গে নতুন সংযোগ তৈরি হবে। অথচ পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় ফিলিস্তিনিরা।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই বসতি ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে ভাগ করবে, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করবে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করবে।’ নিন্দাকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।
তারা সতর্ক করে বলেছে, এই বসতি অঞ্চলটির সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে শান্তি থেকে আরো দূরে নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে এটি ইসরায়েলি জনগণের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এরইমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কমিশন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ১৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বসতি স্থাপন, সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের মতো একতরফা পদক্ষেপ মাটিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। যা শান্তির যে কোনো সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেছেন, ই-ওয়ানের মতো বসতিগুলোই ফিলিস্তিনকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলবে। তার দাবি, ‘এই বাস্তবতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে একেবারে কবর দিল। স্বীকৃতি দেয়ার মতো কিছু নেই, স্বীকৃতি নেয়ার মতো কেউ নেই।















