মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে জান্তা সরকার। সোমবার (১৮ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রথম ধাপ আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। ২০২১ সালের রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর এটিই প্রথম ভোট হতে যাচ্ছে। তবে সমালোচকরা এ নির্বাচনকে ভুয়া গণতন্ত্রের আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। খবর বিবিসি।
২০২১ সালে সেনারা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা অং সান সু চি-কে কারাগারে পাঠিয়ে ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে আছে। সেনাদের সঙ্গে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ লড়াই চলছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ভোট হবে না। নির্বাচনের পূর্ব পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে গেছে। কারণ সেনারা বিরোধী প্রতিরোধ দমনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে দেশের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৫৫টি রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ৯টি দল সারা দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফা বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। পরবর্তী ধাপের তারিখ পরে জানানো হবে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন সামরিক সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, ভোট যেকোনো ভাবে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা বা বাধার চেষ্টা করলে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। দলটি অভ্যুত্থানের আগে টানা দুই নির্বাচনে জয় পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহল এ পরিকল্পিত নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করছে। তবে মিয়ানমারের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিবেশী চীন এ আয়োজনকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের মতে, দেশটির স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক স্বার্থের জন্য জরুরি।
সমালোচকদের অভিযোগ, সেনারা প্রক্সি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চায়। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ এ ভোটকে ‘মরীচিকার মতো নির্বাচন’ বলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন, এ প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করার জন্য।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের আগে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে ও বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে ও মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এ বছরের মার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।










