ইরানে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলাকে 'সুস্পষ্ট আগ্রাসন' এবং 'আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) ইরান দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক ওই বৈঠকে আরাঘচি জানান, গত কদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু আলোচনা চলছিল। গত রোববার ষষ্ঠ দফার আলোচনা ওমানের রাজধানী মাসকটে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই শুক্রবার সকালে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতাঞ্জের পরমাণু স্থাপনায় ও তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলা এবং বেসামরিক নাগরিক, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের নিজ বাড়িতে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং বেআইনি।

কিছু দেশের ইরানের প্রতি সমর্থনের কথা উল্লেখ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর দুর্বল প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, কেউ কেউ ইসরায়েলকে দোষারোপ করার পরিবর্তে ইরানকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের পাল্টা হামলা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত এবং 'বৈধ আত্মরক্ষা' নীতির আওতায় করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র "অধিকৃত ভূখণ্ডে" অবস্থিত সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ইরানের তেল শোধনাগার ও অর্থনৈতিক অঞ্চল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার পর ইসরায়েলের অর্থনৈতিক স্থাপনায় পাল্টা জবাব দেয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাক্বাঈ লিখেছেন, আগ্রাসী ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী তাদের প্রচারে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালাচ্ছে এবং আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মাত্র তিনটি হামলায় ৭০ জনের বেশি নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। চামরান শহরতলির যে ভবনে হামলা চালানো হয়েছিল, সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ২০ শিশুর মধ্যে এখনো ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।

তিনি আরো লিখেছেন, আগ্রাসী শাসকগোষ্ঠী একদিক থেকে ঠিকই বলেছে। তারা সত্যিই নির্ভুলভাবে হামলা করে, যে হামলার লক্ষ্য নারী ও শিশুরা। এই বর্বরতা তাদের স্বভাবসুলভ আচরণ।