ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে সৌদি সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজে করে এসব অস্ত্র পাঠানো হয়। একই সময়ে তাইজ ও বাব আল-মান্দেব ঘিরে লড়াই তীব্র হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অব্যাহত রয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা। খবর রয়টার্স।
পাকিস্তানের অস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে আসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সেপ্টেম্বরে চারটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজে করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা এডেনে পাঠানো হয়। অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করবেন পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারা। সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন তারা।
এদিকে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনর্দখলে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেন সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, দেশের বাকি ভূখণ্ড পুনর্দখল এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই অভিযানের লক্ষ্য। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় তাইজ শহরের আশপাশে লড়াই তীব্র হয়েছে। তাইজ হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে গেলে উত্তরের সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সঙ্গে এডেনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে সরকারি বাহিনীর রসদ সরবরাহও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবও বিমান হামলা জোরদার করেছে। রিয়াদের অভিযোগ, বিমানবন্দরসহ দেশটির একাধিক সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে একটি ড্রোন মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে আঘাত করেছে। কেন্দ্রটি মসজিদে নববিসহ পবিত্র স্থানগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।
তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বলেছে, এ ধরনের হামলা ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত।
অন্যদিকে, ইয়েমেনে সংঘাতের তীব্রতার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় উল্লেখিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা জানান। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা উচিত, সময়ক্ষেপণ ও একতরফা দাবি চাপিয়ে দেয়ার যুগ শেষ হয়েছে। ইরানের অবস্থানও ‘স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট’। শর্তগুলো পূরণ হলে সাতদিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল চালু করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে ইরান উচ্ছ্বসিতও নয়, ভীতও নয় উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, তেহরান একই সঙ্গে লড়াই ও আলোচনা চালিয়ে যাবে। এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের দেয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, দেশটির কিছু এলাকায় প্রতি চার পরিবারের তিনটি পরিবার খাদ্য সংকটে রয়েছে। সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং লাখো মানুষের খাধ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।










