সিঙ্গাপুরের পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার (৩ মে) প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের নেতৃত্বে পিএপি ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট ও পার্লামেন্টের ৯৭টি আসনের মধ্যে ৮৭টি আসন পায়। এ নিয়ে টানা ১৪ বার জয় পেল শাসক দল পিএপি। খবর বিবিসি।
এবারের নির্বাচনে সিঙ্গাপুরের ভোটাররা মূল্যস্ফীতি, মজুরি স্থবিরতা ও চাকরির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়ান চং বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি আকারে ছোট ও আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতি উন্মুক্ত। আমরা ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার জন্য পরিচিত।’
প্রধান বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি) নতুন কোনো আসন পায়নি। তবে তারা আগের ১০টি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৫৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা পিএপি বিশ্বের দীর্ঘতম ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর একটি। প্রবীণ প্রজন্মের কাছে দলটি সিঙ্গাপুরের সমৃদ্ধির জন্য জনপ্রিয়। তবে সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনী এলাকার পুনর্নির্ধারণ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পিএপি অনৈতিক সুবিধা নেয়।
২০২০ সালের নির্বাচনে কভিড সংকট মোকাবেলার প্রেক্ষিতে পিএপির ভোট কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এবারের জয় লরেন্স ওংয়ের নেতৃত্বে জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলে দাবি সমালোচকদের। আজ রোববার টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ওং ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এ ফলাফল সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের অস্থির পরিস্থিতিতে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। এটি সরকারের প্রতি আস্থা, স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসের স্পষ্ট সংকেত।’
সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে চাপে রয়েছে। ইউক্রেন ও গাজায় যুদ্ধ, সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন হওয়া এবং মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ এর জন্য দায়ী। পণ্য ও সেবায় সরকারের কর বৃদ্ধিও সমালোচিত হয়। তবে লরেন্স ওং স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালালে তা ভোটারদের আকর্ষণ করে।
অন্যদিকে বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলের নেতা প্রীতম সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা সত্ত্বেও তারা কিছু এলাকায় ভোট বাড়িয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর সিং বলেন, ‘নির্বাচন আমাদের জন্য কঠিন হওয়ারই কথা ছিল। তবে আমরা আবার শুরু করব।’










