মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার চেষ্টা করতে গিয়ে মার্কিন নাগরিকদের আর্থিক কষ্ট তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো প্রভাব ফেলছে না। বরং তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খবর রয়টার্স।

ট্রাম্পের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিনদের আর্থিক পরিস্থিতি তাকে কতটা প্রভাবিত করছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘একটুও না।’

চীন সফরে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান নিয়ে কথা বলার সময় একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তারা পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না। আমি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবি না। আমি কারো কথাই ভাবি না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে ভাবি, আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দিতে পারি না। এটাই সব। এটাই আমাকে প্রভাবিত করে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য সমালোচকদের নজর কাড়তে পারে। তাদের মতে, প্রশাসনের উচিত ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য ও আমেরিকানদের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব— দুটির মধ্যে ভারসাম্য রাখা। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে আছে।

প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হোয়াইট হাউজের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং বলেন, ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত দায়িত্ব হলো আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। পদক্ষেপ নেয়া না হলে তারা সেই অস্ত্র পেয়ে যেত, যা সব আমেরিকানের জন্য হুমকি।’

এদিকে রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। অনেক রিপাবলিকান আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ভোটারদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ, এমনকি সম্ভবত সিনেটের নিয়ন্ত্রণও দল হারাতে পারে।

ইরান সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে এবং তা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

গতকাল প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনে যে সময় লাগবে, তা গত গ্রীষ্মের পর থেকে পরিবর্তিত হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ওই সময় বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার কারণে সেই সময়সীমা বেড়ে নয় মাস থেকে এক বছরে পৌঁছেছে। দুই মাসের যুদ্ধ চললেও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মূল্যায়নে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ট্রাম্পের মিত্ররাও তার যুক্তির পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানের ঝুঁকি স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক কষ্টের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর।

অন্যদিকে, ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।