গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ভোর থেকে অন্তত ২৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পরপরই নতুন করে হামলা ও হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে, ফলে হতাহতের এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল-জাজিরার।

এদিকে এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গাজা থেকে শিশুসহ ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার মুখে চিকিৎসা-সামগ্রী সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে দ্রুত সরিয়ে না নিলে রোগের বিস্তৃতি ও মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে।

ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, তাদের একটি দল এবং সহযোগী সংস্থাগুলো আল-আহলি ও আল-সাহাবার হাসপাতালে প্রায় ২০ হাজার রোগীর জন্য চিকিৎসা-সামগ্রী এবং ১৯ হাজার লিটার জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সীমিত প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ বাধার ফলে লাখ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত সাহায্য মিশনের অর্ধেকেরও বেশি বন্ধ বা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গাজাকে ‘মৃত্যু উপত্যকা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো গাজার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপারগুলো বন্ধ করে রেখেছে। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানিসহ সব ধরনের জরুরি সহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না। মানবিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যেন বিভীষিকার দরজা আবার খুলে গেছে। গাজা এখন এক মৃত্যু উপত্যকা—এবং সাধারণ মানুষ এক অন্তহীন মৃত্যুচক্রে আটকে পড়েছে।