কয়েকদিন জনসমক্ষে না আসায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার অসুস্থতা নিয়ে জল্পনা শুরু করলে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হয়ে এসব গুজব উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। খবর এপি।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসি তাকে রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেন, ‘সপ্তাহান্তে গুজব ছড়াল যে আপনি মারা গেছেন, খবরটি কীভাবে জানলেন?’ জবাবে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প ঠাণ্ডা গলায় বলেন, ‘না।‘ পাশে দাঁড়ানো সিনেটর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হেসে ওঠেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি জানতেন মানুষ তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তবে সেটিকে তিনি ‘ফেক নিউজ’ বা গুজব বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, ‘সপ্তাহান্তে আমি বেশ সক্রিয় ছিলাম।‘ তিনি আরো জানান, জনসমক্ষে না এলেও কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দীর্ঘ পোস্ট লিখেছেন। রোববারের এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জীবনে কখনো এত ভালো লাগেনি।‘
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে একাধিকবার হাতের পিছনে কালশিটে দাগ ও গোড়ালির চারপাশে ফোলা অবস্থায় দেখা গেছে। কখনো তা মেকআপ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি রোগ ধরা পড়েছে—যে অবস্থায় পায়ের শিরাগুলো ঠিকমতো রক্তকে হৃদপিণ্ডে ফেরত পাঠাতে পারে না। ফলে রক্ত জমে যায় নিচের অংশে। এটি বয়স্কদের মধ্যে সাধারণ সমস্যা।
হাতের ক্ষতের বিষয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ব্যাখ্যা করেছেন, ঘন ঘন হাত মেলানো আর নিয়মিত অ্যাসপিরিন সেবনের কারণেই এ দাগ পড়েছে। হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্প নিয়মিত অ্যাসপিরিন খান।
ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৫ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় তার চিকিৎসকের দেয়া চিঠিতে লেখা হয়েছিল—তিনি অসাধারণ শক্তি ও সহনশীলতার অধিকারী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিতদের মধ্যে সবচেয়ে সুস্থ ব্যক্তি।
আবার ২০২০ সালে কভিড আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। পরে প্রকাশিত হয়, তখন তার শ্বাসকষ্ট ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে নেমে গিয়েছিল।















