এক দশকের ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়া। চলতি সপ্তাহে দেশটির দুই প্রদেশে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই বালির নাগরিক। বন্যার ভয়াবহতায় রাজ্যটিতে ৭ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। খবর বিবিসি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্তারার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে পর্যটন দ্বীপ বালি ও ইস্ট নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। প্রবল বৃষ্টিতে নদীর পানি উপচে বালির অন্তত নয়টি শহর ও জেলা প্লাবিত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বন্যার পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বালির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোও চলমান বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যঅয় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায়ই বন্যা ও ভূমিধস হয়। গত মার্চে জাভা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে তিনজনের মৃত্যু এবং পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে সেন্ট্রাল জাভার একটি শহরে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে মৌসুমি ঝড়ের ধরণও বদলে গেছে—বর্ষাকাল দীর্ঘতর হচ্ছে, বৃষ্টির তীব্রতা ও ঝড়ো হাওয়ার মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে।










