ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী খলিল মাহমুদকে আটকের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প টাওয়ারে বিক্ষোভ করেছে এক দল ইহুদি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) জিউস ভয়েস ফর পিস’ ব্যানারে বিক্ষোভ করে তারা। এদিকে এ ঘটনায় প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশটির সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন বলছে, খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও জননীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ নেই।
গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়ার একদিন পরই শনিবার সন্ধ্যায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ (আইসিই) বিভাগের এজেন্টরা খলিলকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা থেকে আটক করে। বর্তমানে তাকে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে তাকে রাখা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যানহ্যাটেনের ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে শতাধিক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এ সময়ে তাদের পরনে ছিল লাল টি-শার্টে লেখা ছিল,'আমাদের নামে না', 'ইহুদিরা বলছে, ইসরাইলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন’। একই সঙ্গে তারা ‘এখনই খলিল মাহমুদকে মুক্তি দিন’, 'একজনের জন্য এসো, সবার সামনে দাঁড়াও' প্রভৃতি স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলে। তবে এরপরও সেখান থেকে না সরলে প্রায় ৯৮ জনকে আটক করে পুলিশ, যাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে টাওয়ারের লবি থেকে হাত বেঁধে অপেক্ষমান গাড়িতে তোলা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ‘অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা ও প্রতিরোধের’ অভিযোগ আনা হয়েছে ।
খলিলকে আটকের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খলিলকে প্রথম আটক করা হয়েছে। আরও অনেককে ধরা হবে। যারা ‘সন্ত্রাসের পক্ষে, ইহুদিবিদ্বেষী ও আমেরিকাবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত, সেই সব শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হবে।
খলিলকে আটকের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করেছেন, তাদের একজন অভিনেতা ডেবরা উইংগার। যদিও তাকে আটক করা হয়নি। তার অভিযোগ, ইহুদিদের নিরাপত্তায় ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো আগ্রহ নেই। আমি অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, আমি খলিলের পক্ষে দাঁড়িয়েছি।















