নিজেদের সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আমাদের থাকে শত প্রচেষ্টা। এর অন্যতম একটি অংশ মেকআপ সামগ্রী। তবে এসব সামগ্রীর প্রায় সবই রাসায়নিক যুক্ত বলে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
তাই ত্বকের ধরন যেমনই হোক না কেন, সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য ছাড়াও কিন্তু ত্বকের যত্ন নেয়া যায়। কারণ, সৌন্দর্যের মূল রহস্য হলো সুস্থতা। সুস্থতার সঙ্গে সুন্দর থাকার জন্য করতে পারেন এই কয়টি কাজ-
১. পুষ্টিকর খাবার
সব ধরনের ত্বক ও শারীরিক গঠনের মানুষের জন্যই অতিরিক্ত তেল, ভাজা–পোড়া, চিনি, লবণ, চর্বি ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ক্ষতিকর। শরীরের স্থূলতা ও মুটিয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত এসব খাবারই দায়ী। ব্রণসহ ত্বকের নানা রকম উটকো ঝামেলাও তৈরি করে এসব খাবার।
সুস্থ ত্বক ও চুলের জন্য সুষম খাদ্য অপরিহার্য। ত্বকের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভিটামিন দরকার। খাদ্যতালিকায় স্বল্পমূল্যের তাজা ফল ও শাকসবজি আপনার ত্বককে পুষ্ট ও সজীব রাখবে। দেহকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করবে গ্রিন টি, আদা-চা, লেবু চায়ের মতো প্রাকৃতিক পানীয় ।
২. পর্যাপ্ত পানি খান
পানি হলো সব ধরনের সুস্থতার পূর্বশর্ত। ত্বকসহ পুরো শরীরের কোষগুলো সতেজ রাখার পাশাপাশি দেহের যাবতীয় বর্জ্য পদার্থ অপসারণের কাজও করে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি, ছোপ ছোপ দাগ, মলিনতাসহ দেহে স্থূলতাও দেখা দেয়। কাজেই নিয়মিত ত্বকের বর্জ্য পদার্থ অপসারণের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার।
৩. ঘাম ঝরান
দেহের বর্জ্য পদার্থগুলোর একটা বড় অংশ ঘাম হয়ে বেরিয়ে যায়। ত্বকের নিচে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো বের হয় লোমকূপের মাধ্যমে ঘাম হিসেবে। তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে শরীর থেকে ঘাম ঝরাতে হবে।
৪. চুল পরিষ্কার রাখুন
চুলের সুস্থতার মূল কথা হলো পরিচ্ছন্নতা। চুল পরিষ্কার থাকলেই সুন্দর থাকে। নিজের চুলের ধরন বুঝে নিয়মিত শ্যাম্পু বা রিঠার মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার রাখুন। মাঝেমধ্যে চুলে তেল দিন। ঘর্মাক্ত অবস্থায় বা গোসলের পর ভেজা চুল বেঁধে রাখবেন না। এতে চুলের ডগা ফেটে যায়, জন্ম নিতে পারে ব্যাকটেরিয়া। ফ্যানের বাতাস বা প্রাকৃতিকভাবে সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় চুল শুকাবেন। হেয়ার ড্রায়ারে চুল ও মাথার ত্বক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘুমানোর সময় আলতো করে চুল বেঁধে ঘুমাবেন। বাইরে গেলেও চুল বেঁধে রাখাই ভালো। এতে করে চুলের ভেতর ময়লা কম প্রবেশ করে।
৫. পোশাক হোক পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক
পোশাক বর্ণিল বা কারুকার্যময় হওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিষ্কার ও স্বস্তিদায়ক হওয়া। পোশাকের উপাদান হতে হবে আবহাওয়া ও মৌসুম উপযোগী।
৬. গভীর ঘুম
সুস্থতা ও সৌন্দর্যের অন্যতম সহায়ক ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুম শুধু চোখের নিচের কালো দাগ বা ত্বকের ছোপ ছোপ দাগই দূর করে না, বরং কোলাজেন উৎপাদনের মতো বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতেও সাহায্য করে।










