২০১৯ সালের সবচেয়ে
উদ্বেগজনক খবরগুলো
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
কিংবা ইউরোপের
কোনো গণমাধ্যমেই
বিশেষ স্থান
পায়নি। তবে
২০২০ সালে
সম্ভবত চীনের
অর্থনৈতিক মন্দা
এবং ভারতের
প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য
মাত্রাতিরিক্ত হ্রাসের
বিষয়গুলো অনেক
বেশি মাত্রায়
মনোযোগ আকর্ষণ
করবে।
আন্তর্জাতিক
মুদ্রা তহবিল,
এশীয় উন্নয়ন
ব্যাংক এবং
ওইসিডি (অর্গানাইজেশন
ফর ইকোনমিক
কো-অপারেশন
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)
ভারতের ক্ষেত্রে
তাদের অনুমিত
প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন
প্রায় ৬
শতাংশ হ্রাস
করেছে, নতুন
দশকের শুরু
থেকে যা
কমবে। হ্রাসের
এ পরিমাণটিকে
কেউ কেউ
যদিও আশাবাদী
বলেই দাবি
করছেন। কেননা
অন্যরা কিন্তু
এটিকে আরো
কয়েক ধাপ
নামিয়ে অনেক
বেশি ভয়াবহ
চিত্র তুলে
ধরছেন। উদাহরণস্বরূপ,
ভারতের সাবেক
মুখ্য অর্থনৈতিক
উপদেষ্টা অরবিন্দ
সুব্রামানিয়াম বিভিন্ন
অর্থনৈতিক সূচকের
ওপর ত্রিভুজীয়
প্রমাণের ভিত্তিতে
যুক্তি দেখিয়েছেন,
ভারতের প্রবৃদ্ধি
হ্রাস পেয়ে
৩ দশমিক
৫ শতাংশেরও
কম হতে
পারে।
চীনের
জিডিপি প্রবৃদ্ধি
২০০৭ সালে
১৪ দশমিক
২ শতাংশ
থেকে কমে
২০১৮ সালে
৬ দশমিক
৬ শতাংশ
হয়। আইএমএফ
ধারণা করছে,
২০২৪ সাল
নাগাদ যা
কমে ৫
দশমিক ৫
শতাংশ হতে
পারে। দ্রুত
প্রবৃদ্ধি চীন
ও ভারতের
লাখো মানুষকে
দারিদ্র্য থেকে
মুক্তি দিয়েছে,
তাই শ্লথ
প্রবৃদ্ধি দরিদ্র
জনগোষ্ঠীর জীবনমানের
উন্নতিতে বাধা
সৃষ্টি করতে
পারে।
তাহলে
এ অবস্থায়
চীন ও
ভারতের করণীয়
কী? অথবা
তাদের পক্ষ
থেকে কোনটি
না করাই
শ্রেয়? ভারতকে
ঘিরে দুঃসংবাদটি
ছড়িয়ে পড়ার
আগে ২০১৮
সালে আমরা
যখন আমাদের
‘গুড ইকোনমি
ফর হার্ড
টাইমস’ গ্রন্থটি
লিখছিলাম, তখন
কিন্তু সম্ভাব্য
পতন ঘিরে
আমরা উদ্বিগ্ন
ছিলাম (ততদিনে
অবশ্য চীনের
মন্থর প্রবৃদ্ধির
বিষয়টি রীতিমতো
খবরে পরিণত
হয়েছে)।
তাই অনুমানপূর্বক
প্রবৃদ্ধির পতন
সম্পর্কে আমরা
ভারতকে সতর্ক
করে দিয়ে
বলেছি, ‘ভারতের
অবশ্যই তাদের
আত্মতুষ্টির প্রবণতাকে
ভয় পাওয়া
উচিত।’
এক্ষেত্রে
আমরা সহজ
কয়েকটি বিষয়
তুলে ধরেছি:
এ ধরনের
পরিস্থিতি সাধারণত
পুঁজির বাজে
ব্যবহারের মাধ্যমেই
শুরু হয়,
চীন যেমন
কমিউনিজমের অধীনে
বা ভারত
তার চরম
বিশৃঙ্খলার দিনগুলোতে
করেছিল, সংস্কারের
প্রথম ফায়দা
সম্ভবত সম্পদের
যথাযথ ব্যবহারের
মাধ্যমেই আসতে
পারে। উদাহরণস্বরূপ,
ভারতের উৎপাদন
শিল্পের ক্ষেত্রে
কারখানা পর্যায়ে
জোরালো প্রযুক্তিগত
উন্নয়নের পাশাপাশি
২০০২ সাল-পরবর্তী
প্রতিটি শিল্পের
সেরা সংস্থাগুলোতে
পুনর্বরাদ্দ দেয়া
হয়। এটি
কোনো ধরনের
অর্থনৈতিক নীতি
পরিবর্তনের সঙ্গে
সম্পর্কিত নয়
এবং একে
ভারতের ‘উৎপাদন
রহস্যের অলৌকিক
ঘটনা’ হিসেবে
বর্ণনা করা
হয়েছে।
তবে
এটি কোনো
অলৌকিক কিছু
নয়, বরং
নেহাতই প্রারম্ভিক
বিন্দু থেকে
একটি পরিমিত
স্তরে উন্নতিসাধন।
কেন এমনটা
ঘটেছে? যে
কেউ এক্ষেত্রে
হাজারটা কারণ
কল্পনা করে
নিতে পারেন।
এটি হয়তো
এক প্রজন্ম
থেকে পরবর্তী
প্রজন্মের নিকট
কর্তৃত্ব হস্তান্তরের
মাধ্যমে ঘটেছে
কিংবা অভিভাবকদের
কাছ থেকে
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব
নিয়েছেন সন্তানরা;
যাদের বেশির
ভাগই হয়তো
দেশের বাইরে
থেকে পড়াশোনা
করে আসা
ও অনেক
বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী
এবং যারা
নতুন প্রযুক্তি
ও বিশ্ববাজার
সম্পর্কে অনেক
বেশি সচেতন।
অথবা পরিমিত
পুঞ্জীভূত মুনাফার
মাধ্যমে পুরনো
কারখানাকে বৃহৎ
ও উন্নত
কারখানায় পরিণত
করা সম্ভব
হওয়ার ফলে
এটি হয়েছে।
হয়তো উল্লিখিত
দুটি কারণেই
এটি সম্ভব
হয়েছে। কিংবা
অন্য কোনো
কারণ এখানে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখেছে।
আরো
সাধারণভাবে বললে,
চীনের মতো
যে রাষ্ট্রগুলো
তাদের সম্পদ
ও মেধাকে
বাজেভাবে ব্যবহারের
মাধ্যমে দ্রুত
প্রবৃদ্ধি অর্জন
করেছে, তারা
বরং বিষয়গুলোকে
আরো ভালোভাবে ব্যবহার
করে অনেক
বেশি কাজে
লাগতে পারত।
কিন্তু অর্থনীতি
যেহেতু সবচেয়ে
অনুৎপাদনশীল কারখানা
ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে
আগলে রাখে
এবং পুনর্বরাদ্দের
মারাত্মক বিভ্রান্তিগুলোর
সমাধান করে,
এতে করে
পরবর্তী সময়ে
উন্নতিসাধন ও
পরিবর্ধনের পরিসরগুলো
স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত
হয়। চীনের
মতো ভারতেরও
ধীর প্রবৃদ্ধি
ঘটছে। তবে
ভারতের মাথাপিছু
আয় যখন
চীনের সমান
হবে বা
একই স্তরে
পৌঁছবে কেবল
তখনই যে
ধীর প্রবৃদ্ধি
ঘটবে, তার
কিন্তু কোনো
নিশ্চয়তা নেই।
তবে ভারত
মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড,
মিসর, মেক্সিকো
কিংবা পেরুর
মতো ‘মধ্যম
আয়ের ফাঁদে’
পেঁচিয়ে পড়তে
পারে।
এক্ষেত্রে
সমস্যা হলো
রাষ্ট্রগুলো তাদের
প্রবৃদ্ধির প্রবণতাকে
বুড়ো আঙুল
দেখাতে ভয়
পায়। তবে
ঝুঁকিটি হচ্ছে
নীতিনির্ধারকরা প্রবৃদ্ধি
বৃদ্ধির বুনো
প্রবণতায় ভাসতে
থাকেন। জাপানের
সাম্প্রতিক ইতিহাস
এখানে উপকারী
একটি সতর্কবার্তা
হয়ে আসে।
জাপানের অর্থনীতি
যদি ১৯৬৩-৭৩
দশকের মতো
এর প্রবৃদ্ধির
হার ধরে
রাখতে সক্ষম
হতো, তাহলে
১৯৮৫ সালে
মাথাপিছু জিডিপি
আয়ে এবং
১৯৯৮ সালে
সামগ্রিক জিডিপি
আয়ে তারা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে
ছাপিয়ে যেত।
তবে এর
পরিবর্তে সত্যিকার
অর্থে যা
ঘটেছে, তা
কিন্তু যে
কাউকে কুসংস্কারগ্রস্ত
করার পক্ষে
যথেষ্ট। ১৯৮০
সালে হার্ভার্ডের
এজরা ভোগালের
‘জাপান অ্যাজ
নাম্বার ওয়ান’
নামক গ্রন্থ
প্রকাশের ঠিক
পরের বছর,
জাপানের প্রবৃদ্ধির
হার মুখ
থুবড়ে পড়ে
এবং এরপর
আর পুনরুদ্ধার
হয় না।
১৯৮০ থেকে
২০১৮ সাল
নাগাদ জাপানের
প্রকৃত জিডিপি
প্রবৃদ্ধি বার্ষিক
গড়ে শূন্য
দশমিক ৫
শতাংশ হারে
বেড়েছে।
এখানে
একটি সাধারণ
সমস্যা ছিল:
নিম্ন জন্মহার
এবং অভিবাসন
শূন্যতার কারণে
জাপানে তখন
(এখনো) বয়স্ক
লোকের সংখ্যা
দ্রুত বৃদ্ধি
পাচ্ছিল। ১৯৯০-এর
দশকের শেষ
দিকে কর্মক্ষম
জনসংখ্যার হার
বেশি থাকলেও
মূলত তার
পর থেকেই
বার্ষিক শূন্য
দশমিক ৭
শতাংশ হারে
হ্রাস পাচ্ছে
(এবং এখনো
হ্রাস পাচ্ছে)।
উপরন্তু, ১৯৫০,
১৯৬০ ও
১৯৭০-এর
দশকগুলোতে প্রশান্ত
মহাসাগরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী
বিপর্যয় কাটিয়ে
উঠে দেশটি
তার সুশিক্ষিত
জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে
সম্ভাবনাময় কাজগুলোতে
ব্যবহার করতে
শুরু করে।
অবশ্য
১৯৮০-এর
দশকের মধ্যে
এর সমাপ্তি
ঘটে। ১৯৭০
ও ১৯৮০-এর
দশকের রমরমা
অবস্থা দেখে
অনেকেই (জাপান
ও জাপানের
বাইরে) তখন
ধরে নিয়েছিলেন,
নতুন প্রযুক্তি
উদ্ভাবনের মাধ্যমে
জাপান দ্রুত
প্রবৃদ্ধি বজায়
রাখতে সক্ষম
হবে। ১৯৮০-এর
দশকজুড়ে দেশটি
কেন উচ্চ
বিনিয়োগ হার
(জিডিপির ৩০
শতাংশেরও বেশি)
অব্যাহত রেখেছিল,
এ থেকে
তার একটা
জুতসই ব্যাখ্যা
মেলে। আশির
দশকে তথাকথিত
বুদবুদ অর্থনীতির
স্বল্প কিছু
ভালো প্রকল্পে
অনেক বেশি
পরিমাণ ভালো
টাকা (গুড
মানি) ব্যয়
করা হয়।
ফলে, মন্দঋণের
কারণে অনেক
ব্যাংকের কার্যক্রম
বন্ধ হয়ে
যায়, যা
১৯৯০-এর
দশককে বড়
ধরনের আর্থিক
সংকটের দিকে
চালিত করে।
প্রবৃদ্ধির গতি
থমকে যায়।
১৯৯০-এর
হারানো দশক
শেষে, জাপানের
নীতিনির্ধারকরা সম্ভাব্য
কী ঘটছে
এবং তারা
কী হারিয়েছেন,
তা উপলব্ধি
করতে শুরু
করেছিলেন। তবে
যা-ই
হোক না
কেন, একটি
শক্তিশালী শিক্ষা
ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ
অনেক সমস্যা
চিহ্নিতকরণ; যার
মধ্যে অন্যতম
দ্রুত বৃদ্ধি
পাওয়া অধিক
সংখ্যক বয়স্ক
জনগোষ্ঠীর পরিমিত
জীবনমান নিশ্চিত
ইত্যাদি সত্ত্বেও
জাপান ততদিনে
পাশ্চাত্যের অনেক
দেশের তুলনায়
কম বৈষম্য
নিয়ে তুলনামূলকভাবে
একটি ধনী
অর্থনীতি। তবে
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির
সঙ্গে সামঞ্জস্য
বজায় রাখতে
সক্ষম হয়নি,
তাছাড়া প্রবৃদ্ধি
পুনরুদ্ধারের বিষয়টি
ছিল তাদের
জাতীয় অহংকারের
বিষয়।
এতে
করে ফলাফল
দাঁড়ায় একের
পর এক
সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে
উদ্দীপক প্রকল্প
তৈরির প্রতিযোগিতায়
শামিল হলো।
বেশির ভাগ
ক্ষেত্রেই উন্নয়ন
প্রকল্পের নামে
বিশেষ করে
সড়ক, বাঁধ,
সেতু নির্মাণে
তারা ট্রিলিয়ন
ডলার খরচ
করতে শুরু
করল, যা
মূলত কোনো
সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য
তুলে ধরে
না। তাই
অনুমানযোগ্যভাবে আমরা
বলতে পারি,
উক্ত উদ্দীপক
প্রকল্পগুলো অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি অর্জনে
তেমন কোনো
ভূমিকা না
রাখলেও অধিক
হারে দেশটির
জাতীয় ঋণের
পরিমাণ বাড়িয়ে
তোলে, ২০১৬
সালে এর
পরিমাণ দাঁড়ায়
জিডিপির ২৩০
শতাংশ। জি২০
তালিকাভুক্ত দেশগুলোর
মধ্যে যা
সর্বোচ্চ এবং
জাপান বর্তমানে
বিশ্বের অন্যতম
ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্র।
জাপানের
থেকে চীন
ও ভারতের
নীতিনির্ধারকরা যে
শিক্ষাটি নিতে
পারেন, তা
কিন্তু ভীষণ
পরিষ্কার: তাছাড়া
তাদের মেনে
নিতে হবে
যে প্রবৃদ্ধি
অনিবার্যভাবেই ধীর
হবে। চীনের
নেতারা এ
সম্পর্কে অবহিত
এবং জনগণের
প্রত্যাশা অনুসারে
তা পূরণের
জন্য সচেতনভাবে
চেষ্টা করছেন।
২০১৪ সালে,
প্রেসিডেন্ট শি
জিনপিং ১০
শতাংশ বা
এর চেয়ে
বেশি নয়,
বরং বার্ষিক
৭ শতাংশ
প্রবৃদ্ধিকে ‘নতুন
স্বাভাবিক চিত্র’
বা ‘নিউ
নরমাল’ হিসেবে
তুলে ধরেন।
তবে তার
প্রক্ষেপণটি কতটা
বাস্তবনির্ভর তা
কিন্তু এখনো
পরিষ্কার নয়,
তাছাড়া এরই
মধ্যে চীন
প্রচুর বৈশ্বিক
নির্মাণ প্রকল্প
হাতে নিয়েছে,
তা ভালো
কিছুর পূর্বাভাস
দেয় না।
শেষ
পর্যন্ত এ
সত্যটি ভুলে
যাওয়া উচিত
নয় যে,
জিডিপি অবশ্যই
গুরুত্বপূর্ণ, তবে
এটিই শেষ
পরিণতি নয়।
এটি একটি
দরকারি উপায়
তা অস্বীকারেরও
সুযোগ নেই,
বিশেষ করে
এর মাধ্যমে
যখন কর্মসংস্থান
হয় কিংবা
মজুরির পরিমাণ
বাড়ে কিংবা
সরকারের বাজেটের
পরিমাণ বৃদ্ধি
হয়, যেন
এটি আরো
বেশি পুনর্বণ্টিত
হতে পারে।
তবে এক্ষেত্রে
অবশিষ্ট চূড়ান্ত
লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে
থেকে যায়,
গড় প্রতি
ব্যক্তির, বিশেষ
করে সবচেয়ে
দরিদ্র ব্যক্তির
গুণগত জীবনমান
বৃদ্ধির বিষয়টি।
তাছাড়া গুণগত
জীবনমান অর্থ
নেহাত ভোগ
থেকে বেশি
কিছু। বেশির
ভাগ মানুষই
নিজের যোগ্যতা
ও সম্মানবোধ
সম্পর্কে যত্নশীল,
তাই তারা
যখন মনে
করে, তারা
নিজেকে এবং
তাদের পরিবারকে
ব্যর্থ করছে,
তখন তারা
পীড়িত বোধ
করে।
যদিও
আংশিকভাবে ব্যক্তির
ভোগের পরিমাণ
বৃদ্ধির সঙ্গে
তার উত্তম
জীবনমান সম্পর্কিত,
এমনকি সবচেয়ে
দরিদ্র লোকটিও
তার পিতামাতার
স্বাস্থ্য, সন্তানদের
শিক্ষা, নিজের
মতামত তুলে
ধরা এবং
স্বপ্নপূরণ সম্পর্কে
যত্নবান। তবে
এগুলো অর্জনে
উচ্চ জিডিপি
শুধুই একটি
উপায়। তবে
ধরে নেয়া
উচিত নয়
যে, এটিই
একমাত্র সেরা
উপায়।
বিগত
কয়েক দশকের
গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন
সাফল্যগুলো সরাসরি
বৃহৎ পরিসরে
কল্যাণ ধারণা
সম্পর্কিত নীতি
গ্রহণের ফলাফল,
এমনকি এর
মধ্যে অনেক
দেশ রয়েছে,
যারা রীতিমতো
দরিদ্র রাষ্ট্র
হিসেবে পরিচিত
ছিল এবং
আছে। উদাহরণস্বরূপ,
অনেক দরিদ্র
রাষ্ট্রেও পাঁচ
বছরের নিচে
শিশুদের মৃত্যুহারের
পরিমাণ হ্রাস
পেয়েছে। যদিও
তাদের অর্থনীতি
দ্রুত বাড়ছে
না, তার
পরও নবজাতক
শিশুর প্রতি
যত্ন, টিকাদান
এবং ম্যালেরিয়া
প্রতিরোধের মতো
কার্যক্রমের দিকে
গুরুত্ব প্রদানের
জন্য তাদের
বড় করে
ধন্যবাদ জানাতে
হয়।
বিষয়টি
কিন্তু আমাদের
আবারো ভারত
ও চীনের
মন্দীভূত অর্থনীতি-বিষয়ক
আলোচনার কাছে
ফিরিয়ে আনে।
উভয় দেশের
নীতিনির্ধারকদের নিজ
নিজ জনগোষ্ঠীর
কল্যাণ সাধনে
এবং ভবিষ্যৎ
বিশ্ব ঘিরে
আমাদের খানিকটা
আশা আঁকড়ে
ধরে বাঁচতে
সাহায্য করতে
অনেক কিছুই
করার রয়েছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির
হার বাড়ানোর
ওপর একটি
অদূরদর্শী লক্ষ্য
স্থাপনের মাধ্যমে
হয়তো উক্ত
সুযোগটি হারিয়ে
যেতে পারে।
অভিজিৎ ব্যানার্জি ও এস্তার দুফলো: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ
ও এমআইটির
অধ্যাপক
ভাষান্তর:
রুহিনা
ফেরদৌস





