নতুন এক দশকে (২০২০ সাল থেকে) প্রবেশের সঙ্গে আমরা রাজনৈতিক অর্থনীতির এক নতুন যুগেও প্রবেশ করছি। কয়েক শতাব্দীর ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাদ বেশকিছু ধাপে বিবর্তিত হয়েছে। প্রথমে শিল্প থেকে ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পুঁজিবাদে এবং পরে এটি আর্থিক পুঁজিবাদে উন্নীত হয়েছে। এখন আবার আমরা ‘সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমের’ যুগে প্রবেশ করছি।

সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমের অধীনে মানুষের যাপিত অভিজ্ঞতাগুলোকে একতরফাভাবে বেসরকারি কোম্পানিগুলো দ্বারা দাবি করা হয় এবং সেগুলোকে স্বত্বাধিকারমূলক তথ্য প্রবাহে রূপান্তর করা হয়। এসব তথ্যের কিছু ব্যবহূত হয় পণ্য ও সেবার উন্নয়নে। বাকিগুলোকে ‘আচরণিক উদ্বৃত্ত’ (বিহেভিয়েরাল সারপ্লাস) হিসেবে বিবেচনা এবং সমৃদ্ধ পূর্বাভাসমূলক সংকেতের জন্য  মূল্যবান মনে করা হয়। এ পূর্বাভাসমূলক তথ্যগুলোকে চালান করা হয় মেশিন ইন্টেলিজেন্সের নতুন যুগের কারখানাগুলোয়, যেখানে সেগুলোকে ব্যাপক মুনাফাযোগ্য প্রেডিকশন প্রডাক্ট বলে গণ্য করা হয়; যা আপনার বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ পছন্দ অনুমান করতে পারে। এদিকে প্রেডিকশন প্রডাক্টগুলো তারপর কেনা-বেচা (ট্রেড) হয় সেখানে, যাকে আমি বলি ‘বিহেভিয়েরাল ফিউচারস মার্কেট’, যেখানে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিস্টরা তাদের ব্যবসায়িক গ্রাহকদের কাছে নিশ্চয়তা বিক্রি করে। গুগলের ‘ক্লিকথ্রো রেট’ ছিল প্রথম বৈশ্বিকভাবে সফল প্রেডিকশন প্রডাক্ট এবং এর অ্যাড মার্কেট ছিল হিউম্যান ফিউচারে কেনা-বেচার প্রথম প্লাটফর্ম। এরই মধ্যে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিস্টরা এসব ট্রেডিং অপারেশন থেকে ব্যাপকভাবে সম্পদ অর্জন করেছে, সম্পদবান হয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি অর্থনৈতিক খাতে আগের চেয়ে অধিক কোম্পানি আমাদের ভবিষ্যৎ আচরণের ওপর বাজি ধরতে আগ্রহ দেখিয়ে চলেছে।

এসব নতুন বাজারের প্রতিযোগিতামূলক ডাইনামিকস সার্ভিল্যান্স পুঁজিবাদের অর্থনৈতিক শর্তাবলি উন্মোচন করে। প্রথমত, মেশিন ইন্টেলিজেন্সের জন্য প্রয়োজন বিপুল তথ্য, যাকে ব্যাখ্যা করা যেতে ইকোনমি অব স্কেল হিসেবে; দ্বিতীয়ত. সর্বোত্তম পূর্বাভাস বা অনুমানগুলোর জন্য দরকার বিভিন্ন ধরনের তথ্য, যাকে বলা যেতে পারে ইকোনমি অব স্কোপ। এটি লাইক ও ক্লিকের সারপ্লাস ক্যাপচারের বাইরে অফলাইন জগতের ব্যক্তিমানুষের জগিং ভঙ্গি ও গতি, ব্রেকফাস্ট কথোপকথন, পার্কিং স্পেস খোঁজা, মুখ, কণ্ঠ, ব্যক্তিত্ব, আবেগসহ প্রভৃতি বিষয় সম্প্রসারণে চালিত করেছে। প্রতিযোগিতামূলক নিবিড়তার তৃতীয় একটি ধাপে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিস্টরা আবিষ্কার করেছে যে, সবচেয়ে পূর্বাভাসমূলক তথ্য আসে তুষ্ট, সমন্বয় ও একত্রে তাড়িত করার মানুষের কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ এবং নিশ্চয়তাকৃত সুফল-সংক্রান্ত আচরণ পরিবর্তন থেকে। জ্ঞান থেকে ক্ষমতার এ স্থানান্তর ‘ইকোনমিজ অব অ্যাকশন’ অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রযুক্তিকে একটি উৎপাদনের উপায় থেকে আচরণগত পরিবর্তনের একটি বৈশ্বিক উপায়ে রূপান্তর করেছে।

দূরবর্তী মানব আচরণকে অবয়ব দেয়া এবং অন্যের উদ্দেশ্যকে স্কেল আপ করার এ ক্ষমতাকে আমি বলি ‘ইনস্ট্রুমেন্টারিয়ান পাওয়ার’, কারণ এটি কাজ করে পুরোপুরিভাবে ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্টেশন মিডিয়ার মাধ্যমে। ইনস্ট্রুমেন্টারিয়ান পাওয়ার আপনাকে সন্ত্রাস বা খুনের ভয়ে সন্ত্রস্ত করবে না। ক্যাম্পে ধরে নিতে কোনো সৈন্যই আসবে না, আবির্ভূত হবে না। ক্ষমতার এ নতুন ধরন দূরবর্তীভাবে প্রকৌশল-সংক্রান্ত মগ্নচৈতন্যগত সূত্র, সামাজিক তুলনা ডাইনামিকস, রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্ট এবং মানুষের আচরণ প্রভাবিত করা বিভিন্ন ধরনের এনফোর্সার নিয়ে কাজ করে, যা বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

ইকোনমিজ অব অ্যাকশন নিরীক্ষণের একটি কেন্দ্রবিন্দু বিবেচিত হয়ে আসছে। ফেসবুকের ‘ম্যাসিভ স্কেল কনটেজিয়ন এক্সপেরিমেন্টস’ ব্যবহারকারীর বাস্তব জগতের আচরণ ও আবেগ পরিবর্তনে ফেসবুকের পেজে মগ্নচৈতন্যগত সূত্র ও সামাজিক তুলনা ডাইনামিকস কীভাবে কাজে লাগাতে হয়, সেটি আবিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে কীভাবে ব্যবহারকারীর সচেতনতা উপেক্ষা করতে হয়, সেটিও খুঁজে বের করেছে এটি। গুগলের উন্নয়নকৃত অগমেন্টেড-রিয়েলিটি গেম পোকেমন গো নিরীক্ষণকে নতুন মাত্রায় চালিত করেছে। কয়েক বছর আগেও পোকেমন গোতে অংশগ্রণকারীদের নেশা কেবল একটি স্মার্টফোন গেম খেলা ছিল না, বাড়তি কিছু ছিল। প্রকৃতপক্ষে গেমিফিকেশনের রিওয়ার্ডস অ্যান্ড পানিশমেন্ট মানুষকে রেস্টুরেন্ট, বার, ফাস্টফুড আউটলেট, শপের দিকে একত্রে চালিত করতে ব্যবহার হয়েছিল; যেটি মানুষের এক জায়গায় একত্র হওয়ার (ফুট ট্রাফিক) নিশ্চয়তা বিধান করেছিল।

ঠিক যেমন শিল্প-পুঁজিবাদ অব্যাহতভাবে উৎপাদনের উপায়কে তীব্রতর, নিবিড়তর করেছে; তেমনি সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম আচরণ রূপান্তরের উপায়কে তীব্রতর করছে। সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম প্রাথমিক ডিজিটাল স্বপ্নকে চূর্ণ করে, যেটি ইন্টারনেটকে মুক্তি ও গণতন্ত্রায়ণের শক্তি হিসেবে দেখিয়েছিল। কারো আর এ মোহ লালন করা উচিত নয় যে, নেটওয়ার্ক অন্তর্নিহিতভাবে নৈতিক কিংবা ‘সংযোগ’ অন্তর্গতভাবে সামাজিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক। অন্যদিকে ডিজিটাল সংযোগ এখন নিছকই অন্য কারো ব্যবসায়িক-বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য হাসিলের উপায়ে পরিণত হয়েছে। মর্মগতভাবে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম পরাশ্রয়ী, পরজীবী ধরনের। কার্ল মার্ক্স অনেক আগেই পুঁজিবাদকে চিত্রায়ণ করেছেন রক্তশোষক (ভ্যাম্পায়ার) হিসেবে, যা মানুষের শ্রমের ওপর বেঁচে থাকে। এখন শুধু শ্রমের জায়গায় ব্যক্তিমানুষের অভিজ্ঞতা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

ফেসবুক, মাইক্রোসফট, আমাজন এবং আরো অনেকেই সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমকে আলিঙ্গন করেছে; কিন্তু এটি প্রথমে সম্পূর্ণতা পেয়েছে গুগল দ্বারা (এখন অ্যালফাবেট), ঠিক যেমন এক শতক আগে ম্যানেজারিয়েল ক্যাপিটালিজম সম্পূর্ণতা পেয়েছিল জেনারেল মোটরস দ্বারা। অগ্রপথিক হিসেবে গুগল জোরালোভাবে অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটের অচিহ্নিত পরিসরগুলো (আনম্যাপড স্পেস) দখল করেছে, উপনিবেশায়িত করেছে; যেখানে টেক প্রতিষ্ঠানটি প্রাকৃতিক শিকারিমুক্ত একটি পরিবেশে একটি ইনভেসিভ স্পেসিসেসের মতো প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বা অনুসরণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সামর্থ্য বহুদূর ছাড়িয়ে এটি তার ব্যবসায়িক মডেলকে বিপজ্জনক গতিতে উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তবে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো থেকেও প্রতিষ্ঠানটি প্রভূত সুফল পেয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয়-নিরাপত্তা অ্যাপারেটাস সার্ভিল্যান্স পুঁজিবাদের উদ্ভূত সামর্থ্যগুলো নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সেগুলো লালন, পরিচর্যা ও এর যথোপযুক্ততা সৃষ্টিতে অধিক ঝুঁকেছিল।

সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিস্টরা দ্রুত উপলব্ধি করেছে যে, তারা যা করতে চায় তা করতে পারে। স্বাভাবিক কারণে তারা সেটি করেছেও। প্রযুক্তির মুক্তিমূলক ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক গলাবাজি করা হলেও তাদের প্রকৃত কাজ হলো, উৎপাদন ও বিক্রয়ের ফ্রি কাঁচামাল হিসেবে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার নিরবচ্ছিন্ন গোপন নিষ্কর্ষণ। এটিই ছিল তাদের হিডেন অফস্টেজ। বিপুল ও বর্ধিষ্ণু রাজস্বপ্রবাহ এবং বুনো, অপ্রতিদ্বন্দ্বী থিয়েটার অব অপারেশন দ্বারা সাহসী হয়ে তারা স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়াগুলোর অন্তর্নিহিত অবৈধতা দ্বারাও সুরক্ষিত ছিল। মানুষ সহজেই উপলব্ধি করতে পারেনি কী ঘটছিল এবং নতুন অর্থনৈতিক যুক্তি সত্যিই কীভাবে কাজ করেছিল।

বড় বড় ইন্টারনেট কোম্পানি শুরু হওয়ার সুবাদে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমের প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক শর্তাবলি ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাধারণভাবে ডিফল্ট মডেলে পরিণত হয়েছে। অধিকন্তু আজকের প্রেডিকশন প্রডাক্টগুলো বীমা, রিটেইল, ফিন্যান্স, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ক্রম-প্রসারিত বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবাসহ অন্য অনেক খাতের টার্গেটেড অনলাইন অ্যাডের চেয়েও সম্প্রসারণ হয়েছে।

এসব পণ্য ও সেবা গঠনমূলক উৎপাদক-গ্রাহকের পারস্পরিকতার জন্য তৈরি হয়নি। গতানুগতিক মূল্য বিনিময়ের অবজেক্ট হওয়ার বিপরীতে সেগুলো ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করা শোষণমূলক আয়োজনের ফাঁদে পরিণত হয়েছে, যেখানে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোকে পণ্যায়িত করা (হার্ভেস্ট) এবং অন্যের

উদ্দেশ্য সাধনে সেগুলো মোড়কজাত করা হতে পারে। ডিজিটাল যুগের ট্যুরিজম এ ধারণা ধারণ করে যে, ‘যদি কোনো কিছু ফ্রি হয়, তাহলে আপনিই পণ্য।’ কিন্তু সেটি সঠিক নয়, বরং আপনি মূলত বৃহত্তর শোষণ প্রক্রিয়ার কাঁচামাল।

এটি একটি ফিউস্টিয়ান কমপ্যাক্টের আভাস দেয়। আমরা সবাই গ্রহণ করেছি যে, ইন্টারনেট এখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য অত্যাবশ্যক। আমরা যদি এখনো এর সুফল কাজে লাগাতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের নিজেদেরই সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিস্ট শোষণ প্রক্রিয়াকে বশে আনতে হবে। কারণ আমরা ডিজিটাল জগতের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, নিজেরাই নজরদারির শিকার, বিভক্ত, খোদিত ও ম্যানিপিউলেট হওয়ার বাস্তবতায় ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়েছি। আমরা ‘আমার কিছু লুকানোর নেই’ এই বক্তব্যকে বৈধতা দিই কিংবা নিছকই নিজেদের গোপনীয়তা ও কর্তাশর্তা হারানোয় সহজেই অবগাহন করি। 

বিষয়টি এ পর্যায়ে কীভাবে এসেছে? সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমের সবচেয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এই যে, এটি নজিরবিহীন। সংজ্ঞাগতভাবে নজিরবিহীন উন্নয়নগুলো প্রাথমিকভাবে সহজে চিহ্নিত করা যায় না। আমরা যখন নতুন কিছুর মুখোমুখি হই, আমরা পরিচিত ক্যাটারিতে ফেলে সেটি বোঝার চেষ্টা করি। একটি উদাহরণ দেয়া যাক। যখন প্রথম যন্ত্রচালিত গাড়ি এল, নতুন প্রযুক্তিকে সাধারণের কাছে বোধগম্য করে তুলতে অনেকেই এটিকে ‘ঘোড়াবিহীন বাহন’ শব্দটি ব্যবহারের ওপর নির্ভর করেছিল। নিছক অতীতের সম্প্রসারণ হিসেবে আমরা যখন বর্তমানের কোনো নজিরবিহীন উন্নয়নকে ব্যাখ্যা করি, তখন আমরা অস্বাভাবিককে স্বাভাবিক করার ঝুঁকি গ্রহণ করি। এটি বড় ধরনের বিপজ্জনক ভুল হতে পারে। যখন আগের কলাম্বিয়ার অধিকারকৃত ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসী জনগোষ্ঠী সেখানকার সৈকতে সশস্ত্র স্প্যানিশ সৈন্যের অভিযাত্রার প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল, তারা অনুমান করেছিল ইশ্বর তাদের দেখতে আসছে এবং নবাগতদের দুর্দান্ত আতিথেয়তার মাধ্যমে স্বাগত জানিয়ে তারা নিজেদের ধ্বংসের বীজ বপন করেছিল।

যেহেতু এটি নজিরবিহীন, সেহেতু সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম আমাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ধারণাগুলোর পরিধিকে অতিক্রম করে। একটি উদাহরণ দেয়া যাক। আমরা যখন সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিস্টদের চর্চার বিষয়ে আপত্তি করি, তখন আমরা ‘একচেটিয়া’ এবং ‘গোপনীয়তা’ এ ধরনের শব্দগুলোর দ্বারস্থ হই। কিন্তু যখনই নিশ্চিতভাবে এসব শব্দ প্রয়োগ করি, তখন সেগুলো নতুন অপারেশনের সারবত্তা ধারণ (ক্যাপচার) করে না। সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম কেবল করপোরেট সুশাসন বা বাজার শক্তি নয়; নিজস্ব মৌলিক প্রক্রিয়া, পদ্ধতি, শর্ত এবং বাজারসহ এটি সঞ্চয়নের পুরোপুরিভাবে নতুন যুক্তি। এর পরিণতি ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠানের গতানুগতিক চৌহদ্দির বাইরে পৌঁছায় এবং উপর-নিচ সবদিক থেকে গণতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন করে। উপরের দিক থেকে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম সামাজিক বৈষম্য হ্রাসের পরিবর্তে তা বাড়িয়ে জ্ঞান ও ক্ষমতার নজিরবিহীন অসামঞ্জস্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। নিচের দিক থেকে সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমের শর্তাবলি মানুষের স্বায়ত্তশাসন, ব্যক্তিগত সার্বভৌমতা ও কর্তাশর্তার প্রতিষ্ঠার রূপ পরিগ্রহ করে—যেসব সক্ষমতা বা সামর্থ্য ছাড়া গণতন্ত্র অকল্পনীয়। যদিও সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম অর্থনৈতিক ইতিহাসে পুরোপুরিভাবে একটি নতুন শক্তি, আমরা এরই মধ্যে যথেষ্ট দেখতে ও জানতে পেরেছি যে, এটি সামাজিক রীতিনীতি ও অধিকারের প্রতি সুস্পষ্ট অবমাননার ওপর নির্ভর করে, যেগুলো যথাযথভাবে কার্যকর গণতান্ত্রিক সমাজের কাছে অত্যাবশ্যক। ঠিক যেমন শিল্প-পুঁজিবাদ প্রকৃতির বিনাশের বিনিময়ে বিকাশ লাভ করেছিল, তেমনি সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজম মানব প্রকৃতিকে পুঁজি করে সমৃদ্ধ হতে প্রয়াসী। বিপর্যয়কর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে আমরা এখন শিল্প-পুঁজিবাদের উত্তরাধিকারের মুখোমুখি হচ্ছি। সার্ভিল্যান্স ক্যাপিটালিজমের কাছে এভাবে যদি অবগাহন করতে থাকি, তাহলে আমাদের নিজস্ব উত্তরাধিকারের কী হবে?

 

শোসানা জুবফ: সমাজ মনস্তত্ত্ববিদ, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের ব্যবসায় প্রশাসনের প্রফেসর ইমেরিটাস

ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির