বাঙালি মেয়ে ভাষা মুখার্জি ছোট্টবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। সেখানে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি একই সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মেডিসিন ও সার্জারিতে ডিগ্রি নেন। চিকিৎসাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। যদিও গত বছর ‘মিস ইংল্যান্ড’-এর মুকুট পরে তার জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। সুন্দরীর মুকুট রেখে এখন ভাষা হাতে নিয়েছেন স্টেথোস্কোপ, পরনে অ্যাপ্রোন। কভিড-১৯ রোগে বিপর্যস্ত ব্রিটেনে মানুষের সেবা করতে তিনি তৈরি।
‘মিস ইংল্যান্ড’
হিসেবে ২০১৯ সালের ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাজেন্ট’
প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। এতে নবীন চিকিৎসক হিসেবে তার পেশায় খানিকটা ছেদ পড়ে। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা তাকে শুভেচ্ছাদূত করায় তিনি স্টেথোস্কোপ ছেড়ে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত মানবহিতৈষী কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার পরিকল্পনা করেন।
নভেল করোনাভাইরাস প্রকট আকার ধারণ করলে পূর্ব ইংল্যান্ডের বোস্টনে অবস্থিত পিলগ্রিম হাসপাতাল থেকে ভাষার সাবেক সহকর্মীরা ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে তাকে জানান, কতটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তখন আবারো কাজে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করেন ভাষা। সিএনএনকে তিনি জানান, মানবহিতৈষী কাজ করে গেলেও যখন মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ করছেন এবং তার সহকর্মীরা এতটা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তখন মিস ইংল্যান্ড মুকুট পরা তার কাছে ভুল মনে হয়।
মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই তিনি মেডিকেল নিয়ে পড়াশোনা করেন, ‘আমার মনে এই অনুভূতি কাজ করে যে কেন আমি এই ডিগ্রি নিয়েছি এবং এ পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য এর চেয়ে সেরা সময় আর হতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ যেভাবে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন তা অবিশ্বাস্য। মিস ইংল্যান্ড হিসেবে ইংল্যান্ডের মানুষের সেবা করার সেরা সময় এটাই।’
সিএনএন





