নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আলাদা থাকা। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্পর্কে পরিচিত নয়। কিন্তু এমন কিছু পেশা আছে, যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় এসব নিয়মকানুন মেনে চলে। এই যেমন ধরুন পর্বতারোহী, সাবমেরিনার, অ্যান্টার্কটিকায় কর্মরত গবেষক ও মহাকাশে ভ্রমণরত নভোচারী। তাদের কাছে আইসোলেশনই জীবনযাপন পদ্ধতি। চরম প্রতিকূল পরিবেশে এ পদ্ধতিতেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
স্কট কেলির মতো নভোচারীরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে অবস্থান নিয়ে এক বছর পর্যন্ত মহাকাশে বাস করতে পারেন। এ সময় পেশি ও হাড় ঠিক রাখতে দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা তারা শারীরিক পরিশ্রম করেন। জেগে থাকার বাকি সময় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয় তাদের। আর জন কেদরোস্কির মতো পর্বতারোহীদের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় তাঁবুতে থাকতে হয়। প্রতিকূল পরিবেশে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা কয়েক মাস কাটিয়ে দিতে পারেন, যেখানে যোগাযোগেরও খুব একটা সুযোগ থাকে না।
অ্যান্টার্কটিকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের কর্মীদের মাসের পর মাস আইসোলেটেড থাকতে হয়। বিশেষ করে শীতকালে, যখন বাইরে বের হওয়া বা বাড়িতে ফিরে আসা একেবারেই অসম্ভব। দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত একটি স্টেশনে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ শীতকালে ৫০ জনের মতো মানুষ থাকতে পারে। আর গরমকালে থাকতে পারে ১৫০ জনের মতো।
কোয়ারেন্টিনে অভ্যস্ত হতে এসব ব্যক্তি কিছু টিপসও দিয়েছেন। এগুলো হলো:
রুটিন
একঘেয়েমি কাটাতে কাজের সূচি ঠিক করা সবার আগে দরকার। কারণ এটা অনতিক্রম্য সময়কেও একটি নির্দিষ্ট ছকে আনতে সাহায্য করে।
লক্ষ্য স্থির এবং নতুন শখ
রুটিনের একটি অংশ নতুন কিছুর জন্য বরাদ্দ রাখুন, যেগুলো আপনি দীর্ঘদিন ধরে শুরু করতে চাইছেন। লক্ষ্য ও নতুন শখ এ সময়ে প্রেরণাদায়কের কাজ করে।
বিনোদনের কথা ভুলবেন না যেন
রুটিন ভালো, তবে তার মানে এটা নয় যে আপনাকে পুরোটা সময় নিরানন্দে কাটাতে হবে। এমনকি মহাকাশ স্টেশনেও নভোচারীরা বিনোদনের জন্য সময় বরাদ্দ রাখেন।
নিজের যত্ন নিন এবং সচল থাকুন
নভোচারীদের কাছে মিশনের সাফল্য নির্ভর করে নিজের যত্ন নেয়ার ওপর। তারা নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখেন, বিশেষ করে দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমণে।
অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন ও তাদের যত্ন নিন
আইসোলেশনে থাকার সময় অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা জরুরি। ঘরে বসে স্কাইপি বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও চ্যাট করতে পারেন।
নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে এক টুইটে জন বেইলি নামের এক রোবট সাবমেরিন চালক বলেন, আমাদের সব টহলের মতো এটাও শেষ হবে। আপনার নিজের বিশ্বকে কাছে টানুন। আপনি উপভোগ করেন এমন ক্ষুদ্র বিষয়ে মনোনিবেশ এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করুন।
জন কেদরোস্কি বলেন, কী ঘটতে চলছে তা বোঝা এবং মোকাবেলার প্রথম পদক্ষেপ হলো এটা মেনে নেয়া যে আগামী তিন থেকে ছয় মাস আমাদের জীবন আগের মতো থাকছে না। যত দ্রুত আপনি এটা মানিয়ে নিতে পারবেন, ততই আপনার জন্য ভালো। তিনি বলেন, গত ১০ দিনের আইসোলেশন আমার কাছে এভারেস্ট বা ২০ হাজারের বেশি উচ্চতায় অভিযাত্রার সমান মনে হয়েছে। বাড়ির কথা বাদ দিলেও তাঁবুতে থাকার চেয়ে এখন অনেক ভালো আছি।
ডসএনএন





