করোনায় বিপর্যস্ত দুুনিয়ার মানুষ। ধনী ও মধ্যবিত্ত—যে যার মতো পেরেছে, খাবার মজুদ করেছে। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও গরিব মানুষ এরই মধ্যে পড়েছে খাদ্য সংকটে। দুর্যোগের এ সময়েও বেড়েছে খাবার নষ্ট করার প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে এই খাবার নষ্টের প্রবণতা ঝুঁকিতে থাকা খাদ্যনিরাপত্তাকে আরো ঝুঁকিতে ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে এরই মধ্যে এক দফায় খাদ্য মজুদ করেছে সমাজের সব সামর্থ্যবান মানুষ। আতঙ্কের মধ্যে মানুষ এমন অনেক খাদ্যদ্রব্য কিনেছে, যেগুলো তাদের প্রয়োজন ছিল না। একইভাবে তারা যেসব খাবার বেশি করে কিনেছে, তার সবই কিন্তু তারা খেতে পারবে না। এই বাড়তি খাবার চলে যাবে ময়লার ঝুড়িতে।

নিউইয়র্ক শহরের একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রবার্ট রিড বলছেন, এখন শহরের সব রেস্টুরেন্ট বন্ধ। ঘরবন্দি মানুষ বাড়িতেই রান্না করছে। বেশির ভাগ মানুষই রান্না করছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। বারবার রান্না করার ঝামেলা এড়াতেও অনেকে একবারে অনেক বেশি খাবার রান্না করছে, যা পরে আর খেয়ে শেষ করতে পারছে না। বিভিন্ন বাসা ও অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বর্জ্য সংগ্রহের তালিকা বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ বর্জ্যের তালিকায় নষ্ট খাবারের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টন খাবার নষ্ট হয়, যা দেশটির বার্ষিক মোট খাবারের ৪০ শতাংশ। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর খাবার নষ্ট করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এ সংখ্যায় চলতি বছর ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাজারগুলোও বন্ধ। আবার শস্য বা খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকটও দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে দেখা দিয়েছে খাদ্য উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক