১৮৯০ সালে নিউইয়র্ক সিটি লড়াই করছিল যক্ষ্মার সঙ্গে। রোগটি সেই সময়ে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মৃত্যুর কারণ ছিল। প্রতিক্রিয়ায় ডাক্তাররা এরই মধ্যে যা জানতেন তা নিয়ে শহরটিতে ব্যাপক আকারে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেন। যেমন কিছু পানের কাপ ভাগাভাগি করলে, ফুটপাথে মানুষ চলাচলের রাস্তায় থুথু ফেললে তখন ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। এ সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে জনসম্মুখে থুথু ফেলতে এবং পান করার উপকরণ ভাগাভাগি  করার ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়। সৌভাগ্যবশত সচেতনতা গোটা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগের বিস্তৃতি রোধ করে।

এ প্রতিক্রিয়ার ধারায় যক্ষ্মা কেবল মানুষের আচরণের পরিবর্তনই করেনি, এটি দেশের অবকাঠামোতেও প্রভাব ফেলেছিল। বাড়ি নির্মাতারা খোলা বারান্দা এবং অনেক জানালাসমৃদ্ধ বাড়ি বানাতে শুরু করে। আর ডাক্তাররা রোগীদের জন্য বাইরে মুক্ত বাতাস পেতে  চাপ প্রয়োগ করেন। হাসপাতালগুলো বাইরে বেড দেয় এবং কিছু কিছু ওয়ার্ড একেবারে খোলা জায়গায় তৈরি করা হয়। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের নাম অনুসারে করা নাইটিঙ্গেল ওয়ার্ড। তবে এর সঙ্গে কেবল মুক্ত বাতাস ও সূর্যের আলোর বিষয়ই নয়, নিশ্চিত করা হয় সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও। বেডগুলো বসানো ছয় ফুট দূূরত্বে, যেন একজন অন্যজনকে স্পর্শ করতে না পারে।

বর্তমানে যখন গোটা বিশ্ব কভিড-১৯-এর সঙ্গে লড়াই করছে এবং ভবিষ্যতের মহামারীর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন ডিজাইনার এবং স্থপতিরা বিল্ডিং তৈরির নতুন পদ্ধতির কথা ভাবছেন। যে পথে নিশ্চিত হবে সামাজিক দূরত্ব এবং জীবাণু ও রোগ ছড়ানোর বিষয়টিও কমে আসবে। যেমন লার্নিং হাব স্কুলের কথা বলা যায়। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা ছোট ছোট দলে জড়ো হয় এবং স্কুলের দেয়ালের আর তেমন কোনো গুরুত্ব থাকে না। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে ভবিষ্যতের জাদুঘরগুলো দেখতে কেমন হবে? যেখানে অনেক  জাদুঘর  নতুন করে খোলার ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব এবং নতুন সুরক্ষা নীতি জারি করা হচ্ছে। নতুন জাদুঘরগুলো সম্ভবত এ মুহূর্তটাকে দেখবে এবং নতুন রূপে গঠিত হবে। নিশ্চিতভাবেই কোনো কোনোটা বর্তমান কভিড-১৯ প্রটোকল মেনে চলবে, যেমন সময় নির্ধারিত টিকিট এবং দর্শনার্থী গণনার মতো বিধিনিষেধ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আর কী কী থাকবে। ১০ কিংবা ২০ বছর পর মানুষের কাছে জাদুঘরের অভিজ্ঞতা কেমন হবে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সুরক্ষা ডিজাইন বদলানোর কথা ভাবা হচ্ছে এখনই।

জাদুঘর স্থপতিরা সবকিছুর ডিজাইন করছেন, বিজ্ঞান জাদুঘর, শিশু জাদুঘর থেকে শুরু করে কলা ও ইতিহাসের প্রতিষ্ঠানগুলোও। যেখানে তাদের কভিড-১৯-এর পরিস্থিতি ও নিরাপদে এগিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। মাইকেল গোভান, যিনি লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিয়াম অব আর্টের ডিরেক্টর, কীভাবে মানুষ আর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে তা বের করার কাজ করছে। তিনি বলেছেন, বেশকিছু বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে প্রদর্শনীকে সবার জন্য প্রবেশযোগ্য করা যায়। সব মিলিয়ে করোনাকালে হয়তো জাদুঘরে যাওয়া একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নয়।

এদিকে বেশির ভাগ বিশ্বব্যাপী জাদুঘর এরই মধ্যে অনলাইনে টিকিট নেয়ার ব্যবস্থা করেছে। যা কিনা কভিড-১৯-পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতের জাদুঘরগুলোতে হয়তো গিফট শপগুলো  নিয়ে নতুন পরিকল্পনা থাকবে। যেখানে হয়তো  জীবাণু এড়াতে ফোনেই পণ্য অর্ডার করতে পারবে। এছাড়া সাধারণ প্রদর্শনীগুলোর  জন্য বড় ও খোলা ঘর থাকে। যেখানে ছুটির দিনগুলোতে ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্বের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এখন ছয় ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য আয়োজকদের তাদের নকশা পুনরায় করা দরকার। এক্ষেত্রে গোলকধাঁধার নকশা অনুসরণ করা যেতে পারে। যেখানে দর্শনার্থীকে এক জায়গা দিয়ে যেন দুবার অতিক্রম করতে  না হয় এবং অন্য জায়গা দিয়ে যেন বের হয়ে যেতে পারে।

স্মিথসোনিয়ান থেকে সংক্ষেপে অনূদিত