ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজের বাজেট শুনে প্রায় চেতনাশূন্য হয়ে পড়েছিলেন নাসার পরিচালক জিম ব্রাইডেনস্টাইন। ট্রাম্প সরকার ১ অক্টোবর শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে নাসার বার্ষিক খরচের পরিমাণ ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। অর্থের হিসাবে যার পরিমাণ ২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত উচ্চমাত্রার বাজেট ১৯৬০-৭০ সালের অ্যাপোলো প্রোগ্রামের পর আর কখনো দেখা যায়নি। এ অর্থের বেশির ভাগ খরচ করার কথা ছিল ২০২৪ সালে চন্দ্রাভিযানের প্রজেক্টটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য।
অথচ এর মাত্র চার সপ্তাহ পর গত ৯ মার্চ এক কর্মকর্তা নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার মোফেট ফিল্ডে নাসা অ্যামেস রিচার্স সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০ মার্চের মধ্যে আরো দুটি এজেন্সি করোনা আতঙ্কে বন্ধ করে দেয়া হয়। নাসার চাঁদে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় রকেট প্রোগ্রাম স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের (এসএলএস) কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি বড় ধরনের ধাক্কা ছিল।
অবশ্য ঘটনা এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মার্চের শেষ দিকে গিয়ে জীবন ও জটিল অবকাঠামো রক্ষার স্বার্থে ১০টি এজেন্সির বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। যে কয়েকটি খোলা ছিল, তা কেবল জটিল মিশনগুলোর কাজ পরিচালনা করা স্বার্থে। পাশাপাশি এগুলো দূরে বসে পরিচালনা করাও সম্ভব ছিল না।
এ বিষয়ে নাসার সহযোগী পরিচালক স্টিভ জুরকেইজ কর্মকর্তাদের বলেন, আমরা সত্যি অনেক বেশি রক্ষাকবচ তৈরির চেষ্টা করছি। এ সিদ্ধান্তগুলো কেবল বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে করা হচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেটাও বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। পরিচালক ব্রাইডেনস্টাইনও বলেন, তারা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে এসএলএস প্রস্তুতি নিচ্ছিল স্টেনিস স্পেস সেন্টারে এ গ্রীষ্মে পরীক্ষা চালানোর জন্য। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাহত হয় সে কার্যক্রমও। অবশ্য এসব কেবল উদাহরণ মাত্র। সামনের দিনগুলোয় ক্ষতির পরিমাণ আরো বড় হতে যাচ্ছে।
নাসার পরিচালক জিম ব্রাইডেনস্টাইন কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাবে।’
এসএলএস এ গ্রীষ্মে স্টেনিস স্পেস সেন্টারে একটি রকেট উেক্ষপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু এ প্রক্রিয়াও নভেল করোনাভাইরাসের আক্রমণে স্থগিত হয়ে গেছে। এ বছর নভেম্বরে আর্টেমিস ওয়ান মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদের চারপাশে ট্রায়াল রানে ক্রুবিহীন ওরিয়ন ক্যাপসুল পাঠানোর সময়সূচি আর রক্ষা করতে পারবে না নাসা। স্টেনিস ও মিকোড অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি কবে পুনরায় চালু হবে তার ওপর নির্ভর করবে ওরিয়ন ক্যাপসুল পাঠানোর নতুন সময়সূচি। জিম ব্রাইডেনস্টাইন হতাশার সুরে বলেছেন, ‘আমরা জানি না কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। আমার মনে হয় কেউই জানে না।’
নাসার সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক পাওয়া প্রকল্পটি হচ্ছে মঙ্গলগ্রহে একটি রোভার পাঠানো। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে রোভারটি উেক্ষপণের কথা ছিল। এ সময়সীমা রক্ষা করতে না পারলে অভিযান পিছিয়ে যাবে ২৬ মাস, যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহ এক রেখায় না আসে।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান
বণিক বার্তা ডেস্ক হ
ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজের বাজেট শুনে প্রায় চেতনাশূন্য হয়ে পড়েছিলেন নাসার পরিচালক জিম ব্রাইডেনস্টাইন। ট্রাম্প সরকার ১ অক্টোবর শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে নাসার বার্ষিক খরচের পরিমাণ ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল। অর্থের হিসাবে যার পরিমাণ ২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এত উচ্চমাত্রার বাজেট ১৯৬০-৭০ সালের অ্যাপোলো প্রোগ্রামের পর আর কখনো দেখা যায়নি। এ অর্থের বেশির ভাগ খরচ করার কথা ছিল ২০২৪ সালে চন্দ্রাভিযানের প্রজেক্টটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য।
অথচ এর মাত্র চার সপ্তাহ পর গত ৯ মার্চ এক কর্মকর্তা নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার মোফেট ফিল্ডে নাসা অ্যামেস রিচার্স সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০ মার্চের মধ্যে আরো দুটি এজেন্সি করোনা আতঙ্কে বন্ধ করে দেয়া হয়। নাসার চাঁদে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় রকেট প্রোগ্রাম স্পেস লঞ্চ সিস্টেমের (এসএলএস) কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী হওয়ায় বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি বড় ধরনের ধাক্কা ছিল।
অবশ্য ঘটনা এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মার্চের শেষ দিকে গিয়ে জীবন ও জটিল অবকাঠামো রক্ষার স্বার্থে ১০টি এজেন্সির বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। যে কয়েকটি খোলা ছিল, তা কেবল জটিল মিশনগুলোর কাজ পরিচালনা করা স্বার্থে। পাশাপাশি এগুলো দূরে বসে পরিচালনা করাও সম্ভব ছিল না।
এ বিষয়ে নাসার সহযোগী পরিচালক স্টিভ জুরকেইজ কর্মকর্তাদের বলেন, আমরা সত্যি অনেক বেশি রক্ষাকবচ তৈরির চেষ্টা করছি। এ সিদ্ধান্তগুলো কেবল বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রেখে করা হচ্ছে না। বরং পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেটাও বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। পরিচালক ব্রাইডেনস্টাইনও বলেন, তারা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এদিকে এসএলএস প্রস্তুতি নিচ্ছিল স্টেনিস স্পেস সেন্টারে এ গ্রীষ্মে পরীক্ষা চালানোর জন্য। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাহত হয় সে কার্যক্রমও। অবশ্য এসব কেবল উদাহরণ মাত্র। সামনের দিনগুলোয় ক্ষতির পরিমাণ আরো বড় হতে যাচ্ছে।
নাসার পরিচালক জিম ব্রাইডেনস্টাইন কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাবে।’
এসএলএস এ গ্রীষ্মে স্টেনিস স্পেস সেন্টারে একটি রকেট উেক্ষপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু এ প্রক্রিয়াও নভেল করোনাভাইরাসের আক্রমণে স্থগিত হয়ে গেছে। এ বছর নভেম্বরে আর্টেমিস ওয়ান মিশনের অংশ হিসেবে চাঁদের চারপাশে ট্রায়াল রানে ক্রুবিহীন ওরিয়ন ক্যাপসুল পাঠানোর সময়সূচি আর রক্ষা করতে পারবে না নাসা। স্টেনিস ও মিকোড অ্যাসেম্বলি ফ্যাসিলিটি কবে পুনরায় চালু হবে তার ওপর নির্ভর করবে ওরিয়ন ক্যাপসুল পাঠানোর নতুন সময়সূচি। জিম ব্রাইডেনস্টাইন হতাশার সুরে বলেছেন, ‘আমরা জানি না কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। আমার মনে হয় কেউই জানে না।’
নাসার সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক পাওয়া প্রকল্পটি হচ্ছে মঙ্গলগ্রহে একটি রোভার পাঠানো। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে রোভারটি উেক্ষপণের কথা ছিল। এ সময়সীমা রক্ষা করতে না পারলে অভিযান পিছিয়ে যাবে ২৬ মাস, যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহ এক রেখায় না আসে।
সায়েন্টিফিক আমেরিকান





