নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কভিড-১৯ সব শ্রেণীর মানুষের জন্য এখন একটি উদ্বেগের বিষয়। তবে আগে থেকেই শারীরিক জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি বাড়তি উদ্বেগের কারণ। খবর হেলথ ডটকম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, আগে থেকে যেসব রোগীর অ্যাজমা বা শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা সংক্রমণজনিত এ ভাইরাসটিতে অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও (সিডিসি) বলছে, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিরা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে এটি শ্বাসতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আর যেহেতু কভিড-১৯-এর ফলে নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হয়, সে কারণেই আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ক্যালিফোর্নিয়ার ওরেঞ্জ কাউন্টিতে অবস্থিত সেন্ট জোসেফ হসপিটালের চিকিৎসক জ্যাক স্টুয়ার্ট বলেন, শ্বাস-প্রশ্বাস সমস্যা মূলত অন্য রোগের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। শ্বাসতন্ত্র সংক্রমিত হলে এ সমস্যা আরো বেড়ে যায়। এর অর্থ হলো এমন ধরনের কোনো ব্যক্তি যদি কভিড-১৯ আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে একসঙ্গে দুটি জটিলতা মোকাবেলা করতে হয়।
তবে এ ধরনের রোগীরা যে কভিড-১৯-এ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং অন্য ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, এটি প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখন পর্যন্ত নেই। কারণ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, এমন ১৪০ জন ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে শ্বাস-প্রশ্বাস সমস্যা জটিল কোনো প্রভাবক নয়।
তবে স্টুয়ার্ট বলেন, শ্বাস-প্রশ্বাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে বলে ধারণা করা হয়। কারণ স্টেরয়েডের কারণে তাদের প্রতিরোধক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়ে। তার ওপর তাদের অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে ইনহেলড স্টেরয়েড অথবা ওরাল স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হয়।
এখন প্রশ্ন হলো যদি অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তিরা নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকিতে থেকেও থাকে, তাহলে কীভাবে সেটি উপশম করা যায়। স্টুয়ার্ট মনে করেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের অধিক নজরদারিতে রাখা দরকার। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে হাত ধোয়া, জীবাণুনাশক পরিবেশে থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা উচিত।
অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাড়তি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে সিডিসি। যেখানে বলা হয়েছে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই যেসব গাইডলাইন এবং পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা উল্লেখ করা আছে সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়া পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কখনো যদি দীর্ঘদিন বাড়িতে অবস্থান করতে হয়, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ, যেমন অ্যাজমা ইনহেলার এবং ব্যবস্থাপত্রের বাইরে অন্তত ৩০ দিনের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ রাখতে হবে।
অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা নেটওয়ার্কের চিকিৎসক পুরভি পারকি বলেন, মনে রাখতে হবে এটা অ্যালার্জি মৌসুম। সুতরাং এ সময় আপনার অ্যাজমা বেড়ে যেতে পারে। যে কারণে যথাসম্ভব আপনার এটি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বাসায় যেসব জিনিস বেশি ধরতে হয়, যেখানে চলাফেরা করতে হয়, সেগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া অ্যাজমা তৈরি হতে পারে এমন কোনো কিছু ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকতে হবে।
হেলথ ম্যাগাজিন





