নভেল করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। তবে সংক্রামক এ ব্যাধির ব্যাপ্তি যতই বেড়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গুজব ও ভুয়া সংবাদও। যে কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহ্যানম বলেছেন, তাদের কেবল রোগের মহামারীর সঙ্গেই নয়, লড়াই করতে হচ্ছে ‘ইনফোডেমিক’
বা ভুয়া খবরের মহামারীর সঙ্গেও।
কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করার পর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছড়িয়ে পড়েছে গুজবে ভরপুর নানা খবর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুল ব্যবহারের কারণে এক অঞ্চলের ভুল তথ্য অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগছে না। ব্রুনো কেসলার নামে এক গবেষক বলেছেন, মার্চে প্রতিদিন ৪৬ হাজার নতুন পোস্ট টুইট করা হয়েছে, যা কিনা কোনো না কোনোভাবে এ রোগ সম্পর্কে অসত্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছে। পরিস্থিতি যতই অবনতি হয়েছে, মানুষও এসব তথ্যকে আঁকড়ে ধরে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে ভুল খবর থেকে বিশ্বাসযোগ্য খবরকে আলাদা করবে? বিশেষজ্ঞরা অবশ্য কিছু উপায়ের কথা বলেছেন, যেভাবে বিশ্বাসযোগ্য খবরটির সন্ধান পাওয়া যাবে।
কেন কভিড-১৯ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে?
যদি আপনি কোনো খবর শোনেন বা শিরোনাম দেখে নিশ্চিত হতে পারেন না যে এটা সত্য কি মিথ্যা, তবে জেনে রাখুন কেবল আপনি একাই নন, আরো অনেকে এমন আছেন। মহামারী সম্পর্কে অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতিত্ব আমাদের প্রভাবিত করে কোনো একটি খবরে আমরা কীভাবে সাড়া দেব সে সম্পর্কে। রাজনৈতিক মিথ্যাচার নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্বেগ ও ক্রোধের মতো আবেগী ব্যাপারগুলো কীভাবে মানুষ ভুল খবরে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে, যা তার উসকে দেয়ার ক্ষমতার দ্বারা ভাইরালও হয়ে যায়।
আরো একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়ে অতি সরলভাবে যেকোনো কিছু বিশ্বাস করে ফেলি। ২০১৬ সালে পিউর করা আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ২৩ শতাংশ আমেরিকান কোনো না কোনো একটি কারণে মিথ্যা সংবাদ শেয়ার করে থাকেন। যখন কভিড-১৯ নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিপূর্ণ লেখাগুলো সামনে আসতে থাকে, তখন কেবল ৩০ শতাংশ লোক বুঝতে পারে যে এগুলো ভুয়া ছিল। রেয়াহানেহ মাকটোফি নামে এক গবেষক বলেন, আমরা যখন কোনো কিছু দেখি, প্রথমেই চাই খবরটাকে বিশ্বাস করতে। তবে ভুয়া খবরের সঙ্গে লড়াইটা খুব একটা কঠিন না। প্রথমে যেটা করতে হবে তা হলো, একটু থামতে হবে। তারপর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে।
কীভাবে জানবেন খবরের উৎস বিশ্বাসযোগ্য কিনা?
যদি আপনার অপরিচিত কোনো সূত্র থেকে খবরটি পান, তবে প্রথমে আপনি গুগল ব্যবহার করে তার সত্যতা যাচাই করতে পারেন। নিশ্চিত হতে হবে খবরটি বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান করেছে কিনা। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব সংগঠন যেমন—সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরনের কোনো তথ্য প্রচার করেছে কিনা, তা দেখে নেয়া। কারণ সংবাদমাধ্যমগুলো তথ্যভিত্তিক খবরের পাশাপাশি অনেক সময় পক্ষপাতিত্বমূলক এবং অর্ধসত্য খবরও প্রকাশ করে থাকে।
সংবাদের সূত্র বিশ্বাসযোগ্য হলে তার লেখক সম্পর্কেও একটু যাচাই করে নিন। যিনি লিখেছেন তিনি কি নভেল করোনাভাইরাস বা মহামারী বিশেষজ্ঞ কিনা, নাকি কেবলই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের একজন বিজ্ঞানী। আর লেখক সাংবাদিক হলে তার কাজ করার ক্ষেত্র (বিট) সম্পর্কেও নিশ্চিত হয়ে নিন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কেবল একটি সূত্রে বিশ্বাস করবেন না। একাধিক সূত্র থেকে খবরটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। এটি খবর সম্পর্কে আমার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেবে
কীভাবে যাচাই করবেন সংবাদের সূত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা?
মাকটোফির পরামর্শ হচ্ছে, খবরটি ভালো করে দেখুন এবং খেয়াল করুন এটি দ্বারা কারা লাভবান হচ্ছে? এর দ্বারা কি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ বা কোম্পনি লাভবান হচ্ছে? এছাড়া নিশ্চিত না হলে আপনি সাংবাদিকতার বিশেষায়িত উৎস যেমন ‘স্ট্যাট নিউজ’
(যারা মূলত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত খবরগুলোতে গুরুত্বারোপ করে) থেকে এবং সিডিসি-এফডিএর প্রকাশিত খবরের সঙ্গে তুলনা করে দেখে নিতে পারেন।
স্মিথসোনিয়ান ম্যাগ





