স্পেনে লকডাউন চলছে মধ্য মার্চ থেকে। সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশটিতে ক্রেতাদের অভ্যাসগত কিছু পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন সুপারমার্কেটে যাচ্ছেন আগের চেয়ে কম। রেস্তোরাঁগুলোয় গ্রাহকদের আনাগোনা প্রায় নেই বললেই চলে। চাহিদা সংকটের কারণে দেশটির কৃষকরা এখন পথে বসার উপক্রম।
করোনার প্রাদুর্ভাবে স্পেনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উয়েলভার স্ট্রবেরি চাষীরা। অন্যান্য বছরের এ সময়টায় ইউরোপে স্ট্রবেরির মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ সরবরাহ করেন তারা। কিন্তু করোনার কারণে এবার স্ট্রবেরির চাহিদা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তার ওপর অস্থায়ী শ্রমিকের অভাবে পাকা স্ট্রবেরি ঘরে তুলতে পারছেন না তারা।
করোনার বিস্তার ঠেকাতে মরক্কোর সঙ্গে স্পেনের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর এ সময় মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী শ্রমিক স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে আসেন পাকা স্ট্রবেরি সংগ্রহের কাজ করতে। কিন্তু এবার তাদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশই স্পেনে প্রবেশ করতে পেরেছেন। ফলে শ্রমিকের অভাবে অনেক স্ট্রবেরি চাষী তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না।
সার্জিও গোমেজ তাদেরই একজন। তার ৭০ শতাংশ স্ট্রবেরি যায় ফ্রান্স, পোল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকে। তিনি বলেন, ‘ফসল সংগ্রহ করতে না পারায় গত পাঁচদিন আমাদের কোনো আয় হয়নি। আমরা সব স্ট্রবেরি চাষীই খুব ভয়ে রয়েছি।’
তিনি জানান, বর্তমানে চাহিদার গ্রাফ অনেকটা রোলার কোস্টারের মতো। কোনোদিন চাহিদা এত বেশি থাকে যে তাকে বাড়তি সময় কাজ করতে হয়। আবার কোনোদিন চাহিদা এত কমে যায় যে হাত গুটিয়ে বসে থাকা লাগে।
উয়েলভার কৃষক সমিতির মহাসচিব ম্যানুয়েল পিয়েদ্রা জানান, ‘ক্রেতাদের অভ্যাসে আমূল পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন প্রতি ১০ দিনে একদিন বাজারে যাচ্ছেন। এতে পচনশীল পণ্যের বিক্রি কমে গেছে।’
এএফপি





