নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত দেশগুলোর অন্যতম স্পেন। ইউরোপে ইতালির পর করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে স্পেন। মৃত্যুর দিক থেকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় অবস্থানে আছে দেশটি। তবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আরো নানাদিক থেকে ক্ষতির মুখে পড়ছে স্পেন। এরই মধ্যে করোনা মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পর থেকে দেশটিতে প্রায় ৯ লাখ লোক বেকার হয়ে পড়েছে। যা বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়ার ইঙ্গিতও বটে।

মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে বেকারত্বের পরিমাণ সর্বোচ্চ মাত্রা স্পর্শ করেছে। যা ইউরোজোনের একসময়ের সর্বোচ্চ বেকারত্বেরও সমান।

এর আগে মার্চের মাঝামাঝিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্র বাদ দিয়ে সবকিছু বন্ধ করে দেয় সরকার। বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্যও এ সময় বন্ধ করে দেয় তারা। মূলত দেশটি লকডাউনে যাওয়ার পর থেকে হিসাব অনুযায়ী ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৮২২ জন লোক বেকার হয়ে গেছে। যাদের মধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার অস্থায়ী কর্মীও রয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে স্পেনের বেকারত্বের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে এখন ৩.৫ মিলিয়নে (প্রায় ৩৫ লাখে)। ২০১৭ সালের পর যা সর্বোচ্চ।

স্পেনের শ্রমমন্ত্রী ইউলান্ডা ডিয়াজ বলেন, বাস্তবিক অর্থেই এটা অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতি।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে যেসব খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মাঝে পর্যটন ও নির্মাণ শিল্প অন্যতম।

অবশ্য স্পেন কেবল একটি উদাহরণ মাত্র। করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন বলছে, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী ২৫ মিলিয়ন লোক চাকরি হারাতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হারও সর্বোচ্চ মাত্রা স্পর্শ করেছে। গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী রেকর্ড ৬.৬ মিলিয়ন লোক বেকারত্ব সুবিধা নেয়ার জন্য আবেদন করেছে।

ডববিসি