শিরোনামের প্রশ্নটি পড়ে আপনি অবাক হতে পারেন, তবে উত্তরটি হলো ‘হ্যাঁ’। আপনি একই সঙ্গে কভিড-১৯ ও ফ্লু ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিৎসকরা করোনাভাইরাস ও ফ্লু ‘টুইন-ডেমিক’ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাটিকে ছাপিয়ে যেতে পারে। আমেরিকানদের আরো একটি আশঙ্কার সঙ্গে লড়াই করতে হবে, যেটা আসলে একই সঙ্গে দুই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যাড্রিয়ান বুরোজ বলেছেন, আপনি অবশ্যই একই সময়ে ফ্লু ও কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হতে পারেন। এটা আপনার প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিপর্যয়কর অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রকৃতপক্ষে এভাবে একজনের সংক্রমিত হওয়া অন্যদের আরো ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে জানান মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. সীমা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, একবার আপনি ফ্লু এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেটা আপনার শরীরকে খুব দুর্বল করে দেবে। প্রথম সংক্রমণে আপনার প্রতিরক্ষা এমনিতেই হ্রাস পাবে এবং এটার ওপর দ্বিতীয় সংক্রমণ আপনাকে দুর্বল করে দেবে।

কভিড-১৯ ও ফ্লু উভয় ভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করতে পারে এবং এটা নিউমোনিয়া, ফুসফুসে তরণ বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা সৃষ্টি করে। প্রতিটি অসুস্থতার কারণে সেপসিস, কার্ডিয়াকের আঘাত, হূিপণ্ড, মস্তিষ্ক বা পেশি টিস্যুগুলোর প্রদাহ হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. মাইকেল ম্যাথে বলেছেন, একই সঙ্গে উভয় অসুস্থতা এ অঙ্গগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। তবে একক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তুলনায় দুই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ঠিক কতটা খারাপ হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লু মৌসুম শেষ হওয়ার পর কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে উভয় ভাইরাসে সংক্রমিত হলে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি। দুই ভাইরাস ফুসফুসের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকারক এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যর্থতা সৃষ্টি করতে পারে।

আর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যর্থতার মানে এই নয় যে আপনার ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বরং এর অর্থ হলো ফুসফুস পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। তীব্র শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা একটি প্রাণঘাতী জরুরি অবস্থা হতে পারে। এটার কারণে আপনার ফুসফুস ও অন্য অঙ্গগুলোর ক্ষতি হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি। আর আরেকটি সমস্যা হলো দুটি রোগের লক্ষণগুলো বেশ একই রকম, তাই দুটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন।

সিডিসি জানিয়েছে, উভয় রোগই জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, অবসন্নতা, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। কিছু লোকের বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। যদিও এটা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। আলাদা লক্ষণ বলতে কভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে স্বাদ ও ঘ্রাণের ক্ষতি হতে পারে। দুই ভাইরাসের লক্ষণ যেমন একই, তেমনি প্রতিরোধের ধরনও একই। উভয় ভাইরাস থেকে বাঁচতেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহারের মতো নির্দেশনাগুলো পালনে জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

সিএনএন