কোন প্রভাবকগুলো করোনাভাইরাস সংক্রমিত তরুণদের বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে ফেলে দেয়, সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীরাও সন্দিহান। তবে এ বিষয়ে গবেষণার পর কিছু তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন তারা। কিছু গবেষক মনে করছেন, কোনো একজনের শরীরে কী পরিমাণ ভাইরাস বাসা বেঁধেছে (বিজ্ঞানীরা যাকে বলছেন ভাইরাল লোড), তার
ওপর মৃত্যুঝুঁকির বিষয়টি নির্ভর করে। ভাইরাল লোড যত বেশি, তার মৃত্যুর ঝুঁকিও তত বেশি।
অন্যদিকে কিছু গবেষক মনে করছেন, এক্ষেত্রে জিনগত কোনো প্রভাবক কাজ করতে পারে। একজন তরুণ নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে পারবেন কিনা, তা তার জিনগত সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ তত্ত্ব অনুযায়ী, কিছু তরুণের জিনগত গঠন বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদের অন্তর্নিহিত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমিত ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে পেরে ওঠে না। এতে তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্কিনারের অবস্থান দ্বিতীয় তত্ত্বের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘খুব সম্ভবত আমাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির এমন ধরনের জিনগত গঠন বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার কারণে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত হলে আমাদের শরীর তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।’
এদিকে ভাইরাল লোডের তত্ত্বকে সমর্থন করেছেন সাসেক্স ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন সিনক্লেয়ার। তিনি বলেন, ‘ভাইরাল লোড বেশি হওয়ার অর্থ হলো, আক্রান্তের শরীরে ভাইরাসের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন উপসর্গের ক্ষেত্রে ভাইরাল লোডের প্রভাব কতখানি, সে ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। ভাইরাল লোড বেশি হলে তা প্রাণহানির কারণ হতে পারে কিনা, তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
দ্য গার্ডিয়ান





