নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যয়ের মুখে আছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা নতুন সব রেকর্ড নিয়ে আমাদের সামনে আসছে। তবে করোনা যেন কম বয়সীদের চেয়ে বৃদ্ধদের ওপরই একটু বেশি আক্রমণাত্মক। মৃত্যুর দিক থেকে বয়স্কদের হারও বেশ উল্লেখযোগ্য। বয়স্ক লোকরা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাদের মৃত্যু ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে কেউ কেউ আছেন, যারা বয়স বেশি হওয়ার পরও মৃত্যুকে জয় করে করোনার ছোবল থেকে ফিরে এসেছেন। তেমনই একজন হলেন কিথ ওয়াটসন। যিনি কিনা ১০১ বছর বয়সে করোনা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন। কেবল সেরেই ওঠেননি তিনি, সুস্থ হয়ে নিজের ঘরেও ফিরে গেছেন এরই মধ্যে।
ইংল্যান্ডের ওরচেস্টাশায়ারের অধিবাসী কিথকে শুরুতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পাওয়ায়। তখন তার সার্জারির প্রয়োজন ছিল। পরে তার শরীরে জ্বর থাকায় করোনা টেস্টও করে দেখা হয়। যেখানে জানা যায়, তিনি কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়েছেন। এরপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিথ।
তার পুত্র জো ওয়াটসন বলেন, আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম অন্য একটি অপারেশনের জন্য। কিন্তু যখন আমরা জানতে পারলাম, তিনি করোনা আক্রান্ত, সেটা খুবই ভয়াবহ ছিল। আমরা খুব খারাপটাই ধরে নিয়েছিলাম।
তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ওয়াটসন আশ্চর্যজনকভাবে উন্নতি দেখান, যা তার পরিবারসহ অনেকের কাছেই বিস্ময়ের জন্ম দেয়। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে পুত্রবধূ আরো বলেন, এখন তার কেবল পায়ে ব্যথা আছে। এছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই।
অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সব মিলিয়ে দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়েছেন কিথ। তার সুস্থতা নিয়ে ওরচেস্টাশায়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকেও ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিটি তিন হাজার বারের বেশি শেয়ার করা হয়।
অবশ্য বয়স্কদের মাঝে সেরে উঠার হার কম হলেও এটিই একমাত্র ঘটনা নয়। এর আগেও এ রকম একাধিক ঘটনার খবর সামনে এসেছিল। অন্যদিকে তরুণদের শুরুতে যতটা নিরাপদ ভাবা হচ্ছিল, পরবর্তীতে সে ধারণাও পুরোপুরি অটুট থাকেনি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে করোনা যেকোনো বয়সী রোগীকে ভোগাতে পারে। এমনকি তরুণদের সতর্ক বার্তা দেয়া হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে। তবে তরুণ, বৃদ্ধ সবার জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন করোনাকে হারিয়ে জীবন বাঁচিয়ে ফেরা কিথ।
বিবিসি





