মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন গ্রহণ করা নিয়ে মানুষের মাঝে দ্বিধা বেড়েই চলেছে, এটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন কভিড-১৯-এর একটি ভ্যাকসিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এ গবেষণায় ভ্যাকসিনগুলোর গ্রহণযোগ্যতার স্তর এবং ২০১৫ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে ১৪৯টি দেশে ভ্যাকসিন নিয়ে ভাবনায় কী পরিবর্তন এসেছে, তা খুঁজে দেখা হয়েছে।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টওয়ার্পের গবেষকদের দ্বারা সংগঠিত এ গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, আমারা হিসাব করে দেখেছি যে আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইনস ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভ্যাকসিনের গুরুত্ব, সুরক্ষা ও কার্যকারিতার বিষয়ে আস্থার পতন ঘটেছে।
গবেষকরা বলেন, আমরা ছয়টি দেশে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরদাতাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছি, যারা শক্তভাবে দ্বিমত পোষণ করেছে যে ভ্যাকসিন নিরাপদ। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও সার্বিয়া। আমরা দেখেছি ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কিছু ইইউ সদস্যভুক্ত দেশে এ আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, যার মধ্যে ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও ইতালি রয়েছে।
ভ্যাকসিনকে ধরা হয় সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্যবিধি। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অনেক দেশে এখন এসে ভ্যাকসিন গ্রহণ করা নিয়ে দ্বিধা বেড়ে চলেছে।
বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ভ্যাকসিন গ্রহণ নিয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন তার মাঝে টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচও আছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি ভ্যাকসিনেশনের বিরোধী এবং আমি চাই না ভ্রমণ করার জন্য কেউ আমাকে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য জোর করুক।
এদিকে এ গবেষণার ভিত্তি হচ্ছে ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক ২ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ। যাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ভ্যাকসিনের গুরুত্ব, সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে। ফ্রান্স, ভারত, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, রুমানিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে ২০১৫ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে আস্থা বেড়েছে।
গবেষণাকর্মটির নেতৃত্বদানকারী প্রফেসর হেইডি লারসন বলেন, কভিড-১৯-এর মতো মহামারীর উত্থানের সঙ্গে এটিও অত্যন্ত জরুরি যে আমরা দ্রুত দেশ ও গোষ্ঠীগুলোর মাঝে যেন ভ্যাকসিন নিয়ে আত্মবিশ্বাস হ্রাসের বিষয়টি শনাক্ত করি। ফলে আমরা বুঝতে পারব নতুন জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিনের ব্যাপারে কোথায় আস্থা তৈরি করতে হবে।
লারসন বলেন, ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রামের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে বৈশ্বিকভাবে দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা ভুল তথ্য। যখন বড় আকারে ভ্যাকসিনেশনের কার্যক্রম চলতে থাকে, এটা প্রায়ই হয় যে অপ্রমাণিত ভ্যাকসিনের সুরক্ষা নিয়ে ভয়-সন্দেহের জন্ম দেয় এবং অনাস্থা তৈরি করে। কখনো কখনো সত্যিকার অর্থে ছোটখাটো ঝুঁকি থাকে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আরো বড় ঝুঁকি হিসেবে সামনে আসে।
তিনি আরো বলেন, কোথাও কোথাও এমন কেসও আছে যে ভ্যাকসিন বিতর্ককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মেরুকরণ করা হয়। যেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সন্দেহবাতিক জনগণ এবং সিস্টেমের দুর্বলতাকে ব্যবহার করা হয়। আবার কোনো ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থা ক্ষয় সরকার ও বৈজ্ঞানিকদের ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থার কারণেও তৈরি হয়।
দেখা গেছে, ভ্যাকসিন নিয়ে সবচেয়ে কম আস্থা আছে জাপানে। যা কিনা যুক্ত থাকতে পারে ২০১৩ সালে হিউম্যান পাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) ভ্যাকসিনের সুরক্ষা নিয়ে সৃষ্টি হওয়ার ভয়ের সঙ্গে।
দ্য প্রিন্ট





