চীনের বেশির ভাগ জায়গায় ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাইরে যেতে পারবেন উহানের মানুষজন, যে শহরটিতে গত বছরের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত এবং এরপর শহর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। যদিও কর্মকর্তারা বেশ সতর্ক, তাই নাগরিকদের খুব বেশি বাইরে যেতে অনিরুসাহিত করছেন। তাদের এই ভয়ও আছে—উদাসীনতার সুযোগে নভেল করোনাভাইরাস না আবার ফিরে আসে।

চীন যখন নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব পেছনে ফেলে নতুন দিনের প্রহর গুনছে, তখন নতুন প্রশ্নও উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে দেশটিতে আক্রান্ত ও মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে, যা চীনের সরকার জানিয়েছে। আবার ভয়ানক এ প্রাদুর্ভাব চীন পুরোপুরি সত্যিই কাটিয়ে উঠতে পেরেছে কি? উঠছে এমন প্রশ্নও।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং অবশ্য এমন প্রশ্ন নিয়ে দ্বিমত পোষণ করলেন এবং এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানালেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে চীন ‘উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী তথ্য দিয়ে এসেছে বিশ্বকে।’ এ নারী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানব স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রশ্নে আমরা অভ্যাসগতভাবে মিথ্যাবাদী রাজনীতিকদের চেয়ে বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মহামারী ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের কথাই শুনেছি। দেখুন, এই তো গতকালই (বুধবার) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে ‘চীন অস্বচ্ছ তথ্য’ দিয়েছে, এমন অন্যায্য অভিযোগকে খণ্ডন করেছেন।’

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে বলেন, নিজেদের দেশ যখন চরম সংকটে রয়েছে, তখন তারা দোষ অন্যের কাঁধে চাপাতে মরিয়া। হুয়ার কথায়, ‘জনসাধারণের স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনীতি করা অনৈতিক ও অমানবিক। আমি আশা করব, তারা আর কোনো সময় নষ্ট না করে যেন প্রাদুর্ভাবের দিকে মনোযোগী এবং আমেরিকান মানুষকে বাঁচাতে উদ্যোগী হয়।’

অবশ্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, চীনের বাণিজ্যিক সংবাদপত্র কাইজিনও কিছুদিন আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করে, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুবরণকারীদের যে তালিকা উহান কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছে, মোট শবাধারের সংখ্যা তার চেয়ে কয়েক হাজার বেশি। তবে এটাও ঠিক, ২৫ জানুয়ারি থেকে ১১ মিলিয়ন মানুষের শহর উহানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ ছিল, কাজেই নভেল করোনাভাইরাস ছাড়া অন্য রোগে মারা যাওয়া মানুষও শবাধারের মধ্যে থাকতে পারেন।

আবার মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে এমনও রয়েছেন, যারা নভেল করোনাভাইরাসের পরীক্ষাও করাতে পারেননি।’

ডসএনএন