সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা, যেমন লকডাউন ইউরোপের অনেক দেশে নভেল করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া হ্রাস করছে। মহাদেশটির ১১টি দেশে লকডাউনের কারণে মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ২১ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের একটি গবেষণা গ্রুপ। তাদের তৈরি মডেল বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছে।

গত ৩০ মার্চ ইম্পেরিয়াল কলেজের কভিড-১৯ রেসপন্স টিম তাদের গবেষণার ফল প্রকাশ করে। তারা করোনা নিয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যতীত অন্য পদক্ষেপগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে স্কুল বন্ধ করে দেয়া, যেকোনো জমায়েত নিষিদ্ধ করা। এসব পদক্ষেপ ইউরোপের বিভিন্ন অংশে যেমন ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাজ্যে কী ধরনের ফল দিয়েছে তাই ছিল গবেষণার বিষয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভাইরাসের কার্যকরী প্রজনন ১-এর বেশি হয়ে মহামারী ছড়াতেই থাকবে। কিন্তু এই মান ১-এর চেয়ে কম হলে নতুন সংক্রমণ হ্রাস পেতে থাকবে এবং একসময় মহামারী নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালিসহ কয়েকটি দেশে তিন সপ্তাহ আগে থেকে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ কারণে এসব দেশে ভাইরাসের কার্যকরী প্রজনন খুব সম্ভবত ১-এর নিচে নেমে এসেছে। এর আগে গবেষকদের আরেকটি দল দেখিয়েছিল যে চীন কঠোরভাবে লকডাউন করায় তাদের দেশে নভেল করোনাভাইরাসের কার্যকরী প্রজননের মান ১-এর নিচে চলে এসেছিল।

বর্তমান গবেষণায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নয়, বরং মৃত্যুকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। কারণে অনেক দেশই করোনা আক্রান্তের পরীক্ষা খুব বেশি করতে পারছে না। যে কারণে অনেক আক্রান্ত গণনার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। গবেষকরা বলছেন, তাদের গবেষণা পুরোপুরি সঠিক হচ্ছে কিনা সেটা বুঝতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে তারা বলছেন, সবকিছু এভাবে চললে এ সংকট কেটে যাওয়া নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়।

নেচার ম্যাগাজিন