নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগে গোটা বিশ্ব এখন টালমাটাল। গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে উত্পত্তি হওয়া এ ভাইরাসকে কীভাবে থামানো যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। টিকা তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করতে জনসন অ্যান্ড জনসন ও মডার্না কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করল যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ কাজে যৌথ বিনিয়োগ হবে ১০০ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস’ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কভিড-১৯-এর টিকা তৈরির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও উৎপাদন পর্যন্ত জনসন অ্যান্ড জনসন ও মডার্নাকে সহযোগিতা দেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বায়োকেমিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বারডা) পরিচালক রিক ব্রাইট বলেন, ‘কভিড-১৯-এর মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়া রোগের জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকা তৈরিতে দ্রুততর ও সমান্তরাল পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। শিল্পজগতের সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা এ দেশ ও বিদেশের মানুষকে রক্ষার অঙ্গীকার করছি।’

গত ৩০ মার্চ জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি জানায়, টিকার ১০০ কোটি ডোজ তৈরির সক্ষমতা সৃষ্টির জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের যৌথ বিনিয়োগ করছে, যেখানে ৪২ কোটি ডলার দেবে বারডা। নক-ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও ‘এডি২৬ সার্স-কভ-২’ (ফেজ-১)-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এ তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে। ইবোলা টিকা তৈরির সময় জনসন অ্যান্ড জনসনের সহায়ক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি জ্যানসেন যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল, এখন ‘এডি২৬ সার্স-কভ-২’-এর ক্ষেত্রেও তা ব্যবহূত হবে। সায়েন্স সাময়িকীর মতে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে কঙ্গো রিপাবলিকে ওই টিকা সরবরাহ করা হয়েছিল। ‘এডি২৬ সার্স-কভ-২’-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে। হয়তো ২০২১ সালের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এ টিকার সেবা পেতে শুরু করবে।

কভিড-১৯ টিকা তৈরিতে ফেজ-২ ও ৩-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য মডার্নাকে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, ফেজ-১ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘সার্স-কভ-২ এমআরএনএ-১২৭৩’-এর কাজ শুরু হয়ে যাবে। ফেজ-১-এর কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে, যেখানে সহযোগী হিসেবে আছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস।

রয়টার্সকে ব্রাইট জানান, পাঁচ-ছয়টি আগ্রহী কোম্পানিকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা বারডার। যদিও শেষ পর্যন্ত দু-তিনটা সফল হতে পারে। তিনি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের ও বাকি বিশ্বের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা তৈরি ও বাজারজাতে কাজ করে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

দ্য সায়েন্টিস্ট