আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে চার জেলার বাইরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছরের কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ প্রস্তাব করেছেন। একই সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন উপকরণ, মেডিকেল ডিভাইস ও অ্যান্টি-ক্যান্সার ওষুধ প্রস্তুতে শুল্ক অব্যাহতির সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুলভ ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকার প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এরই মধ্যে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি সাধারণ হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের এসব ভূমিকা শহরকেন্দ্রিক। ফলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এ খাতে কর প্রণোদনার প্রস্তাব করছি।

এসব জেলার বাইরে অন্যান্য জেলায় শিশু ও নবজাতক, নারী ও মাতৃস্বাস্থ্য, অনকোলজি, ওয়েল বিং ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন ইউনিট থাকা সাপেক্ষে ন্যূনতম ২৫০ শয্যার সাধারণ ও ন্যূনতম ২০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপিত হলে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়।

এছাড়া নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে করোনা টেস্টিং কিট, বিশেষ ধরনের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ওপর প্রযোজ্য সব শুল্ক-কর এরই মধ্যে মওকুফ করা হয়েছে। ভাইরাস শনাক্তে আরটি-পিসিআর কিট প্রস্তুতকরণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ মওকুফের সুবিধা চলতি বছরের ৩০ জুন থেকে আগামী বছরের ৩০ জন পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়। হূদযন্ত্রে ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষ ধরনের যন্ত্র আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রস্তাব করা হয়।

ওষুধ শিল্পের সুরক্ষায় স্থানীয়ভাবে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) উৎপাদনে বেশকিছু কাঁচামালে শুল্ক মুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতকে সুসংহতকরণে চিকিৎসাসামগ্রী উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা সম্প্রসারণ করা বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাবও করা হয়।