টাকার অংকে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে প্রতি বছরের বাজেটেই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়ে আসছে প্রকল্পটি। ব্যতিক্রম হবে না আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরেও। আগামী অর্থবছরের জন্য ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পে ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে ১০ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা করা হয়।

ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রূপপুরের পর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প। এ প্রকল্পে আগামী অর্থবছর ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রকল্পটির অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬)’ প্রকল্পে। চলতি বছর প্রকল্পটিতে বরাদ্দ রয়েছে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। গতকালের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের এ লাইনের উত্তরা-আগারগাঁও অংশে যাত্রী পরিবহন শুরু করার কার্যক্রম চলমান আছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছর সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রকল্পটিতে চলতি অর্থবছর ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও করোনা মহামারীর কারণে নির্মাণকাজ বিঘ্নিত হয়। এজন্য বাজেট সংশোধন করে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। আগামী বছরের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে গতকাল বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

অন্যদিকে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে ৫ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকেই পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে সার্বিক কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন আরেক ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্প দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে আগামী অর্থবছর ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। চলতি অর্থবছর প্রকল্পটিতে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৯৯০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে নৌপথ মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে ২৭০ কোটি টাকা।

ফার্স্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাইরে মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা, ঢাকায় মেট্রোরেল লাইন ৫-এর নর্দান রুট নির্মাণে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা, বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু নির্মাণে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।