চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেড পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। বুধবার তারা এ দুই অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন তারা।

চট্টগ্রাম ইপিজেড পরিদর্শনকালে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আব্দুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (নিরাপত্তা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোহসীন হাসান এবং চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম তাদের বেপজার কার্যক্রম, বিনিয়োগ, রফতানি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা, শ্রমিক কল্যাণ ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

বাংলাদেশে ইপিজেড প্রতিষ্ঠার সূচনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, শিল্পায়নের প্রসার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা বেপজার কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করছে। বেপজা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, রফতানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিক কল্যাণ এবং শান্তিপূর্ণ শিল্প পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ সময় তিনি ইপিজেডের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালনায় বিনিয়োগকারীদের সম্মুখীন হওয়া কিছু কাস্টমস-সংক্রান্ত বিষয় ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। বিশেষ করে বন্ডেড শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ এবং নির্দিষ্ট ধরনের সুতার ওপর আমদানি শুল্কের প্রভাব সম্পর্কে তিনি প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। এসব বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তিনি শিল্পকারখানার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা এবং প্রস্তাবিত ইপিজেড কাস্টমস বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্তকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কর্ণফুলী ইপিজেড পরিদর্শনকালে নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক উল্লেখ করেন, এ বছরই কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে পরিত্যক্ত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসকে কর্ণফুলী ইপিজেডে রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি যে সুদূরপ্রসারী ছিল, গত দুই দশকে কর্ণফুলী ইপিজেডের অগ্রগতি তারই প্রমাণ বহন করে।

প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম ইপিজেডে অবস্থিত মেসার্স প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড ও মেসার্স তালিসমান পারফরমেন্স লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ইপিজেডে অবস্থিত কেনপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেলস ও পার্ক বাংলাদেশ শিল্পকারখানা পরিদর্শন করেন। তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম, আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, রফতানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রম এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন। দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিকল্পিত শিল্পায়নে বেপজার গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও প্রশংসা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ নুরজাহান খানম এবং পরিচালক-১ ফাহমিদ ফারহান এবং চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেডের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।