বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের স্মৃতিচারণা নিয়ে ‘ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ’ বইটি লিখতে আর্চার কে ব্লাডকে বেশ কয়েকজন মানুষ উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাদেরই একজন শাহুদুল হক। তিনি ছিলেন ব্লাডের প্রতিবেশী এবং তার ছেলেমেয়েদের খেলার সাথী। সময়ান্তরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্লাডের সম্প্রসারিত পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। ব্লাডের সঙ্গে তার পরিচয় কীভাবে, মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থা, মানুষ হিসেবে ব্লাডের গুণাবলি, পরিবার নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এম এম মুসা
আর্চার কে
ব্লাডের সঙ্গে
আপনার পরিচয়
কবে, কীভাবে হয়েছিল?
১৯৬০
সালে
তিনি
পূর্ব
পাকিস্তানের
আমেরিকান
কনসুলেটের
দ্বিতীয়
সর্বোচ্চ
পদাধারী
হিসেবে
ঢাকায়
আসেন।
কনসুলেট
অফিস
ছিল
মতিঝিলের
আদমজী
কোর্টে।
বাসভবন
ছিল
বেইলি
রোডে।
আমার
বাবা
মেজর
রফিকুল
হকের
বদলির
চাকরি।
তিনি
ছিলেন
পাকিস্তানি
আর্মির
কর্মকর্তা।
পরে
বাংলাদেশ
পুলিশের
কর্মকর্তা
হিসেবেও
কাজ
করেছেন।
তিনি
বাইরে
বাইরে
থাকতেন
বলে
পড়াশোনার
জন্য
আমাদের
বেইলি
রোডে
নিয়ে
আসা
হয়।
এটি
ছিল
তখনকার
অভিজাত
এলাকা।
কূটনীতিকরা
এখানে
থাকতেন।
ভিকারুননিসা
নূন
স্কুলের
উল্টোদিকে
জাতীয়
মহিলা
সংস্থার
পরের
বাসাটিই
ছিল
আমাদের।
ওই
বাসায়
আমরা
বড়
হয়েছি।
সেখানে
বাসাবাড়ি
কম
ছিল।
কয়েকটা
বাসার
পরই
ছিল
ব্লাডের
বাসভবন।
আমাদের
ছিল
গলির
শেষ
বাসাটা।
মাঝখানে
কয়েকটির
পর
গলির
মাথার
দিকে
ছিল
তাদের
বাসা।
তার
দুই
মেয়ে
ও
দুই
ছেলে।
আমার
বয়সী।
আমরা
পাশেই
পুকুরে
মাছ
ধরি।
সাইকেল
চালাই।
খেলাধুলা
করতাম।
ছেলেমেয়েদের
সুবাদে
একদিন
তার
সঙ্গে
পরিচয়
হয়ে
যায়।
তাদের
সঙ্গে
আমাদের
বন্ধুত্ব
ছিল
সৌহার্দ্যপূর্ণ।
আমরা
তাদের
বাসায়
যেতাম।
তাদের
ছেলেমেয়েরাও
আমাদের
বাসায়
এসে
থাকত।
এভাবে
দুই
পরিবারের
মধ্যে
হূদ্যতা
তৈরি
হয়।
১৯৬২
সালে
তিনি
বদলি
হয়ে
সপরিবারে
আমেরিকায়
ফিরে
যান।
চলে
যাওয়ার
পরও
তাদের
সঙ্গে
যোগাযোগ
ছিল।
নিজেদের
মধ্যে
চিঠি
লেখালেখি
চলত।
তিনি আবার
ঢাকায় কবে
এলেন?
১৯৭০
সালে
তিনি
আবার
ঢাকায়
এলেন
জেনারেল
কনসাল
হিসেবে,
কনসুলেটের
সর্বোচ্চ
কর্মকর্তা
হিসেবে।
ধানমন্ডির
৮
নং
রোডের
মাঠের
কোনায়
তার
বাসা
ছিল।
তখন
সেখানে
এফএওর
অফিস
ছিল।
আমি
জানতাম
না
যে
তিনি
এসেছেন।
কাগজে
খবর
বেরিয়েছিল।
এবার
তিনি
নিজে,
স্ত্রী
ও
ছোট
ছেলেসহ
আসলেন।
বড়
ছেলেমেয়েরা
আসেনি।
তার
ছেলেমেয়েরা
সেখানে
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়ে।
আমিও
বুয়েটে
পড়ি।
ছোট
ছেলেটা
এসেছিল।
তখন
আবার
যোগাযোগ
শুরু
হলো।
ছোট
ছেলের
সঙ্গে
দেখা
হলো।
ছুটিতে
অন্য
ছেলেমেয়েরাও
এল।
সময়টা
ঠিক
১৯৭০
সালের
নভেম্বর।
তখন
সত্তরের
ভয়াল
ঘূর্ণিঝড়
হয়।
অনেক
মানুষ
মারা
যায়।
ঘরবাড়ি
বিধ্বস্ত
হয়।
তিনি
আর
তার
স্ত্রী
পুনর্বাসন,
ত্রাণ
কার্যক্রমে
খুব
সক্রিয়
ভূমিকা
রেখেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে
ত্রাণসহায়তা
আনার
ব্যবস্থা
করলেন।
নিজেরাও
ত্রাণসহায়তা
পৌঁছে
দিতে
দুর্গত
এলাকায়
গেলেন।
যুদ্ধের সময়
তার সঙ্গে
আপনার যোগাযোগ ছিল?
একাত্তরের
২৫
মার্চ।
সেদিন
ছিল
তাদের
বাসায়
দাওয়াত।
আরো
বিদেশীরাও
ছিলেন।
ক্র্যাকডাউন
শুরু
হলো।
চারদিকে
গোলাগুলির
আওয়াজ।
একটা
নৈরাজ্যকর
পরিস্থিতি।
যুদ্ধ
শুরুর
মাসখানেকের
মধ্যে
তিনি
পরিবারকে
পাঠিয়ে
দিয়েছিলেন।
তিনি
রয়ে
গেলেন।
আমি
সন্ধ্যাবেলায়
এক-দুদিন
তার
বাসায়
যেতাম।
তিনি
টাইমসহ
নানা
ইংরেজি
ম্যাগাজিন
দিতেন
পড়তে।
আমার
কথা
শুনতেন।
আমার
পরিবারের
লোকজন
কে
কোথায়
আছে
তার
খোঁজখবর
নিতেন।
অনেককেই
চিনতেন।
আমার
খালু
ছিলেন
অধ্যাপক
শামসুল
হক।
তিনি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের
অ্যাপ্লাইড
ফিজিকসের
শিক্ষক
ছিলেন।
পরে
ভাইস
চ্যান্সেলর
হয়েছিলেন।
পরবর্তী
সময়ে
তিনি
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়
ছেড়ে
দিয়ে
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে
ফিজিকস
ডিপার্টমেন্ট
শুরু
করলেন।
যেহেতু
সীমান্তের
কাছে
তার
কথা
ছিল
সেহেতু
তিনি
স্ত্রী
ও
দুই
ছেলেমেয়েকে
নিয়ে
চলে
গিয়েছিলেন
সেখানে।
ব্লাড
তার
খবরও
নিয়েছিলেন।
সারা
জাকেরের
ভাই
নিখোঁজ
হয়েছিলেন।
পরে
জানা
গেল
যে
তাকে
পাঞ্জাবিরা
মেরে
ফেলেছে।
ব্লাড
তারও
খোঁজখবর
নিতেন,
তোমার
কাজিন
যে
চলে
গেলেন
সে
কোথায়।
তিনি
এসব
খবরাখবর
শুনে
খুব
হতাশ
হতেন।
নিজ
দেশের
সরকারের
ওপর
খুব্ধ
ছিলেন।
তিনি
বিভিন্ন
তারবার্তা
পাঠাচ্ছেন।
ইতিবাচক
সাড়া
পাচ্ছেন
না।
একসময়
তিনি
বিখ্যাত
তারবার্তাটি
পাঠালেন,
যেটিকে
বলা
হয়
‘ব্লাড
টেলিগ্রাম’।
তথ্যগুলো কি
আপনাদের কাছ
থেকেই নিত?
না,
না।
তিনি
তার
সহকর্মীদের
কাছ
থেকেই
তথ্যগুলো
নিতেন।
নিজেও
স্বচক্ষে
ঘটনাপ্রবাহ
দেখেছেন।
তার
বাসায়
মানুষের
আর্তনাদ
শুনেছেন।
জানছেন,
হিন্দুদের
গুলি
করে
মারা
হচ্ছে।
অনেকেই
পালিয়ে
যাচ্ছেন।
আমাদের
মাধ্যমে,
তার
সহকর্মীদের
মাধ্যমসহ
নানা
সূত্রে
তিনি
খবর
পেতেন।
তার
ড্রাইভার,
চাপরাশি,
তার
যে
আরো
বন্ধুবান্ধব
ছিল
তাদের
মাধ্যমে
খবর
আসত।
তাত্ক্ষণিকভাবে
সব
হালনাগাদ
খবরাখবর
পেতেন।
এসব
তথ্যের
ভিত্তিতে
তিনি
নোট
অব
ডিসেন্টের
টেলিগ্রামটি
পাঠিয়েছিলেন।
তার
বইতে
একটা
ঘটনা
আছে
যে
তিনি
আদমজী
কোর্টে
কনসুলেট
থেকে
বেরোচ্ছেন।
পাকিস্তানি
আর্মিরা
তাকে
ঘিরে
বলেছিল,
আমাদের
সঙ্গে
যেতে
হবে।
এসব
ঘটনা
তখন
আমি
জানতাম
না।
যুদ্ধের
অনেক
পরে
জেনেছি।
পরে কীভাবে জেনেছিলেন?
১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ব্লাডসহ আরো অনেক বিদেশীকে স্মারক পুরস্কার দিয়েছিলেন। তখন ব্লাড বাংলাদেশে এসেছিলেন। এসেই আমার খবর নিলেন। আমি তখন ব্যবসা করি। বলে আসেননি। জানতামও না এসেছেন। পরে জানার পর বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলাম। এসেছিলেন। তার সঙ্গে হাবিবুল আলম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, শাহাদাত চৌধুরী, ফতেহ আলীসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাও এসেছিলেন। আর্চার কে ব্লাড তাদের সঙ্গে গল্প করার সময় বলছিলেন যে এ তারবার্তা লেখার জন্য তার অসুবিধা হয়েছিল, আদমজী কোর্ট থেকে বেরোনোর পর পাকিস্তানিরা তাকে ধরে নিয়েছিল এবং কতক্ষণ পর ছেড়ে দিয়েছিল। এসব ঘটনা শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একটা তারবার্তায় তিনি লিখেছেন, এ দেশ স্বাধীন হবে। যুদ্ধের মাত্র কয়েকদিন হয়েছে। আমরা দেশের মানুষ নিজেরা জানি না কী হবে শেষ পর্যন্ত। বুঝতে পারছি, দীর্ঘ একটা লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। তিনি সেটি আগেই বুঝেছিলেন।
কীভাবে তিনি
বইটি লিখতে
উদ্বুদ্ধ হলেন?
১৯৯৬
সালে
ঢাকায়
আসার
পর
তিনি
যখন
আমাদের
বাসায়
দাওয়াতে
এসেছিলেন,
তখন
আমি
তাকে
উদ্বুদ্ধ
করেছিলাম।
তুমি
একটা
বই
লেখো।
তখন
তার
সত্তরের
ঊর্ধ্বে
বয়স।
ওই
বয়সে
তিনি
বইটি
লিখতে
উদ্বুদ্ধ
হয়েছিলেন।
পাণ্ডুলিপি
লিখে
লিখে
আমাকে
পাঠাতেন।
বলতেন,
দেখো
তো
তথ্যগুলো
ঠিক
আছে
কিনা।
তিনি
আমার
পরিবার
সম্পর্কে
লিখেছেন।
খালাতো
ভাই,
মামাতো
ভাই,
খালু
সবার
সম্পর্কে
লিখেছেন।
নাম,
তারিখ
সবই
ঠিক
আছে।
একাত্তরের
কালরাতে
আমি
সন্ধ্যার
সময়
গিয়ে
তাকে
গল্পগুলো
বলতাম।
কোনো
নোটস
নিতে
তাকে
দেখেনি।
কোনো
কম্পিউটার
ছিল
না।
২৫
বছর
পর
তিনি
সেসব
বিষয়
নিখুঁতভাবে
লিখেছিলেন,
সেটা
নিয়ে
আমি
বিস্মিত।
২৫
বছর
পর
তার
একটা
বানান,
নাম
কিংবা
পরিসংখ্যান-তথ্য
আমাকে
ঠিক
করে
দিতে
হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ না করে
বইটি তিনি
বাংলাদেশে কেন
প্রকাশ করলেন?
সময়টা
১৯৯৮।
তখন
আমরা
আমেরিকায়
গিয়েছিলাম।
তিনি
কলারোডোয়
থাকতেন।
আমরা
তার
সঙ্গে
দেখা
করতে
গিয়েছিলাম।
তখন
তিনি
দেখিয়েছিলেন,
বই
প্রস্তুত।
কেউ
প্রকাশ
করতে
রাজি
হচ্ছে
না।
সবাই
বলে,
তোমার
বাংলাদেশে
২৭-২৮
বছর
আগে
যুদ্ধ
হয়েছিল।
এখন
এগুলোর
কী
দাম।
কাজেই
কেউ
ছাপতে
রাজি
হচ্ছে
না।
তিনি
খুব
দুঃখ
পেয়েছিলেন।
তিনি
বললেন,
আমি
আমার
দেশকে
আগে
সুযোগ
দিতে
চাই।
পরে
দেখা
গেল
কেউ
ছাপছে
না।
আবুল
মাল
আবদুল
মুহিতের
সঙ্গে
তার
ভালো
বন্ধুত্ব
ছিল।
তিনি,
আমি
ও
মতি
ভাই
আমরা
তিনজন
মিলে
বললাম
যে
পাণ্ডুলিপি
ঢাকায়
পাঠিয়ে
দিন।
আমরা
এখান
থেকে
প্রকাশ
করব।
কথামতো
ঢাকায়
পাঠিয়ে
দিলেন।
২০০২
সালে
বই
প্রকাশ
হলো।
ইউপিএল
বইটি
প্রকাশ
করে।
মহিউদ্দীন
আহমেদ
ভাই
এ
বিষয়ে
অগ্রণী
ভূমিকা
রেখেছেন।
বইয়ের
মোড়ক
উন্মোচন
হলো
মুক্তিযুদ্ধ
জাদুঘরে।
ড.
কামাল
হোসেন,
রেহমান
সোবহানসহ
আমরা
অনেকেই
উপস্থিত
ছিলাম।
তিনি
বলেছিলেন,
এ
বই
বিক্রি
হয়ে
যা
রয়্যালটি
পাবেন
তা
যেন
আমেরিকায়
পাঠানো
না
হয়।
বলেছিলেন
কোনো
এতিমখানায়
দান
করতে।
এখনো
তা-ই
করা
হচ্ছে।
যা
রয়্যালটি
আসে,
ইউপিএল
আমাকে
দেয়,
আমি
কোনো
এতিমখানায়
দিয়ে
দিই।
তিনি তো
আরো কিছু
দেশে কাজ
করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশকে এত
ভালোবাসলেন কেন?
জানি
না।
আরো
তো
অনেক
বিদেশী
কূটনীতিক
ছিলেন।
বহু
দেশে
তিনি
গিয়েছেন।
কিন্তু
কেন
যে
বাংলাদেশকে
এত
ভালোবেসেছেন
তা
নিয়ে
আমি
বিস্মিত।
এটা
হতে
পারে
যে
আমরা
অনেক
বেশি
ঘনিষ্ঠ
হয়েছিলাম।
পূর্ব
পাকিস্তানে
আরো
কিছু
বন্ধুবান্ধব
ছিল।
মনে
হয়
সে
কারণে
বাংলাদেশের
প্রতি
তার
একটা
টান
ছিল।
যেখানেই
গিয়েছেন
সবসময়
তিনি
বা
তার
ছেলেমেয়েরা
আমার
সঙ্গে
যোগাযোগ
রেখেছেন।
একটা
পর্যায়ে
যোগাযোগে
কিছুটা
গ্যাপ
হয়েছিল।
স্বাধীনতার
পর
তার
শেষ
পোস্টিং
ছিল
ভারতে
কনসুলেটের
সর্বোচ্চ
কর্মকর্তা
হিসেবে।
ওই
সময়
আমি
জানতাম
না
তিনি
ভারতে
আছেন।
এত
কাছে
সহজেই
আসা-যাওয়া
করা
যেত।
একদমই
জানতাম
না।
এ
সময়টা
বাদে
তিনি
সবসময়ই
আমাদের
সঙ্গে
যোগাযোগ
রেখেছেন।
তিনি
সব
সময়ই
বলতেন,
তোমরা
আমার
সম্প্রসারিত
পরিবার।
তোমরা
আমার
ছেলেমেয়েদের
কাজিন।
আমি
তাকে
খালু
ডাকতাম।
তার
স্ত্রীকে
খালা
বলতাম।
মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন?
মানুষ
হিসেবে
অনেক
বেশি
মানবিক
ও
সহমর্মী
ছিলেন।
পুরো
পরিবারই
তারা
খুবই
ভিন্ন
প্রকৃতির।
মনে
হয়
যেন
এক
রয়্যাল
ফ্যামিলি।
অতি
ভদ্র,
নম্র।
আচার-ব্যবহার
বেশ
মার্জিত,
পরিশীলিত।
তিনি যে
তারবার্তা পাঠিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে তার অনুভূতি কেমন ছিল?
তিনি কি
কিছু বলেছিলেন?
না,
তিনি
এ
সম্পর্কে
কিছু
বলেননি।
আমি
জানতাম
না,
এ
রকম
তারবার্তা
পাঠিয়েছিলেন।
পেশাদার
কূটনীতিক
হিসেবে
তিনি
সবসময়ই
গোপনীয়তা
বজায়
রাখতেন।
আমরা
ঘুণাক্ষরে
কিছু
টের
পাইনি।
কখন তাকে
প্রত্যাহার করা
হয়? আপনারা কিছু বুঝতে
পেরেছিলেন?
কয়েক
মাসের
মধ্যেই
তাকে
প্রত্যাহার
করা
হয়।
হঠাৎ
করে
চলে
যান।
এটা
বুঝতে
পেরেছি,
কিছু
একটা
গণ্ডগোল
হয়েছে।
নইলে
এত
তাড়াতাড়ি
যাবেন
কেন।
ডেকে
পাঠিয়েছে
কিংবা
রাগ
করেছে,
কিছু
একটা
হবে।
এসব
নিয়ে
কিছু
বলেননি।
বইয়ে
সব
পেয়েছি।
তার
আগে
কিছু
বলেননি।
নিশ্চয়ই
জানেন,
ওই
তারবার্তা
লেখার
জন্য
তাকে
শাস্তি
দেয়া
হয়েছিল।
একদিকে
তার
সহকর্মীরা
সেটি
লেখার
জন্য
তাকে
পুরষ্কার
দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে
নিক্সন
তাকে
শাস্তি
দিয়েছেন।
ইউএস
আর্মি
ওয়ার
কলেজের
লেকচারার
হিসেবে
তাকে
পাঠিয়ে
দেয়া
হয়েছিল।
কোনো
পোস্টিং
দেয়নি।
বহুদিন
পর
অবশেষে
ভারতের
দিল্লিতে
চার্জ
দ্য
অ্যাফেয়ার্স
হিসেবে
পোস্টিং
দেয়া
হয়েছিল।
তার
ক্যারিয়ার
সম্পর্কে
তিনি
ও
তার
স্ত্রী
কখনো
আফসোস
করেননি।
তার
স্ত্রী
কখনো
আফসোস
করেন
না।
তিনি
এখনো
বেঁচে
আছেন।
বয়স
এখন
৯৭
বছর।
ঢাকায় কোন
জায়গাটা পছন্দ
করতেন? কী
ধরনের খাবার
পছন্দ করতেন?
তিনি
আমাদের
রমনা
ভীষণ
পছন্দ
করতেন।
প্রচুর
গাছপালা
ছিল।
শান্ত,
চুপচাপ।
ভাত,
সবজি,
ডাল
খেতে
পছন্দ
করতেন।
আপনার সঙ্গে
কোনো মজার
স্মৃতি আছে?
আমি
একবার
আমেরিকায়
গিয়েছিলাম।
তখন
ওয়াশিংটনে
বোনের
বাসায়।
তিনি
জানতে
পেরেছিলেন।
আমাদের
দাওয়াত
দিয়েছিলেন।
তিনি
থাকতেন
ফোর্ডকলিংসে।
সেটা
রকি
মাউন্টেনের
খুব
কাছে।
মাত্র
১
ঘণ্টার
পথ।
কিন্তু
যেখানে
প্লেন
নামে,
সেখান
থেকে
তার
বাসা
দেড়
ঘণ্টার
দূরত্ব।
তিনি
ভালো
দেখতেন
না,
শুনতেন
না।
মাইক্রোবাস
ভাড়া
করে
স্বামী-স্ত্রী
দুজনই
এয়ারপোর্টে
আমাদের
রিসিভ
করতে
আসেন,
যদিও
ছেলেমেয়েরা
ছিল।
ওখানে
নিয়ম
হলো,
শাটল
সার্ভিস
আছে।
এয়ারপোর্ট
থেকে
নেমে
আমরা
চলে
আসতে
পারতাম।
তার
পরও
তিনি
এসেছিলেন।
ওই
সময়
আমরা
সবাই
সমবেত
হয়েছিলাম।
তার
সব
ছেলেমেয়ে
এসেছিল।
মেয়েদের
স্বামীরা
এসেছিল।
নাতি-নাতনি
এসেছিল।
বিরাট
টেবিলে
সবাই
খেতে
বসেছিলাম।
পরদিন
আমাদের
পাহাড়
দেখাতে
নিয়ে
গিয়েছিলেন।
তার
আগে
এত
উঁচু
পাহাড়
আমি
কখনো
দেখিনি।
শীতকাল
ছিল।
জানুয়ারি।
এসব
স্মৃতি
খুব
মনে
পড়ে।
শ্রুতলিখন: হুমায়ুন কবির





