আমি যদি এককথায় বলি, তাহলে একটা সেক্টরের এ রকম উন্নয়ন অসাধারণ ও চমকপ্রদ। অন্য সেক্টরগুলোকেও এটি টেনে নিয়ে গেছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এটা গার্মেন্টস সেক্টরের অসাধারণ পারফরম্যান্স।

তা তো আছেই, প্রথম কথা হলো, আপনি জানেন যে গার্মেন্টস ট্রেডটা শুরু হয়েছিল কোটা দিয়ে। একটা সময় এটা কোটাভিত্তিক ছিল। তখন এ কোটার বরাদ্দ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে এটার প্রমোশন, উন্নয়নের জন্য মূলত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কাজ করেছে। এছাড়া এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও পরবর্তী সময়ে যারা ব্যাকওয়ার্ড সাপোর্ট দেয়, যেমন বিভিন্ন অ্যাকসেসরিজ ও ম্যানুফ্যাকচারাল অ্যাসোসিয়েশন যারা আছে, সবাই ইপিবির সঙ্গে কাজ করেছে।

প্রথম কথা হচ্ছে, এটা বাংলাদেশের এক্সপোর্ট এখনো মূলত গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর। একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মোট এক্সপোর্টের ৮০-৮৪ শতাংশ রেডিমেড গার্মেন্টস থেকে এসেছে। ডাইভারসিফিকেশনের অনেক উদ্যোগ আছে। কিছু জায়গায় সাফল্য আছে, কিন্তু এ সাফল্যের ক্ষেত্রে আবার তারতম্য আছে। আমরা যদি অন্যভাবে বলি, যদি অ্যাবসলিউট ফিগার ধরেন, আজ থেকে ১৫ বা ২০ বছর আগে এগ্রো প্রসেস প্রডাক্টের এক্সপোর্ট কত ছিল? সেটা হয়তোবা ২০০ মিলিয়ন ছিল, সেটা এখন ১ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এভাবে প্রত্যেকটা খাতই ২০ বা ৩০ বছর আগের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় তা বেড়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ হয়ে গেছে। সুতরাং এটা আমাদের অর্জন। তবে গার্মেন্টসের গ্রোথটা অন্যান্য নন-গার্মেন্টসের তুলনায় বেশি হওয়ার কারণে এরা একটু একটু করে পিছিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো সামনেও থাকে। আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগে যখন গার্মেন্টসের যাত্রা, তখন এক্সপোর্টের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ ছিল ইমপোর্ট কনটেন্ট। এখন নিটে হয়ে গেছে উল্টো, ৭০-৮০ শতাংশ থাকে লোকাল কনটেন্ট, বাকিগুলো আমদানি করতে হয়। ওভেনেও ৫০-৬০ শতাংশ ভ্যালু এডিশন দেয়া হয়। তাই আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে এটা বিরাট ভূমিকা রাখছে। আর সোশ্যাল কিছু ইস্যুও আছে, যেমন নারীদের অংশগ্রহণ, দেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটা গ্রুপ তৈরি হওয়া, কর্মসংস্থান তৈরি ইত্যাদি।

এখানে আমাদের অবশ্য এখনো কিছুটা ঘাটতি আছে। সাপোর্ট কিন্তু আগে যতখানি ছিল, সেগুলো আস্তে আস্তে কিছুটা ট্রিমিং, রাইট সাইজিং করা হচ্ছে। কিন্তু যেটা হয় পোশাক খাতের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের ইস্যু আছে। আপনি হয়তো জানেন, বিশ্ববাজারে কটন থেকে ম্যান-মেইড ফাইবারের চাহিদা বেশি। এই ম্যান-মেইড ফাইবারে যারা নতুন করে বাংলাদেশে এখন যুক্ত হবে, তাদের ক্ষেত্রে সরকারকে আবার কিছু পলিসি সাপোর্ট দিতেই হবে। একইভাবে যদি কোনো গার্মেন্টস উদ্যোক্তা নতুন বাজার খোঁজে, যেমন সে যদি আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে যেতে চায়, তাহলে তাদের কিছু সাপোর্ট দিতে হবে। সে ধরনের কিছু সাপোর্টের দরকার আছে। এছাড়া আপনি যে ডাইভার্সিফিকেশনের কথা বলেছেন তা হরাইজন্টাল ডাইভার্সিফিকেশন। ভার্টিক্যাল ডাইভার্সিফিকেশনও হয়। আপনি ৩ ডলারের একটা টি-শার্ট তৈরি করতে পারেন, আবার ২ হাজার ডলারের একটা স্যুট তৈরি করতে পারেন, দুটিই রেডিমেড গার্মেন্টস। দুটির টেকনোলজি, লেবার রিকোয়ারমেন্ট সবকিছুই আলাদা। এখন গার্মেন্টসে কিন্তু সেই ডাইভার্সিফিকেশনটাও হচ্ছে। স্যুট তৈরি করার ফ্যাক্টরি বাংলাদেশে আছে। অনেকে এখন ৫-৭০ ডলারের টি-শার্ট তৈরি করে। বড় বড় ব্র্যান্ড এখন বাংলাদেশ থেকে সোর্স করে। এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রেডিমেড গার্মেন্টসের। এই যে ভার্টিক্যাল ডাইভার্সিফিকেশনটাও হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মূল কথাই হচ্ছে কোয়ালিটি প্রডাক্ট অ্যান্ড কম্পিটিটিভ প্রাইস। অবশ্যই এটা বোর্ড অনুসারে, সেটা আরএমজি হোক বা এগ্রো প্রসেস হোক, এটা প্রযোজ্য। এটা মাথায় রাখতে হবে। কম্পিটিটিভ হতে হলে দুটি জিনিস আপনার মাথায় রাখতে হবে। এক. উৎপাদন বাড়ানো। সেটা আপনি বাড়াতে পারেন শ্রমিকদের দক্ষতা আরো উন্নত করে। একই সঙ্গে নতুন টেকনোলজি অন্তর্ভুক্ত করে। যে ফ্যাক্টরিটা আজ থেকে ২০ বছর আগে তৈরি, সেখানে এখন সে মেশিন দিয়ে কাপড় তৈরি করা সম্ভব না।