বাংলাদেশে নিট শিল্পের পেছনের গল্পটা বলুন।

পেছনার গল্পটা ঐতিহাসিক। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক নিট শিল্পের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরের। নারায়ণগঞ্জ থেকেই এর যাত্রা। বাংলাদেশের নিট এক্সপোর্ট শুরু এখান থেকেই। সেখানে আমাদের পরিবারেরও একটা অংশ ছিল। এনআর নিটিং, তারপর মিনার গ্রুপ, মনোয়ারা টেক্সটাইল, সান হোসিয়ারি, সান নিটিং—এ রকম তিন-চারটি প্রতিষ্ঠান মূলত বাংলাদেশ থেকে নিটার এক্সপোর্ট শুরু করে। এটা সম্ভবত ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকের ঘটনা। আধুনিক নিট শিল্পের রফতানি আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই শুরু। 

সে সময় ইউকে থেকে আমরা একটা অর্ডার পাই। একটা এলসি আসে অগ্রণী ব্যাংক, নারায়ণগঞ্জ কোর্ট রোড শাখায়। কোর্ট রোড শাখার ম্যানেজার একটা এলসি নিয়ে এসে জানালেন, আমরা একটা গেঞ্জির অর্ডার পেয়েছি। আমাদের পাঠানো স্যাম্পল দেখে অর্ডার চলে আসছে। তখন আমরা মাত্র চার-পাঁচটা মেশিন নিয়ে যাত্রা করি। ওই সময় সাদা গেঞ্জি ছিল, টি-শার্ট। টিউবলার বডি। 

সেই আশির দশকে এক্সপোর্ট কীভাবে করতে হয়, ডকুমেন্টস কী কিছুই জানি না। তখন অগ্রণী ব্যাংকের তখনকার এজিএম মোতালেব সাহেব আমাদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করলেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ডকুমেন্টস তৈরি করে ব্যাংকে দেয়া হলো। ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার রফিক আমাদের কোনটা ভুল হয়েছে, কোনটা সঠিক করতে হবে, এগুলো দেখিয়ে দিতেন। আবার বাসায় এসে কারেকশন করে ডকুমেন্টস জমা দিতাম। তখন তো সবকিছুই শতভাগ ইমপোর্ট করতে হতো। আমরা এনবিআরে গিয়ে বন্ড লাইসেন্স করলাম।  তারপর বিদেশ থেকে সুতা আমদানি করতে লাগলাম। আস্তে আস্তে অনেকেই নিট শিল্পে সম্পৃক্ত হতে থাকে। শুরুতে আমরা হোসিয়ারি সমিতির মেম্বার, পরবর্তী সময়ে বিজিএমইএর মেম্বার হলাম। 

নব্বাইয়ের দশকের শুরুতে নিট সম্প্রসারণ শুরু হয়। আমরা নিটের আলাদা অ্যাসোসিয়েশন করলাম। নাম হলো বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

একপর্যায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে জিএসপি বাতিল করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তখনকার শর্ত ছিল থ্রি স্টেজ পারফরম্যান্স আমাদের করতে হবে। তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড়, কাপড় থেকে গার্মেন্টস। কিন্তু ইপিবি বা সরকার এ আইন সম্পর্কে আমাদের জানায়নি। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন তদন্তে এল। ইপিবি থেকে আমাদের ডাকল। তারা সন্তুষ্ট হলো না। প্রথম দফায় ১৫ হাজার জিএসপি বাতিল করে দিল। এটা ১৯৯৭ সালের শেষের দিকের ঘটনা। এরপর আবার ২৫ হাজার জিএসপি বাতিল করে দিল। আমরা তখন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে গেলাম। দীর্ঘ আলোচনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থ্রি স্টেজ তুলে দিল। ওয়ান স্টেজ ব্যবস্থা চালু হলো।

আমাদের শুরুর এক্সপোর্ট ছিল ওভেন গার্মেন্টস, এরপর নিট শুরু হলো, কিন্তু নিটের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ তো হলো না... 

১৯৯৭ সালে সরকার ঘোষণা দিল যে রফতানি বাড়ার জন্য আমাদের ইনসেনটিভ দেবে, ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভ। এ ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভই আজকে নিটার সেক্টরকে বাংলাদেশের হাইয়েস্ট এক্সপোর্ট সেক্টরে পরিণত করেছে। এটা যদি সেদিন না দিত তাহলে এ স্পিনিং মিল এভাবে গড়ে উঠত না। 

আমাদের এই যাত্রা যখন শুরু হলো। এগুলো নিয়ে সেই সময়ের অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেব মিটিং ডাকলেন। এরই মধ্যে ইনসেনটিভ যখন দেয়া হলো তখন জামদানি ও লুঙ্গি ব্যবসায়ীরা করল অপকর্ম। তারা ১০০-১৫০ টাকার লুঙ্গি তখন এক্সপোর্টের কাগজপত্রে দেখাল ১০০-২০০ ডলার করে। জামদানি একইভাবে দেখাল ৫০০ ডলার করে। এভাবে তারা ইনসেনটিভ নেয়া শুরু করল। এটা রিপোর্ট হওয়ার পর কিবরিয়া সাহেব ডাকলেন যে এভাবে তো চলতে পারে না। আমরা বললাম যে আমদের তো আপনারা সম্পৃক্ত করেননি। অ্যাসোসিয়েশনকে আপনারা সম্পৃক্ত করেন যে অ্যাসোসিয়েশন সার্টিফাই করবে, যে ইনসেনটিভ নিচ্ছে এটা সঠিক কিনা। আদারওয়াইজ কেউ যদি নেয়, তাহলে এর দায়দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। তখন বলা হলো যে তাহলে অ্যাসোসিয়েশন একটা প্রত্যয়নপত্র দেবে। তখন ’৯৭ সালের ৪ বা ৫ এপ্রিল এপি সার্কুলেট-৫ জারি হল ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভের। এ বিষয়গুলো যখন চলতে থাকল তখন আমরা ২০০০ সালে বসলাম; বিকেএমই, বিজেএমইসহ প্রতিটি সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র দেয়ার বিধান চালু হলো। ২০০১-এর এপি সার্কুলার-৯-এর মধ্যে এগুলো এল। এরপর ২০০৩-এ গিয়ে এপি সার্কুলার-৭ নামের আরেকটা সার্কুলার হলো। সেখানে আরো কিছু জিনিস অ্যাড হলো। অর্থাৎ প্রত্যয়নপত্র কে দেবে, কীভাবে দেবে—এসব কিছু অ্যাড হলো। এর পর থেকে এভাবে ইনসেনটিভ পাওয়ার নিয়মটা এভাবে চলতে থাকল। এরপর ইনসেনটিভ নেয়ার ব্যাপারে একটা জটিল পদ্ধতি তৈরি হলো, তা হলো বস্ত্রমূল্যের ওপর ইনসেনটিভ, যেটা আসলে সঠিক হয়নি। ওই সময় কোনো কিছু নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন জটিলতাগুলো তৈরি করল। যেমন ওরা বলল, আপনি বস্ত্রমূল্য যে দেখালেন এত ডলার, এটা তো বেশি দেখিয়েছেন। এটার মিটিং চার্জ এত, ডায়িং চার্জ এত। এত বেশি দেখানো যাবে না। কিন্তু এটা সার্কুলারের কোথাও লেখা ছিল না। এটা লিখিত দিতে বললাম। কিন্তু তারা লিখিত দেয়নি। কারণ তাদের কাছে ক্ষমতা ছিল না। ক্ষমতা দেয়া আছে এপি সার্কুলার-৯-এর ৩ নাম্বার ক্লজে, পরিষ্কার বলে দিছে, নিজ নিজ অ্যাসোসিয়েশন এ মর্মে প্রত্যয়নপত্র দেবে, এ ইনসেনটিভ ক্লেইমের মধ্যে আমরা যে সুতার মূল্য, গার্মেন্টস মূল্য যা দেখিয়েছি তা সঠিক। এটা সার্টিফাই করবে নিজ নিজ অ্যাসোসিয়েশন। এটার দায়িত্ব অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। কারণ আমরা একটা কাপড় ধরলে বুঝতে পারব এটার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে। অন্য কেউ এটা পারবে না। সুতরাং এক্সপার্ট হিসেবে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আমি শুরু থেকে অনেক লেখালেখি করছি। আমাদের খ ফরমের (যেই ফরমে আমরা আবেদন করি) ঙ কলামে আছে, স্বীয় উৎপাদিত বস্ত্রমূল্য। এটা আমাদের প্রদর্শন করতে হয়। কিন্তু এ আইনের জটিলতা হলো ওখানের সার্কুলারে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজনের ন্যূনতম মাত্রার বিয়োগাত্মক অংক এবং প্রদর্শিত বস্ত্রমূল্য। এ দুটির ওপর যেটা কম দাঁড়াবে তার ওপর ২০ শতাংশ ইনসেনটিভ হয়েছে। মূল্য সংযোজনের ন্যূনতম মাত্রা আগে ছিল ২৫, এখন ২০। আগে ২৫-এর ক্ষেত্রে ২৫ বাদ দিলে হয় ৭৫। ৭৫-এর ওপর ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভ। পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম মাত্রা হয়ে গেল ২০। ৮০-এর ২৫ শতাংশ। এটা আস্তে আস্তে কমতে থাকল। আমার টোটাল বস্ত্রমূল্যটা, ১ লাখ ডলারের এলসির বিপরীতে যদি আমি ৮১ বা ৮২ হাজার বস্ত্রমূল্য দেখাই তাহলে আমাকে মূল্য সংযোজনের ন্যূনতম মাত্রার ঋণাত্মক অংকের ওপর ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভ আসবে। যদি আমি এর কম বস্ত্রমূল্য দেখাই তাহলে আমাকে ওটার ওপর ইনসেনটিভ দেবে। কিন্তু নরমালি যাবতীয় খরচ সুতা কেনা, মিটিং ডায়িং এগুলো নিয়ে আমাদের ৮০-এর ওপর বস্ত্রমূল্য পড়ে যেত। এসব নিয়ে অনেক জটিলতা তৈরি হয়। কারণ স্বীয় উৎপাদিত বস্ত্রমূল্য। এই স্বীয় সরাতে আমার চৌদ্দ বছর লেগেছে। 

এ যে আপনি বললেন সরকারের ওই যে নীতিগত সুবিধা ২৫ শতাংশ ইনসেনটিভ সেটার কারণেই আসলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজটা গড়ে উঠছে। 

সরকার শুরু থেকেই এ সেক্টরকে গ্রো করার জন্য যাবতীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারের সদিচ্ছাগুলোর পদে পদে অপমৃত্যু ঘটেছে। 

যখন নিটওয়্যার শিল্পটা শুরু হলো সেই সময়ে কী ধরনের প্রডাক্ট ছিল আর এখন কী ধরনের প্রডাক্ট তৈরি হচ্ছে?

আমরা শুরু করেছিলাম একদম বেসিক টি-শার্ট দিয়ে। পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের টি-শার্ট এল, লেডিস ওয়্যার এল, টেনটোভ এল, পলো শার্ট এল, জগিং স্যুটসহ নানা ধরনের জিনিস এল। ২০০৫ সাল পর্যন্ত কোটা ছিল আমেরিকান মার্কেটে। কোটার মাধ্যমে রফতানি হতো। কিন্তু ২০০৫-এর পর নিটওয়্যারের এক্সপোর্টটা দ্রুত আরো বাড়ল। যখন কোটামুক্ত হয়ে গেল। কিন্তু ওই সময় বিশ্বের বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী যারা জার্নালে লিখেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ বলছিল কোটামুক্ত দেশে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর আর বেঁচে থাকবে না। তখন আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম কোটামুক্ত দেশেই বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরের আরো অগ্রগতি ঘটবে এবং তাই ঘটেছে। ২০০৫ সালের পর থেকেই দ্রুত উত্থান হতে শুরু করে। 

কিন্তু সরকারের নীতিগত সুবিধায় নিটওয়্যারের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজটা নিতে পারল, কিন্তু ওভেন কেন পারল না?

নিতে পারল না এ কারণে আমরা প্রতি বছরে যেই টাকা ইনকাম করছি, যেমন ধরুন আমরা দুই বছরে ১ কোটি টাকা লাভ করেছি বা জমিয়েছি। আবার ব্যাংকে গিয়ে বললাম, ব্যাংক তুমি আমাকে ৯ কোটি টাকা দাও। তাহলে আমি ১০ কোটি টাকা দিয়ে এ প্রজেক্ট এক্সপানশন করছি বা আমি প্রডাকশন বাড়াব। প্রতি বছর এভাবেই আমরা কিছু এক্সপানশন করছি। আমরা স্পিনিং মিলে গিয়েছি। কিন্তু ওভেনের ক্ষেত্রে মেইন স্ট্রেন্থ ও মেইন জায়গা ডায়িং, এই ডায়িংয়ের খরচ অনেক। নিটওয়্যারের চেয়ে এখানে হিউজ ইনভেস্টমেন্ট। এ খরচটা বাংলাদেশের লোনের যে হাই ইন্টারেস্ট, এত ইন্টারেস্ট দিয়ে লোন নিয়ে কোনো ইন্ডাস্ট্রি সারভাইভ করে না। যার কারণে এ জায়গায় ইনভেস্টমেন্ট ওভাবে হয়নি। 

এটার কি আর একটা কারণ এমন যে আমাদের প্রতিবেশী দেশে নিটওয়্যারের যে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ এটার চেয়ে ওভেনের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজটা বেশি?

এটার আরেকটা কারণ হলো চায়না। চায়নার ওভেন বেশ সহজলভ্য। এমনকি ইন্ডিয়ায়ও। তাই ভাবছে আমরা এত কেন ইনভেস্ট করব। বায়াররা সোর্সিং করে দিচ্ছে। ওখান থেকে ফ্যাব্রিকস নিয়ে আসা যাচ্ছে। আমাদেরও কিন্তু বায়াররা ইনসিস্ট করছে ইন্ডিয়া থেকে সুতা আনার জন্য। আমরা কিন্তু সেটা করিনি। 

সম্পূরকভাবে আরো কিছু প্রশ্ন আসে যে প্রডাক্টের এখন ডাইভার্সিফাই হচ্ছে, যা টি-শার্ট দিয়ে শুরু হয়েছিল। আমরা সিনথেটিক ফাইবারের কথা বলছি, সেই জায়গায় নিটওয়্যার শিল্পের অবস্থাটা এখন কী রকম?

সিনথেটিক যেটা ম্যান মেড ফাইবারের কথা বলছি, ম্যান মেড ফাইবারের প্রডাক্টে মেইনলি ক্যাজুয়াল ড্রেসটাই বেশি। ক্যাজুয়াল ড্রেসটাই হচ্ছে মেইনলি নিটওয়্যার। যত ম্যান মেড বাড়বে, নিটওয়্যার কোম্পানি তত বাড়বে। আমরা সেই জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আমাদের সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এনবিআরের পলিসিগত সাপোর্ট দরকার। 

এই যে সাপোর্টের কথা বলছেন, একটা ইন্ডাস্ট্রি স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ থেকে শুরু হলো কিন্তু এতদিন ধরে অব্যাহত সাপোর্ট লাগবে কেন বা সাপোর্ট লাগবেই কেন? 

ম্যান মেড ফাইবারের যে র ম্যাটেরিয়াল এটা আনার ক্ষেত্রে যদি ১ টাকার মালের ওপর ৮ আনার ট্যাক্স নিয়ে নিই, তাহলে কি আমি ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে গিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকব? কেন এটার ক্ষেত্রে ট্যাক্স নেয়া লাগবে। ডিউটি, ট্যাক্স কখন সরকার বসায়, দেশীয় কোনো ইন্ডাস্ট্রিকে সেফগার্ড দেয়ার জন্য। কিন্তু ম্যান মেড ফাইবারের র ম্যাটেরিয়াল দেশে নেই।

আমরা যদি আমাদের জায়গা থেকে সরে গিয়ে একটু ক্রেতাদের পক্ষে বলি, আমাদের নিটওয়্যার শিল্পের শুরুর দিককার ক্রেতা দেশ কারা ছিল আর এখন এর ব্যাপ্তি কতদূর? 

শুরুর দিকে আমাদের নিটওয়্যারের ক্রেতা ছিল ইউরোপ। এখনো আমাদের মেজর এক্সপোর্ট হয় ইউরোপে। পরবর্তী সময়ে নন-ট্র্যাডিশনাল মার্কেটের বিভিন্ন জায়গায় গেছে, আমেরিকায় গেছে। এখনো ওভেনের চেয়ে নিটওয়্যার ইউরোপে বেশি যায়। আমরা এখনো নতুন বাজার খুঁজছি। ম্যান মেড ফাইবারে যদি আমরা যেতে পারি তাহলে আমাদের এক্সপোর্ট বাড়বে। কারণ ম্যান মেড ফাইবারের পোশাকের ডিমান্ড হচ্ছে ৭৫ শতাংশ। আর কটনের ডিমান্ড ২৫ শতাংশ। একসময় ছিল উল্টো। শুরুর দিকে কটনের চাহিদা বেশি ছিল। ইউরোপে রফতানির দিক থেকে আমরা এগিয়ে থাকলেও ভ্যালুর দিক থেকে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। তবে আমরা আশা করি অতিদ্রুত আমরা ভ্যালুর দিক থেকেও এগিয়ে যাব। পুরো বিশ্বে আমরা ১ নাম্বার পজিশনে যাওয়ার জন্য টার্গেট করছি। কিন্তু সেই জায়গায় যেতে হলে কয়েকটা ক্ষেত্রে আমাদের খুব অ্যাগ্রেসিভলি কাজ করতে হবে। প্রথমত, আমাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ সংকট সমাধান না করতে পারলে এটা একটা বড় বাধা হয়ে থাকবে। দ্বিতীয় নাম্বার হচ্ছে অতীতে যেভাবে কাস্টমস, এনবিআর আমাদের সহায়তা করেছে। এক্ষেত্রেও দেশের স্বার্থে এনবিআর বা কাস্টমসকে সহযোগিতা করতে হবে। বর্তমানে যেভাবে জটিলতা তৈরি করছে। এ জটিলতা তৈরি থেকে তাদের সরে আসতে হবে। বুঝতে হবে এ জটিলতা করে দেশের কোনো লাভ হচ্ছে না। এ ১০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি বা বিশ্বের ১ নাম্বার হতে হলে আমাদের কাস্টমসের বিভিন্ন জায়গা সহজ করতে হবে। তিন নাম্বার হলো আমরা রফতানি করব কোন দিক দিয়ে? চিটাগাং পোর্ট, পায়রা বন্দর। এগুলোর আরো ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। ৪ নাম্বার হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, এটা যখন চার লেন করছে, তখন আট লেনের প্রয়োজনীয়তা ছিল, এখন সরকার আট লেনের চিন্তা করছে কিন্তু এখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রয়োজনীয়তা আমাদের। এটা সরকারকে অ্যাডভান্স চিন্তা করতে হবে, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থাকতে হবে। আশুলিয়া/গাজীপুরকে কানেক্ট করে এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শুরু করতে হবে। এখানে নারায়ণগঞ্জকে কানেক্ট করে একদম চট্টগ্রাম পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটা করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের ১০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি বা বিশ্বের প্রথম স্থানে যাওয়ার রাস্তা মসৃণ হবে। 

এ মুহূর্তে নিটওয়্যার রফতানিতে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

এতক্ষণ যা বলছিলাম আসলে সবই চ্যালেঞ্জ। কিন্তু একটা সমস্যা আপনি বললেন, কিছুটা সাংঘর্ষিকও বক্তব্যটা, তা হলো অনেক আগ থেকে এনবিআর আপনাদের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে আপনার যে অভিযোগগুলো সেগুলো কিন্তু এনবিআরকেন্দ্রিক। একদিকে তিনি বাধা দিচ্ছেন, অন্যদিকে তিনি সহযোগিতা করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে, এটার সুরাহা হয় না কেন।