আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক। দেশের তৃণমূলের নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে পোশাক শিল্প। অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে বাংলাদেশের পোশাক খাত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ তৈরি পোশাক রফতানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বড় অবদান রাখছে। পোশাক পণ্যের প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি কেবল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেনি, লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থান করেছে। এ শিল্পের কারণে তাদের জীবন বদলে গেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের যে শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে, এর পেছনে এ শিল্পের অবদান রয়েছে। পোশাক শিল্প দিয়ে বহির্বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে নতুনভাবে চেনে। এখন রফতানি বহুমুখীকরণ প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখলেও বেশকিছু সমস্যার মধ্যে রয়েছে পোশাক শিল্প। আমরা সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। এ শিল্প তৃণমূলের লাখো নারীর ভাগ্য বদলে দিয়েছে। সামনে আরো অনেক কাজ করতে হবে পোশাক শিল্পকে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। এখন এ ব্যবসায় সম্পৃক্ত হচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। তরুণরা থাকলে পথ হারাবে না দেশ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে মিড লেভেলে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ম্যানেজার তৈরি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রেও তারা বেশ ভাল কাজ করছে। দীর্ঘদিন বিদেশী জনবল দিয়ে আমরা এ কাজ করেছি। এখন দেশেই পর্যাপ্ত দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। বিদেশী ম্যানেজারদের ওপর আমাদের এখন আর নির্ভর করতে হবে না। দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) কাজ করছে। কারণ, দক্ষ জনশক্তিই একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি।
এক সময় আমাদের তৈরি পোশাক খাতের ম্যানেজমেন্ট লেভেলে শুধু বিদেশী জনশক্তিই কাজ করত। এখন আমাদের দেশের অনেক দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। পেশাগত কাজে তারা বেশ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। সে কারণে বিদেশী কর্মীর সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হলে আমাদের আর বিদেশী জনশক্তির প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই। সম্ভাবনাময় পণ্য ও বাজার সম্পর্কিত গবেষণা এবং উদ্ভাবনী পরামর্শ রফতানি সম্প্রসারণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানির ৮৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল তৈরি পোশাক। অন্যদিকে রফতানি বাজারের ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কেন্দ্রীভূত।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করতে পারবে। আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতের রফতানি বৃদ্ধিতে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। ব্যাংকের লোন সহজ ও সুদের হার কমানো প্রয়োজন।
তৈরি পোশাক রফতানিতে আমাদের আরো সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমার বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী ছিল, তাদের তৈরি পোশাক খাত প্রায় বন্ধ। চীন তৈরি পোশাক শিল্প রিলোকেট করছে। ফলে আমাদের সম্ভাবনা আরো বেড়ে গেছে। আমাদের দক্ষ জনশক্তি রয়েছে, উৎপাদন খরচ কম। তৈরি পোশাক শিল্পে গ্রিন ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। ফলে রফতানি বাণিজ্যে আমাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।





