পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাজেটের পুরোটাই পর্যালোচনা করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে সেটি কীভাবে করা হবে? বাজেটের তিনটি অংশ আছে—রাজস্ব আহরণ, সরকারি ব্যয় এবং বাজেট ঘাটতি ও তার অর্থায়ন। সবকিছু আপনি একবারে ঠিক করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে যে কোন জায়গা থেকে শুরু করতে হবে। আমার মনে হয় প্রথমে হাত দিতে হবে ব্যয়ের দিকে। কারণ সরকার বর্তমানে আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যে আছে। প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা আমরা অর্থায়ন করতে পারব কিনা সেটির একটি মূল্যায়ন দরকার। এক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য দেয়া আছে সেটি কতটুকু অর্জনযোগ্য তার একটি বাস্তবভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করতে হবে। 

ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা না করে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কী পরিমাণ ঋণ নেয়া যায় সেটিও দেখতে হবে। প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের মতো প্রতিশ্রুত বিদেশী অর্থায়ন পাইপলাইনে রয়েছে। এ অর্থের কতটুকু চলতি অর্থবছরে ব্যবহার করা সম্ভব হবে সেটি নির্ভর করবে যেসব প্রকল্পের জন্য এ অর্থায়ন করা হচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবায়নের গতির ওপর। জাতীয় অর্থনীতি ও জনকল্যাণে অবদান রাখবে এবং পুরোপুরি বিদেশী অর্থায়ন রয়েছে এমন প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যদিকে দেশীয় অর্থায়নে যেসব প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব মেগা প্রকল্পে বিদেশী অর্থায়ন নেই সেখানে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। আবার কিছু মেগা প্রকল্পে এমন ধরনের বিদেশী অর্থায়ন রয়েছে, যা আমাদের স্বার্থের অনুকূল নয়, এগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। যদি এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন এমন পর্যায়ে গিয়ে না থাকে, যেখান থেকে ফিরে আসা যাবে না কিংবা শেষ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। 

স্থানীয় সরকার, জ্বালানি ও পরিবহন খাতসহ অন্যান্য খাতে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন অনেক প্রকল্প রয়েছে; যেগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যক্তি স্বার্থে, দলীয় স্বার্থে ও গোষ্ঠী স্বার্থে করা। এ ধরনের প্রকল্পগুলোকে বাদ দিতে হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে কাটছাঁটের সুযোগ আছে, সেখানে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। 

—সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক, ঢাকা কার্যালয়