আমাদের যারা রাজস্ব সংগ্রহ করেন এবং নীতি প্রণয়ন করেন, তারা একই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের পরামর্শ ছিল, নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায়ে দুটি বিভাগকে আলাদা করা। কিন্তু আমরা এত বছরেও সেটির বাস্তবায়ন দেখিনি। পর্যায়ক্রমে কয়েক বছরে আমাদের করপোরেট করহার কমেছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু করজাল বড় হয়নি। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর দিয়ে আসছে, তার কাছ থেকেই প্রবৃদ্ধি আশা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর কর ছাড় দেয়ার কথা বলে বেজা বিনিয়োগ আহ্বান করেছিল। পরে অনেক দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে। কিন্তু এবার এনবিআর অনেক সুবিধা 

বাতিল করে। পরবর্তী সময়ে আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। তখন তারা সেটি প্রত্যাহার করে নেয়। এখন একটি সুবিধা দেয়ার কথা বলে যদি বিনিয়োগ আনা হয়, তারপর সেটি যদি এনবিআর বলে ভ্যালিড নয়, তাহলে তা ঠিক হবে না।

দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরলে ভোক্তারা আত্মবিশ্বাস পাবে। তখন ব্যবসাও উন্নত হবে। বেজা, বিডা, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটা সমন্বয় থাকা উচিত। নইলে দেখা যায়, বেজা বা বিডা থেকে যেসব সুবিধার কথা ব্যবসায়ীদের বলা হয়, সেটি কিছু ক্ষেত্রে এনবিআর পরিবর্তন করে ফেলে। ফলে ব্যবসায়ীরা চাপের মধ্যে পড়েন। 

বিনিয়োগকারীদের সুবিধা বাতিলের পরিপত্রে বলা হলো, ২০২৪ থেকে এটা কার্যকর হবে। তার মানে ২০২৪ সাল থেকে যদি আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আনতে চাই, তাহলে তাদের শুধু জমি ছাড়া আর কিছুই দিতে পারব না। বিনিয়োগকারীরা কীভাবে আসবেন? আমাদের পাশের দেশ ট্যাক্স ছাড় দিচ্ছে, ভ্যাট ছাড় দিচ্ছে, বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছে। তার বিপরীতে আমরা কিছুই দিচ্ছি না। আমাদের এখানে সস্তা শ্রমের জন্য তো সবাই আসবে না। আমাদের মানবসম্পদ আছে ঠিক, তবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে।

—ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বার্জার