এখন আমাদের চিন্তা করতে হবে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে। এসব খাতে এতদিন তেমন কোনো পরিবর্তন দেখিনি। তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়নি, এ নিয়েও কাজ করতে হবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি। এগুলো মোকাবেলার জন্য যে কৌশল নেয়া দরকার, সেগুলো ছিল খুবই অপ্রতুল। কিছু ক্ষেত্রে আগের মতো গতানুগতিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ জনবান্ধব বাজেট আমরা দেখিনি। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিবর্তনের জন্য কিছু দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল। যেমন ব্যাংক কমিশন গঠনের কথা বলতে পারত। কিন্তু সেগুলো আমরা দেখিনি। এসব বিষয়ে এখন গুরুত্ব দিতে হবে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ তরুণদের কর্মদক্ষতায় ভিন্নতা রয়েছে। গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নিতে হবে। গ্রামীণ তরুণদের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং সেই সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার দিকে জোর দিতে হবে। যেমন কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শহরের তরুণদের মধ্যে যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান কিংবা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের জন্য থোক বরাদ্দসহ বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক সংযোগটা আরো শক্তিশালী হতে হবে। শিক্ষার মানে গুরুত্ব দিতে হবে।
ঋণ পরিশোধের জন্য ‘ফরেইন এক্সচেঞ্জ’ কীভাবে আরো বাড়াতে পারি, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কোনো প্রকল্প নেয়া যাবে না। কিছু ঋণের ক্ষেত্রে সাবধানী হতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি রফতানিতে বৈচিত্র্য আনাও জরুরি।
—অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়





