নতুন সরকারের কাছে প্রথম প্রত্যাশাই হলো ন্যায়বিচার। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআর, দুদক ও বিচারালয়ে সুশাসনের ঘাটতি ১৬ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্র সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা জনদাবি আকারে সামনে এসেছে, সেটা বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতি অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াবে।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিনিময় ভারসাম্য (বিওপি) জরুরি। আমি মনে করি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনে। এজন্য কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। সেটা মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে হতে পারে, এক্সচেঞ্জ রেটের ক্ষেত্রেও হতে পারে। কারণ সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক অনুঘটক দুটি। একটি সুদহার, অন্যটি বিনিময় হার। আপনি যখন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে থাকবেন, তখন এ দুটো জিনিস যদি বাজারমুখী না করেন, তাহলে মার্কেট নিজেকে শোধরানোর কোনো সুযোগ পায় না। ফলে অনেক অসাধু কর্মকাণ্ডের উৎপত্তি হয়। অতএব এ দুটো জিনিসকে আমার মনে হয় বাজারমুখী করাই শ্রেয়।

আর সংস্কারের ক্ষেত্রে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সেটা হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একটি আরেকটির পরিপূরক। ফলে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্কার করে পরে এনবিআর করা হবে—এমন পরিকল্পনা খুব কার্যকর হবে না। কারণ দুর্নীতি সর্বস্তরে এমন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে এগুলো নিয়ে কথা বলাও অসম্ভব ছিল। তথ্য-উপাত্তের প্রচণ্ড গরমিলও তৈরি হয়েছিল। এগুলো ঠিক করে উপস্থাপন করাটাও এখন বড় কাজ। 

রাজনৈতিক সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে মারাত্মক একটা অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে বাজারে। অনেক অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়েছে। ব্যাংকের পাশাপাশি শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও আমরা এ প্রবণতা দেখেছি। এসএমইগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো অর্থনীতির মেরুদণ্ড। মূল বিষয় হচ্ছে একটা সমতা ও ইনসাফভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

—ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আকিজ বশির গ্রুপ