বাংলাদেশে এডিবল অয়েল লিমিটেড (বিইওএল) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে। তারপর থেকেই দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান বিইওএল। রূপচাঁদা, ফরচুন, কিংস ও ভিওলার মতো ব্র্যান্ড। এখন পর্যন্ত বিইওএল তাদের মান উন্নত করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। প্যাকেটজাত শিল্পেও এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বিইওএলই প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা পিইটি বোতলের ব্যবহার শুরু করেছে।

রূপচাঁদা বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৬ সালে শুরু হয় এর সফর। শুরু থেকেই রূপচাঁদা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্যকর ও মানসম্পন্ন ভোজ্যতেল সরবরাহে। বাজারে আসার প্রায় এক দশকের বেশি সময় একক আধিপত্য ধরে রেখেছিল ব্র্যান্ডটি। রূপচাঁদা তেল যখন বাজারে আসে, তখন ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা অনেক কম ছিল। তখন বাজারে খোলা তেল বিক্রি হতো। প্যাকেটজাত ফরম্যাট তেলের তেমন চাহিদা বা জনপ্রিয়তা ছিল না। ঠিক সে সময়ে রূপচাঁদা তেল বাজারে আসে। গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করে এবং জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের সব বিপণন কার্যক্রম তার গ্রাহকের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে তৈরি এবং সম্পাদিত হয়। রূপচাঁদাই প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র ভিটাসিন এ ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল। ২৬ বছর ধরে রূপচাঁদা এখনো মান উন্নয়নের চেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছে। রূপচাঁদার সয়াবিন তেলকে ‘সেরা ভোজ্যতেল ব্র্যান্ড’ হিসেবে স্বীকৃত করেছে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। প্রতিষ্ঠানটির পুরস্কার দেয়া শুরুর পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে রূপচাঁদা শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা ধরে রেখেছে। ২০১৩ সালে রূপচাঁদা ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল বাংলাদেশের শীর্ষ ৩০টি ব্র্যান্ডের মধ্যে চতুর্থ স্থান দখল করে। রূপচাঁদা ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল দেশে ‘সয়াবির তেল’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার চালুর পর পর চার বছর ‘সেরা ভোজ্যতেলের ব্র্যান্ড’ হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। ২০১৮ সালে রূপচাঁদা সুপার ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ঝুলিতে তোলে।

বাংলাদেশে সয়াবিন তেলের বাজারের বড় হিস্যা রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের। এ বাজারের প্রায় ২৫ শতাংশই রূপচাঁদার দখলে। সয়াবিন তেল ছাড়াও বাংলাদেশের বাজারে পাম তেল ও চালের ব্যবসা রয়েছে বিইওএলের। তেলের পাশাপাশি রূপচাঁদা চিনিগুঁড়া, রূপচাঁদা প্রিমিয়াম মিনিকেট ও রূপচাঁদা নাজিরশাইল ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চালও বাজারজাত করে বিইওএল। ভোজ্যতেল উৎপাদনে দেশে কোম্পানিটির কারখানা থাকলেও চালের ব্যবসার জন্য রয়েছে চুক্তিভিত্তিক চালকল। রূপচাঁদা ব্র্যান্ড ছাড়াও ফরচুন, মিজান, কিংস ব্র্যান্ডের সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলও বাজারজাত করছে।

বিইওএলের একটি ব্র্যান্ডের নাম ফরচুন। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে ব্র্যান্ডটি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেলগুলোর মধ্যে নতুনত্ব আনে ফরচুন ব্র্যান্ড। রাইস ব্রান অয়েলে অন্যান্য রান্নার তেলের তুলনায় পুষ্টিগুণ বেশি। এ তেল স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। এ তেলে স্মোক পয়েন্ট বেশি থাকে, যা তার গুণগত মানকে আরো বাড়িয়ে তোলে। বাংলাদেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পূরণ করতে ২০১৬ সালে বিইওএল শুন শিং এডিবল অয়েল লিমিটেডকে অধিগ্রহণ করে। বিইওএলের আরেকটি সংযোজন হলো ভিওলা সয়াবিন তেল।  

মিজান ফর্টিফায়েড পাম অলিন বিইওএলের সংযোজনকৃত সর্বশেষ ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের মোট ভোজ্যতেলের বাজারের আকার বার্ষিক ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন। ভোজ্য ৭০ শতাংশ ভোক্তাই গ্রামীণ। কিন্তু যথাযথ তথ্যের অভাব, সচেতনতার অভাব ও দামে সস্তা হওয়ায় গ্রামের মানুষ এখনো খোলা তেলের ওপর নির্ভরশীল। যার কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ছে। গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বিইওএল সর্বশেষ বাজারে আনে মিজান ফর্টিফায়েড পাম অলিন। একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের সুপার রিফাইন্ড পাম ওলেইন হিসেবে বাড়তি পুষ্টি (ভিটামিন এ, ই) রয়েছে। রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের মতো মিজানেও ভিটামিন এ রয়েছে।