২০০৮ সালে দেশের বাজারে কনজিউমার ইলেকট্রনিকস পণ্য নিয়ে আসে ওয়ালটন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাজারের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের জায়গা দখল করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। দেশের রেফ্রিজারেটরের বাজার নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক ও ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের সিইও প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদের সঙ্গে। 

বাজারে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চাহিদা কেমন?
বতর্মানে রেফ্রিজারেটরের বাজারে সবার্ধিক বিক্রীত ব্র্যান্ড হচ্ছে ওয়ালটন। বাজারে ওয়ালটনের ৫০ থেকে প্রায় ৬০০ লিটার ধারণক্ষমতার শতাধিক মডেলের ফ্রিজ রয়েছে। এগুলোর দামও সাধ্যের মধ্যেই ১১ হাজার থেকে ৬৫ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে।

ক্রেতারা ওয়ালটনকে বেছে নেয়ার কারণ কী?
আমরা ক্রেতাদের সেরা দামে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য দিচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের বিক্রয়োত্তর সার্ভিসের কারণে ক্রেতারা আমাদের বেছে নিচ্ছেন। দেশব্যাপী আমাদের ৭২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। তাছাড়া সারা দেশে ৩৫০-এরও বেশি ওয়ালটন প্লাজা ও ১২ হাজার ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে ওয়ালটন পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। আমাদের রেফ্রিজারেটরে ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এন্টি ফাঙ্গাল ও থ্যালেট ফ্রি গ্যাসকেট ব্যবহারের কারণে রেফ্রিজারেটরের খাবারের দুর্গন্ধ হয় না। আমাদের রেফ্রিজারেটরে গ্রিন টেকনোলজির পাশাপাশি টেম্পারড গ্লাস ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওয়ালটনের রেফ্রিজারেটরে কত বছরের গ্যারান্টি দেয়া হয়?
কম্প্রেসর হচ্ছে রেফ্রিজারেটরের হার্ট। সবচেয়ে কম নয়েজ লেভেল এবং রোবাস্ট কম্প্রেসর আমাদের কারখানায় তৈরি হচ্ছে। তাই আমরা ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ১২ বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি দিয়ে থাকি। আমাদের নিজেদের কারখানায় বর্তমানে কম্প্রেসর তৈরি হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে আমাদের কম্প্র্রেসরের মান আরো উন্নত হয়েছে। তাছাড়া আমরা রেফ্রিজারেটরের স্পেয়ার পার্টসের ক্ষেত্রে চার বছর ও বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছি।

বর্তমানে ওয়ালটনের রেফ্রিজারেটরে ক্রেতাদের জন্য কী অফার চলছে?
আমরা ডিজিটাল ক্যাম্পেইন কার্যক্রম চালাচ্ছি। এবার এটি চতুর্থ বছরে গড়াল। আমাদের এ ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রেতাদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে আসা। এতে বিক্রয়োত্তর সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আর মানি রিসিট কিংবা ওয়ারেন্টি কার্ড নিয়ে আসতে হবে না। নাম ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে সেবা নেয়া সম্ভব। এর আরেকটি সুবিধা হলো, ক্রেতাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা বুঝতে পারছি, কীভাবে আরো বেশি ভালো সার্ভিস দেয়া সম্ভব। তাছাড়া আমাদের ফ্রিজ কিনে মিলিয়নেয়ার হওয়ার অফার চলছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনে মিলিয়নেয়ার হয়ে গেছেন। এর বাইরে অন্যান্য অফার তো রয়েছেই। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইএমআই সুবিধা পাওয়া যাবে। তাছাড়া ৩৬ মাসের কিস্তিতে ওয়ালটনের ফ্রিজ কেনার সুযোগ রয়েছে।

ওয়ালটন দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও ফ্রিজ রফতানি করছে...
এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমাণ পণ্যের কোম্পানি হচ্ছে ওয়ালটন। আমরা বর্তমানে ২৫টি দেশে ফ্রিজ রফতানি করছি। আগামী বছর আমরা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে কনজিউমার ব্র্যান্ডের বাজারে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি ব্র্যান্ডের মধ্যে একটি হওয়া।

আরো পড়ুন-

>> রেফ্রিজারেটরের বাজার ৫ হাজার কোটি টাকার
>> রেফ্রিজারেটরের যত্নআত্তি
>> ক্রেডিট কার্ডের কারণে কনজিউমার ইলেকট্রনিকসের বিক্রি বেড়েছে
>> সেরা দামে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যের পাশাপাশি ক্রেতাদের উন্নত সেবা দিচ্ছে ওয়ালটন 
>> ১৫% হারে বাড়ছে ফ্রিজের বাজার 
>> ২০২৫ সালে ইলেক্ট্রো মার্ট হবে দেশের অন্যতম হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান