বাংলাদেশে জাপানের শার্প ব্র্যান্ডের ফ্রিজ বাজারজাত করছে এসকোয়্যার ইলেকট্রনিকস লিমিটেড। শার্পের ফ্রিজ বর্তমানে থাইল্যান্ডের কারখানায় সংযোজনের পর বাংলাদেশে আসছে। কিছু মডেল চীনে সংযোজিত হয়। দেশের রেফ্রিজারেটরের বাজার নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এসকোয়্যার ইলেকট্রনিকসের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মনজুরুল করিম। 

দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার কেমন?
দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজারে স্থানীয় ও বহুজাতিক ব্র্যান্ডের ফ্রিজ রয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় ফ্রিজ উৎপাদনকারীদের আধিপত্য বেশি। প্রতি বছর গড়ে ১৫ শতাংশ হারে রেফ্রিজারেটরের বাজার বাড়ছে। মূলত দাম কম হওয়ার কারণে স্থানীয় ব্র্যান্ডের ফিজের ক্রেতা বেশি। দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজারে দুই ধরনের ক্রেতা রয়েছেন। একশ্রেণীর ক্রেতা ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে দামের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেন। আরেক শ্রেণীর ক্রেতা রয়েছেন, যারা দাম একটু বেশি হলেও গুণগত মানসম্পন্ন ও আধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ ফ্রিজকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

শার্প রেফ্রিজারেটরের ক্রেতা কারা?
মূলত মধ্যবিত্তরাই শার্প ব্র্যান্ডের প্রধান ক্রেতা। আমাদের ক্রেতাদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমরা রিপিট কাস্টমার বেশি পাই। রিপিট কাস্টমার হচ্ছে—ধরুন, কোনো পরিবারে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্ম শার্পের ফ্রিজ ব্যবহার করেছে। দেখা যাচ্ছে, তৃতীয় প্রজন্মও ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে শার্পই বেছে নিচ্ছে। শার্পের ক্রেতাদের মধ্যে ব্র্যান্ড লয়ালিটি বেশি। বাজারে আমরা বর্তমানে ডিরেক্ট কুল (ফ্রস্ট) ও ফ্যান কুল (নন-ফ্রস্ট) দুই ধরনের ফ্রিজ বাজারজাত করছি। বাজারে শার্পের ২৪০ থেকে শুরু করে ৪০০ লিটার পর্যন্ত ফ্রিজ রয়েছে। এগুলোর দাম ৪০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে প্রিমিয়াম ধরনের কিছু ফ্রিজ রয়েছে, যেগুলোর দাম ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। আর এক্সক্লুসিভ ধরনের কিছু ফ্রিজ রয়েছে, যেগুলো ১ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

শার্পের রেফ্রিজারেটরে কী ধরনের ফিচার রয়েছে?
রেফ্রিজারেটরের বাজারে বর্তমানে ইনভার্টার প্রযুক্তি ফ্রিজ বেশ জনপ্রিয়। বাজারে শার্পের ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ রয়েছে। শার্পের রেফ্রিজারেটরে পিসিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা অন্য ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটরে নেই। এর ফলে খাবার ব্যাকটেরিয়া থেকে সুরক্ষিত। তাছাড়া আমাদের রেফ্রিজারেটরে হাইব্রিড কুলিং ইফেক্ট ব্যবহার করা হয়। শার্পের রেফ্রিজারেটরে যে ধরনের ইনভার্টার ব্যবহার করা হয়, সেটি অন্যদের তুলনায় আলাদা। আমাদের কম্প্রেসর কম লো-ভোল্টেজে চলে। এর ফলে আলাদা করে আর স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটরের মধ্যে তেমন কোনো নতুনত্ব আনার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নন-ফ্রস্ট ফিজের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের নতুনত্ব আনার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে সবাই এখন নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটরের দিকে ঝুঁকছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আপনাদের বিশেষ কী অফার রয়েছে?
আমাদের রেফ্রিজারেটরে বর্তমানে নগদ ডিসকাউন্ট চলছে। বিভিন্ন মডেলের রেফ্রিজারেটরে ৮ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ ডিসকাউন্ট রয়েছে। আমাদের গোপন কোনো ডিসকাউন্ট নেই। ক্রেতারা কেনার আগেই জানতে পারছেন যে কত টাকা ডিসকাউন্ট পাওয়া যাবে। তাছাড়া গ্রামীণফোনের স্টার গ্রাহকরা শার্প রেফ্রিজারেটরে ছাড় পাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইএমআইয়ের মাধ্যমে শার্প ফ্রিজ কেনার সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেও আমাদের ফ্রিজ কেনার সুযোগ রয়েছে। অনেক ক্রেতা অনলাইনের মাধ্যমে আমাদের ফ্রিজ কিনছে। আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিতই হালনাগাদ করা হয়ে থাকে। এর ফলে নতুন নতুন সব পণ্য সম্পর্কে ক্রেতারা ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিতে পারছেন।

আরো পড়ুন-

>> রেফ্রিজারেটরের বাজার ৫ হাজার কোটি টাকার
>> রেফ্রিজারেটরের যত্নআত্তি
>> ক্রেডিট কার্ডের কারণে কনজিউমার ইলেকট্রনিকসের বিক্রি বেড়েছে
>> সেরা দামে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যের পাশাপাশি ক্রেতাদের উন্নত সেবা দিচ্ছে ওয়ালটন 
>> ১৫% হারে বাড়ছে ফ্রিজের বাজার 
>> ২০২৫ সালে ইলেক্ট্রো মার্ট হবে দেশের অন্যতম হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান