২০১৮ সাল শেষে দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার ছিল ৫৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসলের প্রক্ষেপণ অনুসারে, ২০২২ সালে দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে
একটা সময় পর্যন্ত রেফ্রিজারেটর ছিল বিলাসিতা। অথচ বর্তমানে ব্যস্ত নাগরিক জীবনে রেফ্রিজারেটর ছাড়া মানুষের চলেই না। মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছার ফলে শহর থেকে গ্রাম সবখানেই বাড়ছে কনজিউমার ইলেকট্রনিকসের বাজার। আর এ বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ রেফ্রিজারেটরের। ২০১৮ সাল শেষে দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার ছিল ৫৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার। গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসলের প্রক্ষেপণ অনুসারে, ২০২২ সালে দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজার সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ২০১৮ সালে রেফ্রিজারেটরের বাজারের ৫৪ শতাংশের বেশি ছিল ওয়ালটনের দখলে। এর পরই বাজার দখলে এগিয়ে আছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ। দেশে রেফ্রিজারেটরের বাজারের ১৪ শতাংশ বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের দখলে। এ বাজারের ৪ শতাংশ করে দখলে রেখেছে এলজি বাটারফ্লাই, যমুনা, মিনিস্টার ও মাইওয়ান। এর বাইরে বাজারে ভিশন, ভিগো, সনি র্যাংগস, শার্প, ইকো প্লাস, হিটাচি, এলজি, ওয়ার্লপুল, কনকা, প্যানাসনিক, স্যামসাং, অ্যারিস্টন, স্যামসাং, হায়েস অ্যান্ড হায়ারের মতো স্থানীয় ও বহুজাতিক ব্র্যান্ডের উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে।
বছরজুড়েই রেফ্রিজারেটরের বেচাবিক্রি চলে। তবে গ্রীষ্মকালে বেশি বিক্রি হয়। আর প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি রেফ্রিজারেটর বিক্রি হয়। এ সময় ক্রেতা আকর্ষণের জন্য ছাড়সহ বিভিন্ন ধরনের অফার দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। নগদ টাকায় রেফ্রিজারেটর কেনার সামর্থ্য না থাকলেও রয়েছে কিস্তিতে কেনার সুযোগ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর কেনা যাবে। কার্ডের মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর কিনলেও মিলছে ছাড়।
বাজারে বেশ কয়েক ধরনের রেফ্রিজারেটর রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি চলে টপ ফ্রিজার। এ ধরনের রেফ্রিজারেটরে উপরের দিকে থাকে ফ্রিজার বা ডিপ ফ্রিজার আর নিচে থাকে সাধারণ রেফ্রিজারেটর। আরেক ধরনের রেফ্রিজারেটর হচ্ছে বটম ফ্রিজার। এর ডিপ ফ্রিজ থাকে নিচে। এ ধরনের রেফ্রিজারেটরগুলোরও ভালো চাহিদা রয়েছে। আরেকটু আধুনিক ধাঁচের রেফ্রিজারেটরের মধ্যে রয়েছে ফ্রেঞ্চ ডোর বা সাইড-বাই-সাইড ধরনের রেফ্রিজারেটর। এগুলোয় দুই দিকেই দরজা থাকে। আর শুধু মাছ-মাংস সংরক্ষণের ডিপ ফ্রিজার তো রয়েছেই। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখে রেফ্রিজারেটর কেনা উচিত। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে একটু বড় ধরনের রেফ্রিজারেটর কেনা উচিত, যাতে বেশি খাবার সংরক্ষণ করা যায়। আর ছোট পরিবারের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট থেকে মাঝারি ধরনের রেফ্রিজারেটর হলেই যথেষ্ট। আবার খাদ্যাভ্যাসের ওপরও নির্ভর করছে আপনার রেফ্রিজারেটরের ফ্রিজার বড় নাকি ছোট হবে। বেশি পরিমাণে মাছ-মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার বড় আকারের হলে সুবিধা।
রেফ্রিজারেটরের দরদাম
আকার, স্টাইল, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডভেদে রেফ্রিজারেটরের দামেও ভিন্নতা রয়েছে। বাজারে ১১ হাজার থেকে শুরু করে ৪-৫ লাখ টাকা দামেরও রেফ্রিজারেটর পাওয়া যায়।
ওয়ালটন
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ওয়ালটন বিশেষ অফার দিচ্ছে। তাদের ফ্রিজ কিনে রেজিস্ট্রেশন করলে ‘প্রতিদিন মিলিয়নেয়ার’ হওয়ার সুযোগ থাকছে। এছাড়া থাকছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারসহ হাজার হাজার পণ্য ফ্রি। বাজারে ওয়ালটনের শতাধিক মডেলের ফ্রিজ আছে। সারা দেশে ৩৫০টি ওয়ালটন প্লাজা নামে নিজস্ব শোরুম আছে। ৭২টি সার্ভিস সেন্টার চালু রয়েছে। ১২ হাজার ওয়ালটন এক্সক্লুসিভ ডিলার আছে। সর্বনিম্ন ১১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকার মধ্যে সব মডেলের ফ্রিজ পাওয়া যায়। ওয়ালটন জানায়, বিভিন্ন ডিজাইন ও কালারের শতাধিক নতুন মডেলের গ্লাস ডোর ফ্রস্ট ফ্রিজ বাজারে খুব ভালো চলছে। এগুলো ২৪ থেকে ৩৬ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ছোট পরিবার কিংবা ব্যাচেলরদের ব্যবহার উপযোগী ৫০ লিটার ও ১০১ লিটার ধারণক্ষমতার দুটি মডেলের ফ্রস্ট ফ্রিজ সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ডাবল ডোরের ফ্রিজও ভালো চলছে। সব রেফ্রিজারেটরেই এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি, কম্প্রেসরে ১২ বছর পর্যন্ত গ্যারান্টি পাওয়া যাচ্ছে।
ঈদ উপলক্ষে নতুন আসা ৫৫টি মডেলের মধ্যে রয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ৪১টি ফ্রস্ট ও আটটি নন-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর। ডিপ ফ্রিজারে নতুন এসেছে ছয়টি মডেল। ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটরের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মডেল এসেছে মজবুত টেম্পারড গ্লাস ডোরের রেফ্রিজারেটর। রেফ্রিজারেটরের দরজায় ব্যবহার করা হয়েছে নয় লেয়ার ভিসিএম ডোর। ফলে সহজে মরিচা ও দাগ পড়ে না। এছাড়া ডাইরেক্ট ইভাপোরেটিভ কুলিং সিস্টেম ফ্রিজকে ঠাণ্ডা রাখে এবং বিভিন্ন খাবারের গন্ধ মিশ্রিত হতে দেয় না। ন্যানো হেলথ কেয়ার প্রযুক্তি ফ্রেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করে। কুলিং প্যাক টেকনোলজির কারণে ফ্রিজকে ঠাণ্ডা রাখা হয় এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেও ফ্রিজকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়তি ঠাণ্ডা রেখে খাবার সতেজ রাখে। অ্যান্টি ফাংগাল গ্যাসকেট ব্যবহারের ফলে রেফ্রিজারেটরে ছত্রাক কিংবা ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না। ওয়ালটন ইনভার্টার ফ্রিজ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং কম ভোল্টেজেও চলে। ওয়াইড ভোল্টেজ রেঞ্জ প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ১৪০ থেকে ২৭০ ভোল্টেজেও ফ্রিজ চালু থাকে। ওয়ালটনে ৮০ শতাংশ রেফ্রিজারেটরের সঙ্গে স্ট্যাবিলাইজার বা ইউপিএস বিল্টইন করা আছে।
ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন গ্রিন টেকনোলজি, ন্যানো হেলথ কেয়ার প্রযুক্তি, ইনভার্টার সিস্টেম, ডাইরেক্ট ইভাপোরেটিভ কুলিং সিস্টেম (ডিইসিএস), টেম্পাড গ্লাস, ওয়াইড ভোল্টেজ রেঞ্জ, কুলিং পার্ক, অ্যান্টি ফাংগাল গ্যাসকেট প্রযুক্তি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রের ব্যবহার, বিএসটিআইয়ের ফাইভ স্টার এনার্জি রেটিং ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্রিজগুলো স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি। ওয়ালটনের রেফ্রিজারেটরে বিশ্বস্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আর৬০০-এ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ফ্রিজ ক্ষতিকারক সিএফসি গ্যাস নিঃসরণ করে না।
ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে এরই মধ্যে মিলিয়নেয়ার (১০ লাখ টাকা) পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন কয়েকজন।
সনি র্যাংগস
ঈদ সামনে রেখে সনি র্যাংগস প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গোল্ডেন আওয়ার করেছে। এ সময়ের মধ্যে ক্রেতারা কোনো বান্ডেল অফার বা এক্সচেঞ্জ করা ছাড়া মালয়েশিয়ার তৈরি কেলভিনেটর ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটরে ১৪ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত আর ইন্ডেসিট রেফ্রিজারেটরে ২৬ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে কিনতে পারবেন। এছাড়া রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজারে ট্রিপল এক্সচেঞ্জ ও ট্রিপল বান্ডেল অফার দেয়া হচ্ছে। ট্রিপল বান্ডেল অফারে কেলভিনেটর রেফ্রিজারেটরের সঙ্গে মডেলভেদে ডিপ ফ্রিজারে সর্বনিম্ন ৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা ছাড়ে ক্রেতারা কিনতে পারবেন। এছাড়া যেকোনো ব্র্যান্ডের পুরনো রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজার দিয়ে নতুন রেফ্রিজারেটর নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
যমুনা
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে যমুনা আয়োজন করেছে রেফ্রিজারেটর মেলা। এবারের ঈদে যমুনা রেফ্রিজারেটরে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। এছাড়া থাকছে ৪ হাজার ৪৯৮ টাকা ডাউন পেমেন্টে রেফ্রিজারেটর কেনার সুযোগ। এর বাইরে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ফ্রিতে রেফ্রিজারেটর জিতে নেয়ার সুযোগও থাকছে।
যমুনার রেফ্রিজারেটরগুলোয় রয়েছে ডাবল কুলিং টেকনোলজি ও সিলিকনযুক্ত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গ্যাসকেট। এছাড়া আছে অধিক পুরু ইন্সুলেশন ওয়াল ও সিঙ্গেল শিট অ্যালুমিনিয়াম ইন্টেরিয়র, যা ১২০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়েও রেফ্রিজারেটরের প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখে।
ইলেক্ট্রো মার্ট দেশের বিভিন্ন আউটলেটে কনকা, গ্রি, হাইকো ও মিডিয়া ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটর বিক্রি করছে। ক্রেতারা এসব আউটলেটে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের ডিপ ফ্রিজার ও রেফ্রিজারেটর পাবেন। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মডেলের রেফ্রিজারেটর সর্বনিম্ন ২২ হাজার ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলেক্ট্রো মার্টের রেফ্রিজারেটর কিনে কম্প্রেসরে আট বছর ওয়ারেন্টি, বিভিন্ন পার্টসে দুই বছর এবং বিক্রির পর পাঁচ বছর সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে।
ইলেক্ট্রো মার্ট
ইলেক্ট্রো মার্ট দেশের বিভিন্ন আউটলেটে কনকা, গ্রি, হাইকো ও মিডিয়া ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটর বিক্রি করছে। ক্রেতারা এসব আউটলেটে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের ডিপ ফ্রিজার ও রেফ্রিজারেটর পাবেন। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মডেলের রেফ্রিজারেটর সর্বনিম্ন ২২ হাজার ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলেক্ট্রো মার্টের রেফ্রিজারেটর কিনে কম্প্রেসরে আট বছর ওয়ারেন্টি, বিভিন্ন পার্টসে দুই বছর এবং বিক্রির পর পাঁচ বছর সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে।
স্যামসাং
বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩০টি মডেলের রেফ্রিজারেটর নিয়ে কোরবানি ঈদের বাজারে এসেছে শীর্ষস্থানীয় কনজিউমার ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড স্যামসাং ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ। স্যামসাংয়ের রয়েছে টপ মাউন্ট, ডিরেক্টর কুল, কানেক্ট ইনভার্টার, টুইন কুলিং, নো-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর। ডিরেক্টর কুল রেফ্রিজারেটর বেশির ভাগ মানুষ তাদের সাধ্যের মধ্যেই কিনতে পারবেন। সৌরশক্তি দিয়েও এ রেফ্রিজারেটর চালানো যায়। স্যামসাংয়ের কানেক্ট ইনভার্টার রেফ্রিজারেটরের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিদ্যুৎ চলে গেলেও এর কুলপ্যাক ফ্রিজারের ভেতরে থাকা খাবার টানা ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঠাণ্ডা রাখে। টুইন কুলিং রেফ্রিজারেটরে সাতদিন পর্যন্ত খাবার সতেজ রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত খাবারে কোনো দুর্গন্ধও হবে না। রেফ্রিজারেটরটিতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়া প্রটেক্টর, যা খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেবে। ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসরের ১০ বছরের ওয়ারেন্টি, দুই বছরের খুচরা সরঞ্জামাদি (স্পেয়ার পার্টস) ও সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিচ্ছে স্যামসাং। সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটরগুলোয় রয়েছে তুলনামূলক বেশি স্পেস। এই সিরিজের রেফ্রিজারেটরের অল-অ্যারাউন্ড কুলিং সিস্টেম রয়েছে, যার ফলে ঠাণ্ডা বাতাস বের হওয়ার বহু নির্গমন পথ রয়েছে। যা পুরো রেফ্রিজারেটরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং দীর্ঘ সময় খাবার তাজা রাখতে সর্বোত্তম তাপমাত্রা বজায় রাখে। রেফ্রিজারেটরগুলোয় ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎসাশ্রয়ী স্যামসাং ডিজিটাল ইনভার্টার কম্প্রেসর। এছাড়া রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার কিনলে বিনা খরচায় হোম ডেলিভারি ও ইনস্টলেশন করে দেয়া হবে। ইএমআই ও কিস্তির মাধ্যমে রেফ্রিজারেটর ক্রয়ে সুযোগ রেখেছে স্যামসাং। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘মিট দ্য ঈদ ক্যাম্পেইন’ চালু করেছে স্যামসাং। ক্যাম্পেইনটি চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। ক্যাম্পেইন চলাকালে নির্দিষ্ট মডেলের রেফ্রিজারেটর ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতারা বিনা মূল্যে পাবেন একটি টেলিভিশন অথবা ওয়াশিং মেশিন কিংবা মাইক্রোওভেন। এছাড়া রেফ্রিজারেটর ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ অফারের সুবিধা পাবেন ক্রেতারা। এ অফারে দেশব্যাপী ট্রান্সকম ডিজিটাল, র্যাংগস, ইলেকট্রা ও ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের শোরুমগুলোয় স্যামসাংয়ের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারগুলো ক্রয় করতে পারবেন আগ্রহী ক্রেতারা।
সিঙ্গার
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রেফ্রিজারেটর বিক্রিতে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে সিঙ্গার। তাদের আউটলেটগুলোয় ক্রেতারা রেফ্রিজারেটরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা ডিসকাউন্ট পাবেন। এছাড়া গ্রাহকরা মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ছয় মাসের সহজ কিস্তিতে রেফ্রিজারেটর কিনতে পারবেন। এতে ক্রেতাকে কোনো সুদ দেয়া লাগবে না। এছাড়া রেফ্রিজারেটরের সঙ্গে থাকা স্ক্র্যাচ কার্ডে গ্রাহক সর্বোচ্চ শতভাগ ফ্রি ডিসকাউন্ট পাবেন। সিঙ্গারের আউটলেটগুলোয় ডিপ ফ্রিজার, ডিরেক্ট কুল, নো-ফ্রস্ট ও সাইড বাই সাইড—এ চার ধরনের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। আপনার বাসায় সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটর থাকলে সেটা পরিবর্তন করে নতুন আরেকটি নিতে পারবেন। ১৩৮ থেকে ৫৫৮ লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার এ রেফ্রিজারেটরগুলো বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। আধুনিক প্রযুক্তির এসব রেফ্রিজারেটর সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিঙ্গারের যেকোনো শোরুম অথবা সার্ভিস সেন্টারে বিক্রি-পরবর্তী সেবা পাবেন ক্রেতারা।
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সিঙ্গার এরই মধ্যে চালু করেছে ‘সিঙ্গার ঈদ ফ্রিজ ফিভার’ ক্যাম্পেইন। এ ক্যাম্পেইনে দেশজুড়ে ক্রেতাসাধারণ স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন। রেফ্রিজারেটর ক্রয়ে পাবেন নিশ্চিত ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। এছাড়া আগ্রহী ক্রেতারা মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে রেফ্রিজারেটর কিনতে পারবেন। বাজারে সিঙ্গারের নয়টি মডেলের ডিপ ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। ১২১ থেকে ৩৮০ লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রিজগুলো পাওয়া যাচ্ছে ২২ হাজার ৫০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। বাজারে সিঙ্গারের ২৪টি ডিরেক্ট কুল মডেলের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে। এসব রেফ্রিজারেটর ১৯ হাজার ৯৯০ থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। নন-ফ্রস্ট ক্যাটাগরির সাতটি মডেলের রেফ্রিজারেটর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব রেফ্রিজারেটরের সর্বনিম্ন দাম ৪৫ হাজার ৯৯০ এবং সর্বোচ্চ ৬৪ হাজার ৯৯০ টাকা। বাজারে আছে সিঙ্গারের তিনটি মডেলের সাইড বাই সাইড রেফ্রিজারেটর। রেফ্রিজারেটরগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ হাজার ৯৯০ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে। বাজারে সেমি কমার্শিয়াল সিরিজের তিনটি মডেলের রেফ্রিজারেটর পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯০ থেকে ৩৮ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে।
ভিশন
দেশী ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ভিশন গ্রাহকদের কম মূল্যে আধুনিক রেফ্রিজারেটর দিচ্ছে। ইতালিয়ান প্রযুক্তিতে তৈরি সর্বাধুনিক ফোমিং মেশিনে বেশি ঘনত্বের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্লাস্টিক পার্টস ব্যবহার করা শতভাগ খাদ্যপণ্যবান্ধব ৪০টিরও বেশি মডেলের রেফ্রিজারেটর নিয়ে এসেছে ভিশন। এসব রেফ্রিজারেটরে আলাদা করে স্ট্যাবিলাইজার লাগানোর দরকার নেই। কারণ রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরের ভোল্টেজ সহনীয় মাত্রা, ১৬০ থেকে ২৪০ ভোল্ট। এ রেফ্রিজারেটরগুলো সর্বনিম্ন ১২ হাজার ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ভিশনের আউটলেটগুলো থেকে জানা যায়, জাপান ও কোরিয়া প্রযুক্তির রেফ্রিজারেটরের চেয়ে ৬০ শতাংশ কম দামে ভিশন রেফ্রিজারেটর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ১৬০ থেকে ৫৫৬ লিটার ধারণক্ষমতার রেফ্রিজারেটরের চাহিদা তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতারা এখন রেফ্রিজারেটর কিনে আরো ১১টি রেফ্রিজারেটরসংশ্লিষ্ট আইটেম ফ্রি পাবেন। ভিশন রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে পরিবেশবান্ধব গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী রেফ্রিজারেটরের কারণে মাসে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার বিল আসতে পারে। ভিশন ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকদের সার্ভিস সেবা দিচ্ছে।
শার্প
কোরবানি ঈদ সামনে রেখে এসক্যোয়ার ইলেকট্রনিকস জাপানি ব্র্যান্ডের সব মডেলের রেফ্রিজারেটরে ৮ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকা নগদ মূল্য ছাড় দিচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণফোনের স্টার গ্রাহকদের জন্য ৫ শতাংশ ছাড় আছে। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইএমআইয়ে ১২ কিস্তিতে ফ্রিজ কেনার সুবিধা আছে। যাদের ক্রেডিট কার্ড নেই, তাদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ কিস্তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও আছে।
বাজারে এসকোয়্যার ইলেকট্রনিকসের আমদানি করা শার্পের ২৯ মডেলের নতুন ফ্রিজ রয়েছে। শার্পের ডিপ ফ্রিজগুলোর দাম ২২ হাজার ৯০০ টাকা থেকে শুরু। সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকার ফ্রিজও আছে। ঈদ উপলক্ষে এ ফ্রিজ সাড়ে ৩ লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মূল্য অনুপাতে বাজারে শার্পের তিন শ্রেণীর ফ্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড সিরিজের ফ্রিজগুলো ২৩০ থেকে ৪০০ লিটারের মধ্যে হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য। দাম ৪১ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে। প্রিমিয়ার সিরিজের এ ফ্রিজগুলো ৪০০ থেকে ৫৫০ লিটারের। যারা একটু দামের মধ্যে ভালো জিনিস খোঁজেন, এগুলো তাদের জন্য। দাম ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। আর টপ প্রিমিয়ার সিরিজের ফ্রিজগুলো সবচেয়ে দামি। এদের মধ্যে রয়েছে ফাইভ ডোর, সিক্স ডোর, সাইড-বাই-সাইড, ফোর ডোর, নন-ফ্রস্ট। এগুলো খুবই ভালো মানের ফ্রিজ।
শার্প ফ্রিজগুলোর মান ভালো হওয়ায় দামও একটু বেশি। আমদানি শুল্কের কারণেও দামটা বেশি পড়ে। বিশ্বব্যাপী প্লাজমা প্লাস্টার আয়রন (পিপিআই) ফিচার শুধু শার্প রেফ্রিজারেটরেই ব্যবহার করা হয়। এর জন্য রেফ্রিজারেটরে কোনো জীবাণু (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, এমনকি ফ্লু ভাইরাস) জন্মাতে পারে না। একটি রুটি এক মাস রাখলেও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে না। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ ফ্রিজ তৈরি করা হয়েছে। শার্প রেফ্রিজারেটরে ৩৬ ধাপে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সিলভার ও কপারের সমন্বয়ে স্ট্রং ডিউডেরাইজারের ফলে রেফ্রিজারেটরের ভেতরে দুর্গন্ধ হয় না। বিদ্যুৎ চলে গেলেও ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরের খাবার ভালো থাকে। তবে রেফ্রিজারেটরের দরজা খোলা রাখা যাবে না। রেফ্রিজারেটরে মাছ, মাংস, আইসক্রিম রাখলে সেগুলো এক মাস পরও একই রকম স্বাদ থাকে। শার্পের সব রেফ্রিজারেটরেই স্ট্যাবিলাইজার বা ইউপিএস বিল্টইন করা থাকে। অল্প ভোল্টেজে অর্থাৎ ১৩৫ ভোল্টেজেও ফ্রিজ চালানো যায়।
এলজি
কোরবানি ঈদ উপলক্ষে বাটারফ্লাই কোম্পানি এলজি রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজ সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করছে। এছাড়া তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড ইকোপ্লাসের আধুনিক প্রযুক্তির রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন মডেলের ফ্রিজগুলোয় ক্রেতারা কম্প্রেসরে ১০ বছর ওয়ারেন্টি, দুই বছরের ফ্রি সার্ভিস এবং স্পেয়ার পার্টসে দুই বছরের ওয়ারেন্টি পাবেন। এলজি রেফ্রিজারেটর সর্বনিম্ন ২৯ হাজার ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ডিপ ফ্রিজ সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩১ হাজার ৯০০ টাকায় কিনতে পারবেন ক্রেতারা। এছাড়া ইকোপ্লাস রেফ্রিজারেটর সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৪ হাজার ৭৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ব্র্যান্ডের ডিপ ফ্রিজ সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১২ হাজার ৬৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মাইওয়ান
কোরবানি ঈদের বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে আধুনিক মানের মিনিস্টার মাইওয়ান ফ্রিজ। ঈদ উপলক্ষে তাদের দুটি অফার চলছে। একটা হলো এক্সচেঞ্জ অফার অর্থাৎ পুরনো যেকোনো কোম্পানির যেকোনো সাইজের সচল ফ্রিজ এক্সচেঞ্জ করে মিনিস্টারের নতুন ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে। আরেকটি হলো শতভাগ ফ্রি অফার। এছাড়া ক্রেতাদের রেফ্রিজারেটরের সঙ্গে স্ক্র্যাচ কার্ড দেয়া হচ্ছে। এতে নিশ্চিত একটা পুরস্কার রয়েছে। স্ক্র্যাচ কার্ডে সর্বোচ্চ শতভাগ ফ্রি অফার থাকছে।
বাজারে মিনিস্টার রেফ্রিজারেটরের ৩০টির ওপর মডেল আছে। ফ্রিজগুলো সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ২২২ থেকে ৩৫০ লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার ফ্রিজ আছে।
মিনিস্টারের রেফ্রিজারেটরে কোনো রকম আঠা ব্যবহার করা হয় না। তাই গন্ধ হয় না। আধুনিক কুলিং সিস্টেম ব্যবহারের ফলে রেফ্রিজারেটরের প্রতিটি স্তরে যেখানে যে রকম তাপমাত্রা থাকা উচিত, সেখানে সে রকম তাপমাত্রা থাকছে। মিনিস্টারের রেফ্রিজারেটরে গ্লাস ডোর ব্যবহার হয়, ফলে রেফ্রিজারেটরের ডোরে মরিচা ধরবে না। রেফ্রিজারেটরে ১২ বছরের গ্যারান্টিও দেয়া হচ্ছে। ফ্রিজগুলো ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো, ফ্রিজে বিল্টইন স্ট্যাবিলাইজার।






