রেহমান সোবহান আমাদের শ্রেণীভুক্ত ব্যক্তি নন। আমি মফস্বল শহরের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়েছি। চলাফেরা, মনমানসিকতা, অনুভব-অনুধাবন এবং প্রকাশভঙ্গিতে অর্ধেক শহুরে অর্ধেক গেঁয়ো ভাব। ইংরেজিতে মোটামুটি শুদ্ধভাবে লিখতে পারি, বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা ভালোই পড়া আছে। প্রতিদিন ‘ডেইলি অবজারভার’ মনোযোগ দিয়ে পড়ি। তবে ইংরেজি বইপত্র বড় একটা পড়িনি। শুদ্ধ ইংরেজিতে মফস্বলের ভঙ্গিতে বক্তৃতা দিই, নিজের কানেই তা ভালো লাগে না। বক্তৃতার গতি সচল নয়, উচ্চারণ সুন্দর নয়। সিনিয়রদের কয়েকজনের বক্তৃতা আরো শ্রুতিমধুর, শব্দ চয়ন আরো ভালো, কেমন যেন সাহেব সাহেব ভাব আছে। বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীরা সাহস জোগায়, বলে কয়েক মাসের মধ্যে আমার বক্তৃতাও অমন সুন্দর হয়ে যাবে। আমি আশ্বস্ত হই। নিজেকে আরো পরিপাটি করে তোলার জন্য সচেষ্ট থাকি।
এ সময় চোখে পড়ে বিভাগের অন্যতম সিনিয়র অনুষদ সদস্য জনাব রেহমান সোবহানকে। ফরসা, মাঝারি উচ্চতার গাট্টা-গোট্টা গড়নের এক টগবগে ব্যক্তি। চোখে চশমা, চুলহীন মাথার এ শিক্ষককে (তখন তিনি ‘রিডার’) কোনোভাবেই যুবক মনে হয়নি। বড়সড় একজন মাতবর গোছের সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি মনে হয়েছে। পরে হিসাব করে দেখেছি আসলে তখন তিনি ত্রিশোর্ধ্ব এক যুবক মাত্র। এ লোক অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলেন, কেমন যেন ধমক দিয়ে প্রশ্ন করেন এবং ভরা পায়ে করিডোর কাঁপিয়ে হেঁটে চলেন। অনেকের মতো আমিও তাঁকে অজানা শ্রদ্ধা এবং ভয় নিয়ে সমীহ করে চলি। আতঙ্কে থাকি, কখন এ লোক আমাদের ‘কোর্স টিচার’ হয়ে আসবেন। এরই মধ্যে ‘হলিডে’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় করেসপনডেন্ট হিসেবে কাজ করে কিছুটা আত্মবিশ্বাস ও অহমিকা সঞ্চয় করেছি। বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদের আমি কাছের মানুষ। তাঁর সাহচর্যে থেকে নিজেকে অল্প অল্প জ্ঞানী ভাবতে শুরু করেছি। একটা ধারণা হয়েছে, ইংরেজি আর অংকে গ্রহণযোগ্যমানের ভালো হলে তাকে আর আটকায় কে? শুদ্ধ ইংরেজিতে সুন্দর সুন্দর বাক্য রচনা করে যেকোনো পরীক্ষা পার হয়ে যাব।
এ সময় রেহমান সোবহান এলেন ‘ইকোনমিক হিস্ট্রি’ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে। একই ধারায় ইংরেজিতে অনর্গল বক্তৃতা দেন। তাঁর বক্তৃতা কিছুটা বুঝি, কিছুটা বুঝি না। তবে শুনতে ভালোই লাগে। ক্লাসের বক্তৃতা তো গেল। সমস্যা হলো, টিউটোরিয়াল নিয়ে। এ লোক একটা টিউটোরিয়াল ক্লাসও মিস করেন না। টিউটোরিয়াল ক্লাসে প্রত্যেককে আলাদাভাবে অ্যাসাইনমেন্ট দেন এবং জনকে জনকে প্রশ্ন করেন। তাঁকে ফাঁকি দেয়া সহজ কাজ নয়। মোটা চশমার ফাঁক দিয়ে তাঁর শ্যেন দৃষ্টি। মাঝে একবার তিনি ক্লাসের তারিখে চট্টগ্রাম ছিলেন। কিন্তু যাওয়ার আগে ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ দিয়ে গেলেন এবং চট্টগ্রামে বসে আমাদের কাজের অগ্রগতি মনিটরিং করছিলেন। ফিরে এসে আমাদের লেখা উত্তরগুলো পরীক্ষা করে মন্তব্য করলেন। আমার খাতায় লিখলেন, ‘অষষ ত্যবঃড়ত্রপং, াবত্ু ষরঃঃষব ংঁনংঃধহপব’। আমার জীবনে এ রকম মন্তব্য আগে দেখিনি। শুদ্ধ ইংরেজিতে আগে যা-ই লিখেছি, মাস্টাররা খুশি হয়ে তাতে ভালো নম্বর বসিয়ে দিতেন। মন্তব্যটি যথার্থ হলেও সে বয়সে আমার গেঁয়ো-শহুরে মন একে ভালোভাবে নিতে পারেনি। ‘বেটা মাওরা’ বলে গালি দিয়ে উল্টেপাল্টে আমার উত্তরপত্র আবার দেখলাম। রাগের মাথায় গালি দিলেও বুঝতে পারলাম যে, এ মাস্টার ভারি চালাক, তাঁকে ফাঁকি দেয়া যাবে না। ভালোভাবে পড়াশোনা করে প্রশ্ন নির্দিষ্ট তথ্যবহুল যুক্তিনির্ভর উত্তর লিখতে হবে। যুক্তি ও বিশ্লেষণ দিয়ে উত্তর লেখার ব্যাপারে এ আমার প্রথম সবক। তাঁর এ তির্ষক মন্তব্য সারা জীবন মনে রাখতে চেষ্টা করেছি। উপকৃত হয়েছি।
দিন কেটেছে। আমরা অনার্স পাস করে বিভাগের সিনিয়র ছাত্র হিসেবে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছি। যত দূর মনে পড়ে, রেহমান সোবহান এ সময় ‘আমেরিকান ইকোনমিক হিস্ট্রি’ নামে একটি কোর্স পড়াতেন। একইভাবে বক বক করে সারাক্ষণ ইংরেজিতে বলে যেতেন। শুনতে ভালোই লাগত। আমি বোধহয় এ কোর্সটি নিইনি। তবু মাঝে মধ্যে শুধু ইংরেজিতে তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য ক্লাসে গিয়ে বসতাম। এভাবেই দেখতে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করলাম। চাকরি নিয়ে লাহোর একাডেমিতে গেলাম। ট্রেনিং শেষ করে যশোর জেলায় যখন সহকারী কমিশনার হিসেবে চাকরি করছি, তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। যুদ্ধে যোগ দিয়ে নানা আনন্দ, বেদনা, বিপদ-আপদের মধ্য দিয়ে প্রায় দুই মাস সময় দেশের ভেতরে কাটিয়ে মে ’৭১ সালে কলকাতায় প্রবাসী সরকারে যোগ দিলাম। সেখানে দু-একটি মিটিংয়ে বড় বড় নেতাদের সঙ্গে রেহমান সোবহানকে কথা বলতে দেখেছি। আমার সঙ্গে তাঁর কোনো কথাবার্তা হয়নি। শুনেছি, তিনিও নানা বিপদ-আপদ ঠেলে অবশেষে কলকাতা পৌঁছেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বমত সংগ্রহের জন্য বিদেশ যাবেন। যদিও আমি মুজিবনগর সচিবালয়ে কাজ করেছি, পুরো যুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি। আমার মনে হয় কুশল বিনিময়ও হয়নি।
যুদ্ধ শেষে কয়েক মাসের মধ্যে আমি মাঠ প্রশাসনে কাজ করতে প্রথমে জামালপুর মহকুমা (এখন জেলা) এবং পরবর্তীকালে ময়মনসিংহে চলে গিয়েছি। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হওয়ার পর রেহমান সোবহান কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে ইআরডির উপসচিব পদে আমাকে বদলি করা হয়। ইআরডি তখন পরিকল্পনা কমিশনের আওতাধীন। আমাদের অফিস কাছাকাছি। মাঝে মধ্যে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। আমি কোনো রকমে সালাম দিয়ে কেটে পড়তে চেষ্টা করি। আসলে রেহমান সোবহানের সঙ্গে লম্বা কথা বলার সাহস বোধহয় তখনো আমার হয়নি। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমার মুখ দিয়ে ইংরেজি আসত না। মনে হতো, এখনই একটা ভুল ধরে হয়তো ধমক দিয়ে বসবেন। ছাত্রাবস্থার শ্রদ্ধা-মিশ্রিত ভয়ভীতি তখনো কাটেনি, যদিও শুনেছি আসলে তিনি খুব ভালো মানুষ। ছাত্রদের প্রতি অসীম স্নেহবত্সল। তবু মনে হতো আপাতত দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
১৯৭৭ সালের শেষার্ধে আমি উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র গমন করি। এরই মধ্যে রেহমান সোবহান পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসে যোগ দিয়েছেন। এটাই বলতে গেলে তাঁর মূল প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসের (পিআইডিই) অনুকরণে প্রফেসর নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে রেহমান সোবহানসহ কয়েকজন প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) গড়ে তোলেন। সরকারের আওতাধীন হলেও এটি কাঠামোগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমরূপ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা এখানে সীমিত রেখে রেহমান সোবহান প্রসঙ্গে যেতে চাচ্ছি। ১৯৮০ সালের কাছাকাছি কোনো একসময় রেহমান সোবহান বোস্টন গমন করেন। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ছাত্রদের ডরমিটরি ‘ওয়ারেন হলে’ আমরা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী ছাত্র পরিবার নিয়ে বসবাস করতাম। আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ সরকারের চাকুরে এবং রেহমান সোবহানের সাবেক ছাত্র। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র ছিলেন হারুন ভাই (ড. হারুনুর রশিদ) ও ফরাস ভাই (ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন)। আমরা দুই রুমবিশিষ্ট ‘স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে’ থাকতাম। রেহমান সোবহান পুরো দিন অর্থাত্ বার-চৌদ্দ ঘণ্টা এ দুই অ্যাপার্টমেন্টে সময় কাটিয়েছেন। বলা যায় দুই অ্যাপার্টমেন্টে আড্ডা জমেছে। আমরা সে আড্ডায় শামিল হয়েছি।
রেহমান সোবহান প্রাণ খুলে সে আড্ডায় অংশ নিচ্ছিলেন। প্রাণপুরুষ হিসেবে তিনি সে আড্ডাকে জমিয়ে রেখে ছিলেন। এত বছর পর রেহমান সোবহানকে আমি অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে কাছ থেকে দেখতে পেলাম। তারও চেয়ে বড় কথা, জানতে ও বুঝতে পারলাম। প্রাণখোলা লোক রেহমান সোবহান। তাঁর মধ্যে কোনো কপটতা নেই, কৃত্রিমতা নেই, অহমিকা নেই এবং কোনো ব্যক্তির প্রতি (ব্যক্তিগত) বিদ্বেষ নেই। আমাদের প্রতি তাঁর রয়েছে অসীম স্নেহ ও সহানুভূতি। আমার ধারণা ছিল, রেহমান সোবহান আমাকে চেনেন না, কারণ আমার সঙ্গে তাঁর কোনো দিন আলাপ-আলোচনা হয়নি। দেখলাম তিনি প্রায় সবাইকে ভালোভাবে চেনেন; আমাদের সম্পর্কে অল্প-বিস্তর খোঁজখবরও রাখেন। এত কাছে বসে বাংলা-ইংরেজিতে কথা বলতে পেরে তাঁর সঙ্গে কথা বলার জড়তা কেটে গেল। আমরা তখন মুক্ত পরিবেশে কথা বলছি; উচ্চারণ, শব্দ চয়ন, বাক্যবিন্যাসের প্রতি দুরুদুরু মনে সজাগ থাকছি না। রেহমান সোবহান স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁর বক্তব্য রাখছেন, আমাদের বলার সুযোগ দিচ্ছেন। ছাত্র-শিক্ষকের সেই অবারিত আড্ডায় আমরা যে কী আনন্দ পেয়েছিলাম, তা বলে বোঝানো যাবে না। আজো মনে হয়, সে রকম আড্ডার যদি আরো একটি সুযোগ পাওয়া যেত, তবে কত আনন্দই না হতো!
দেশে ফিরে রেহমান সোবহানের সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে। আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এখন আমি তাঁর সঙ্গে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারি। তাঁর প্রশ্ন করাকে আগের মতো ভয় পাই না, যদিও উত্তর দিতে গিয়ে একটু সজাগ থাকি। মনে হয় ভুল উত্তর হলে হয়তো একটা ধমক খেতে হবে। রেহমান সোবহান আসলে ধমক দেন না। তিনি আদর করে গলা খেঁকিয়ে জোরে কথা বলেন। এটি তাঁর স্বাভাবিক প্রকাশভঙ্গি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন ছাড়া রেহমান সোবহান মূলত দুটি সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন: বিআইডিএস এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রথমটি আধা-সরকারি সংস্থা এবং দ্বিতীয়টি বেসরকারি সংগঠন। দুই পদেই তিনি সফল ব্যবস্থাপক ও সংগঠক হিসেবে অমোচনীয় স্বাক্ষর রেখেছেন। আমার ধারণা, তাঁর ঐন্দ্রজালিক স্পর্শে সিপিডির মতো অনন্যসাধারণ একটি গবেষণা সংস্থা নিজ গৌরবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। আগে উন্নয়ন-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত, বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশন, বিবিএস এবং বিআইডিএসের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। তারা যা বলত, তাতে ভুল থাকলেও আমাদের বলার কিছু ছিল না। রেহমান সোবহানের নেতৃত্বে সিপিডি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আমরা অধিকতর নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ পেতে শুরু করলাম। এখন অর্থনীতির অবস্থান (ঝঃধঃঁং) জানার জন্য নাগরিক সমাজ সিপিডি এবং এরূপ দু-একটি বেসরকারি সংগঠনের ওপর নির্ভর করে। সরকার ইচ্ছামতো যেকোনো তথ্য-উপাত্ত পরিবেশন করে আগের মতো পার পায় না। মানুষ এখন সুযোগ পেলেই বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ করে বসে। রেহমান সোবহান সিপিডির কর্ণধার না হলে শুধু সিপিডি নয়, বেসরকারি খাতের অন্যসব গবেষণা প্রতিষ্ঠান সম্মানীয় পর্যায়ে উঠে আসতে পারত কিনা, যথেষ্ট সন্দেহ আছে। দেশের অর্থনীতির কর্মকাণ্ডের যে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের ফোরাম রেহমান সোবহান তৈরি করেছেন, তার জন্য জাতি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এজন্য তাঁকে কম মূল্য দিতে হয়নি। মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে, কোর্ট-কাচারিতে টানাহেঁচড়া করে তাঁকেসহ সিপিডি বোর্ডের সদস্যদের হেনস্তা করা হয়েছে। সুখের বিষয়, দেশের মানুষ তাঁদের পেছনে ছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে যারা মামলা দিয়েছিল, সেসব ব্যক্তিকে সবাই ধিক্কার দিয়েছে। রেহমান সোবহান ও তাঁর সহকর্মীদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা-সমর্থন বেড়েছে।
সাংগঠনিক কাজের বাইরে চলেছে রেহমান সোবহানের একনাগাড়ে জ্ঞানসাধনা এবং জ্ঞানের বিচ্ছুরণ। শুধু পড়াশোনা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। করেছেন প্রচুর লেখালেখি। প্রকাশ করেছেন অনেক জ্ঞানগর্ভ বই। বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, রাউন্ড টেবিল এবং সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। উপস্থিত সুধীজনকে তাঁর যুক্তিসমৃদ্ধ সম্মোহনী বক্তব্য-বক্তৃতায় মোহিত করেছেন। জ্ঞান আহরণ ও বিতরণে তাঁর ক্লান্তি-শ্রান্তি নেই। নিজ বিশ্বাসে অটল, চির তরুণ, চির ছাত্র, চির শিক্ষক রেহমান সোবহান চলেছেন জ্ঞানের প্রদীপ হাতে। সেই প্রাচীনকাল থেকে এমন প্রদীপ হাতে হেঁটেছিল জ্ঞান-তাপসের দল। শত বিপদ-আপদ, ঝড়-ঝঞ্ঝা, দমন-পীড়নের মধ্যেও হাতের প্রদীপ তারা ছাড়েনি। আমার বিশ্বাস, রেহমান সোবহানের হাতের প্রদীপ কোনো দিন নিভবে না। প্রদীপ হাতে এগিয়ে যাব আমরা তাঁর গুণগ্রাহী ছাত্রের দল।
লেখক: বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব






