অধ্যাপক রেহমান সোবহান বিআইডিএসের চেয়ারম্যান/মহাপরিচালক ছিলেন দীর্ঘদিন। তিনি অনেক প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকতা করেছেন, গবেষণা করেছেন বা সেখানে কর্ণধার হয়েছেন— সর্বত্রই তিনি নানা ধরনের অবদান রেখেছেন। আমার এই ছোট্ট লেখায় আমি শুধু বিআইডিএসের একজন তরুণ গবেষক হিসেবে যখন ঢুকেছিলাম, তখনকার প্রেক্ষাপটে কিছু বক্তব্য রাখব।

এ প্রতিষ্ঠানকে দৃঢ় ভিত্তিতে দাঁড় করানোর জন্য তিনি উদ্যোগী হয়ে অনেক কিছু করেছেন। তার একদিক ছিল তরুণ গবেষকদের উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গমনে উত্সাহিত করা।

অন্যদিকে তিনি সবসময় তাদের গবেষণাকাজের অগ্রগতি বিষয়ে খোঁজ নিতেন, আলোচনা করতেন। গবেষণার প্রথম যে ধাপ, বিষয় নির্বাচন, সেখানে তিনি সহায়তা করতেন। নতুন কোন প্রসঙ্গে গবেষণা করা উচিত, সেদিকে তিনি ইঙ্গিত করতেন। তা থেকে আমরা ‘আইডিয়া’ খপ করে ধরে ফেলার চেষ্টা করতাম। আমি অন্তত সেভাবে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি।

গবেষকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে তাঁর ছিল কড়া দৃষ্টি। বিআইডিএসে তখন সাপ্তাহিক সেমিনার হতো। প্রতি মাসে সব গবেষককে নিয়ে একটি সভা হতো। সেগুলোয় কেউ অনুপস্থিত থাকলে তাঁর দৃষ্টি এড়াত না। পরে তাকে কড়াভাবে জিজ্ঞেস করতেন, ‘কী, তোমাকে তো দেখা যায়নি।’ সুতরাং ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করা কমই হতো।

তবে কারো কোনো সমস্যা হলে, তা সেটা ব্যক্তিগত হোক বা পেশাগত হোক, সেটা সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে দেখেছি তাঁকে।

আমাদের এক সহকর্মীর (নিবারণদা) অকালমৃত্যুর পর আমরা সবাই তার বাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বিআইডিএসের মহাপরিচালক হিসেবে শুধু নয়, আপনজনের মতো তার মাকে যেভাবে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তা এখনো আমার কানে বাজে।

 

লেখক: নির্বাহী চেয়ারপারসন, সিডার

সাবেক গবেষণা পরিচালক, বিআইডিএস