ভূমিকা
বিগত
সময়কালে
অনুসৃত
কৃষি
ও
খাদ্যনীতিতে
যে
সংস্কার
সাধিত
হয়েছে,
তা
ঐতিহাসিক
দৃষ্টিকোণ
থেকে
আলোচনা
করা
যায়।
১৯৬০
সালের
কৃষি
কমিশনের
সুপারিশের
মাধ্যমে
কৃষিতে
উৎপাদনের
আধুনিক
উপকরণ
প্রচলনের
সরকারি
প্রচেষ্টার
সূত্রপাত
হয়।
একই
কমিশনের
সুপারিশক্রমে
১৯৬৩
সালে
পূর্বপাকিস্তান
কৃষি
উন্নয়ন
করপোরেশন
(ইপিএডিসি) নামক
আধা
সরকারি
প্রতিষ্ঠান
গঠন
করা
হয়।
কৃষি
উপকরণ
(যেমন সার,
বীজ,
কৃষি
যন্ত্রপাতি
ও
কীটনাশক
দ্রব্য)
সংগ্রহ
ও
বিতরণের
দায়িত্ব
ইপিএডিসিকে
প্রদান
করা
হয়।
ইপিএডিসি
স্বল্প
সময়ের
মধ্যে
কৃষকদের
কাছে
কৃষি
উপকরণ
বিতরণের
একটি
বিস্তৃত
নেটওয়ার্ক
গড়ে
তোলে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী
সময়ে
ইপিএডিসির
নামকরণ
করা
হয়
বিএডিসি
অর্থাৎ
বাংলাদেশ
কৃষি
উন্নয়ন
করপোরেশন।
কৃষি
উপকরণের
বাজারে
ইপিএডিসি
একচেটিয়া
প্রভাব
বিস্তার
করলেও
সরকার
প্রণীত
বাজার
মূল্য
ও
তত্সংশ্লিষ্ট
নীতিসমূহ
অনুসরণ
করে
কার্যক্রম
পরিচালনা
করত।
প্রাক-উদারনীতিকরণ সময়
বিএডিসি
প্রতিষ্ঠার
পর
থেকেই
কৃষকরা
উল্লেকযোগ্য
হারে
রাসায়নিক
সার
ব্যবহার
শুরু
করেন।
১৯৭৭-৭৮
সালে
বিএডিসি
৭
দশমিক
২৫
লাখ
টন
সার
বিক্রয়
করে,
যার
বেশির
ভাগই
ছিল
ইউরিয়া।
এই
সার
ট্রানজিট
গুদাম
ও
থানা
বিক্রয়
কেন্দ্রে
(টিএসসি) পরিবহন
করা
হতো।
থানা
বিক্রয়
কেন্দ্র
পাইকারি
ও
খুচরা
বিক্রয়
কেন্দ্র
হিসেবে
কাজ
করত।
কেননা
টিএসসি
যেমন
কৃষকের
কাছে
সরাসরি
বিক্রয়
করত,
তেমনি
ডিলারদের
কাছেও
বিক্রয়
করত,
যাতে
ডিলাররা
আবার
কৃষকের
কাছে
খুচরা
দরে
বিক্রি
করতে
পারে।
ডিলাররা
অবশ্য
নির্ধারিত
এলাকার
বাইরে
বিক্রি
করতে
পারত
না।
নির্ধারিত
থানা
বিক্রয়
কেন্দ্র
থেকে
সার
সংগ্রহ
করে
সরকার
কর্তৃক
নির্ধারিত
মূল্যে
কৃষকদের
মাঝে
বিক্রয়
করত।
তবে
থানা
বিক্রয়
কেন্দ্র
ও
খুচরা
বিক্রয়
কেন্দ্রের
মাঝে
দূরত্বের
ভিত্তিতে
সরকার
নির্ধারিত
মূল্যের
ওপর
কমিশনের
ব্যবস্থা
ছিল।
কমিশন
বাদে
অবশ্য
সারা
দেশের
সারের
দাম
ছিল
অভিন্ন।
এ
ব্যবস্থা
মাত্রাতিরিক্ত
আমলাতান্ত্রিক
নিয়ন্ত্রণের
কারণে
নানাবিধ
সমস্যার
সম্মুখীন
হয়।
সেচের বিকাশ
ও
সেচের
পানির
বিপণন
পদ্ধতি
তিনটি
পর্যায়ে
ধারাবাহিকভাবে
বিকাশ
লাভ
করে।
আমলাতান্ত্রিক
ব্যবস্থাপনায়
সরকারি
মালিকানা,
সমবায়
ভিত্তিক
ব্যবস্থাপনায়
সরকারি
মালিকানা
এবং
বেসরকারি
মালিকানাধীন
প্রতিযোগিতামূলক
সেচ
পানির
বাজার
(Water
Market) ১৯৫০
দশকের
শেষার্ধে
আধুনিক
সেচ
ব্যবস্থার
প্রবর্তনকালে
সরকার
ব্যাপকহারে
ভূ-উপরিস্থ
পানিভিত্তিক
বৃহদায়তন
সেচ
প্রকল্পের
ওপর
গুরুত্বারোপ
করে।
কিন্তু
এ
প্রকল্পগুলো
বাস্তবায়নের
দীর্ঘ
সময়ক্ষেপণ
এবং
পরিচালন
ও
রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত
বিবিধ
সমস্যার
সম্মুখীন
হতে
হয়।
সময়ের
পরিক্রমায়
সরকার
ক্ষুদ্রায়তন
সেচ
প্রকল্পের
প্রতি
নজর
দেয়,
যেমন
ভূ-উপরিস্থ
পানি
ওঠানোর
ক্ষেত্রে
পাওয়ার
পাম্প
(এলএলপি) এবং
ভূগর্ভস্থ
পানি
উত্তোলনে
টিউবওয়েল
ব্যবহার।
১৯৭৯-৮০
সাল
পর্যন্ত
বিএডিসি
ও
বাংলাদেশ
কৃষি
ব্যাংকের
(বিকেবি) মাধ্যমে
ক্ষুদ্র
সেচ
সরঞ্জামাদি
সংগ্রহ
ও
সরবরাহ
করা
হতো।
এক্ষেত্রে
বিএডিসি
সব
ধরনের
সেচ
সরঞ্জামাদি
এবং
বাংলাদেশ
কৃষি
ব্যাংক
ঋণ
সহায়তা
প্রদানের
মাধ্যমে
আগ্রহী
কৃষকদের
কাছে
অগভীর
নলকূপ
বিক্রয়
করত।
ষাটের
দশকে
সেচ
পাম্প
সংগ্রহ
ও
রক্ষণাবেক্ষণ
এবং
গভীর
নলকূপ
স্থাপনে
বিএডিসির
একক
আধিপত্য
ছিল।
বিএডিসি
কর্তৃক
নির্ধারিত
ফির
বিনিময়ে
সেচ
সমবায়ীদের
সেচযন্ত্র
মৌসুমভিত্তিক
ভাড়া
দিত।
সত্তরের
দশকে
কৃষক
সমবায়
সমিতিগুলোকে
সেচযন্ত্রপাতির
পরিচালন
ও
রক্ষণাবেক্ষণের
দায়িত্ব
প্রদান
করা
হয়।
এ
ব্যবস্থা
সরকার
কর্তৃক
বিএডিসি
মালিকানাধীন
সেচ
যন্ত্রপাতি
পর্যায়ক্রমে
বেসরকারীকরণের
সিদ্ধান্ত
গ্রহণের
আগ
পর্যন্ত
অর্থাৎ
১৯৭৮-৭৯
সাল
পর্যন্ত
চালু
ছিল।
দেশে বিদ্যমান
ক্ষুদ্রায়তনের
ও
বিক্ষিপ্ত
জমিতে
সেচ
প্রদানের
অগভীর
নলকূপ
কার্যকর
প্রযুক্তি
হিসেবে
অনুধাবনের
কারণে
সরকার
আশির
দশকের
গোড়ার
দিকে
বেসরকারি
খাতকে
অগভীর
নলকূপ
আমদানি
ও
ব্যবসার
অনুমতি
প্রদান
করে।
কিন্তু
আমদানিকারকদের
সরকার
কর্তৃক
নির্ধারিত
মান
নিয়ন্ত্রণমূলক
বিভিন্ন
শর্তাদি
মেনে
চলতে
হতো;
যেমন
নির্দিষ্ট
ব্র্যান্ড
ও
মডেলের
সেচযন্ত্র
ক্রয়,
দুটি
গভীর
নলকূপের
মাঝে
ন্যূনতম
দূরত্ব
বজায়
রাখা
এবং
অগভীর
নলকূপ
স্থাপনের
জন্য
ভৌগোলিক
এলাকা
বিবেচনা
করা।
কাঠামোগত
সমন্বয়
নীতির
আওতায়
বাণিজ্য
উদারীকরণ
নীতি
বাস্তবায়নের
ফলে
সরকার
১৯৮৬
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানকে
৫০
শতাংশ
আমদানি
শুল্ক
প্রদানের
ভিত্তিতে
যেকোনো
ব্র্যান্ড
ও
মডেলের
ডিজেল
ইঞ্জিন
আমদানির
অনুমতি
প্রদান
করে।
১৯৮৮
সালে
ইউএনডিপির
অর্থায়নে
পরিচালিত
কৃষি
খাতবিষয়ক
সুপারিশ
অনুযায়ী
সরকার
ডিজেল
ইঞ্জিন
আমদানিতে
আরোপিত
শুল্ক
ও
মাননিয়ন্ত্রণমূলক
শর্তাদি
প্রত্যাহার
করে
নেয়
এবং
সরকারের
অনুমতি
ব্যতীত
কৃষি
সরঞ্জামাদি
আমদানির
সুযোগ
প্রদান
করে।
নব্বইয়ের
দশকের
গোড়ার
দিকে
আমদানি
শুল্ক
পুনরায়
আরোপ
করা
হলেও
শুল্কের
হার
আশির
দশকের
মাঝামাঝির
তুলনায়
অনেক
কম
ছিল।
বাংলাদেশে প্রচলিত
ব্যবস্থায়
কৃষকরা
নিজেদের
প্রয়োজনে
ব্যবহার
ও
বাজারে
বিক্রয়ের
জন্য
বীজ
উৎপাদন
করে
থাকেন।
তবে
যাদের
বীজের
প্রয়োজন
তারা
বাজার
থেকে
ক্রয়
করে
থাকেন।
অবশ্য
বীজ
উৎপাদনে
অনেকের
বিশেষ
পারদর্শিতা
রয়েছে।
এ
বীজ
সরবরাহ
ব্যবস্থা
কেবল
দেশীয়
কৃষকদের
মাঝেই
সীমাবদ্ধ
নয়
বরং
তা
বাংলাদেশ
ও
ভারতের
কৃষকদের
মধ্যেও
বিদ্যমান।
বিভিন্ন গবেষণা
প্রতিষ্ঠান
ও
কেন্দ্রে
উদ্ভাবিত
উন্ন
জাতের
বীজ
সরবরাহের
অন্য
চ্যানেলটি
হলো
সরকারি
সংস্থা।
বিভিন্ন
ফসলের
উন্নত
বীজ
উৎপাদন
ও
সরবরাহের
জন্য
বিএডিসি
প্রায়
১২টি
বীজ
উৎপাদন
কেন্দ্র
পরিচালনা
করে
থাকে।
বীজের
গুণগত
মান
নিশ্চিত
করতে
সরকার
বীজ
প্রত্যয়ন
ব্যবস্থা
চালু
করলেও
নিম্নমান
ও
সময়মতো
সরবরাহের
অপ্রতুলতার
কারণে
অনেক
সমালোচনার
সম্মুখীন
হয়েছে।
অতীতে
বিএডিসি
উচ্চফলনশীল
বীজের
আমদানি
করেছে;
যেমন
আলুর
উৎপাদন
বৃদ্ধিকল্পে
হল্যান্ড
থেকে
আলুবীজ
এবং
গমের
উৎপাদন
বৃদ্ধিকল্পে
মেক্সিকো
থেকে
গমবীজ
আমদানি
করে।
মুক্ত
ও
প্রতিযোগিতামূলক
আন্তর্জাতিক
বীজ
বাণিজ্য
প্রবর্তনে
বাজার
ব্যবস্থার
উদারীকরণ
হতে
পারে
কৃষিতে
প্রযুক্তিগত
উন্নয়ন
ও
উত্কর্ষ
সাধনে
এক
কার্যকর
পদ্ধতি।
কৃষি উপকরণ
বাজার ব্যবস্থার সংস্কার
সার
ও
সেচ
যন্ত্রপাতির
বাজার
উদারীকরণ
ছিল
সংস্কার
নীতির
অন্যতম
বৈশিষ্ট্য,
যা
উৎপাদন
বৃদ্ধিতে
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
রাখে।
সারের
বাজারে
বেসরকারি
বাণিজ্যের
ব্যাপক
প্রভাব
ছিল।
১৯৮৮
সালে
আট
হাজার
পাইকারি
বিক্রেতা
ও
৫০
হাজার
খুচরা
বিক্রেতা
প্রতিযোগিতামূলকভাবে
সারের
বাজারে
সক্রিয়
ছিল।
তথাপি
সার
আমদানির
ক্ষেত্রে
পুঁজিবাজারে
ব্যবসায়ীদের
প্রভেদমূলক
অভিগম্যতার
ফলে
আমদানি
বাণিজ্যকে
মুষ্টিমেয়
লোকের
মাঝে
সীমাবদ্ধ
রাখার
সংশয়
থেকেই
যায়।
১৯৯৫
সালের
সার
সংকটের
ফলে
নীতি
পরিবর্তন
বিশেষ
করে
বাংলাদেশের
সারের
বাজারের
ক্ষেত্রে
নীতি
সংস্কার
নিবিড়ভাবে
যাচাই
করা
একান্ত
প্রয়োজন।
১৯৯৫
সালের
সার
সংকট
সন্দেহাতীতভাবে
সরকারের
বাজার
হস্তক্ষেপের
প্রয়োজনীয়তার
নির্দেশ
করলেও
সরকারি
বাজারজাতের
পুরনো
মডেল
প্রবর্তনের
পক্ষে
কোনো
যুক্তি
খুঁজে
পাওয়া
যায়
না।
এখানে
যৌক্তিকভাবেই
প্রশ্ন
তোলা
যায়
যে
কেন
প্রতিযোগিতামূলক
সারের
বাজার
মাত্র
কয়েক
মাসের
ব্যবধানে
হঠাৎ
করে
ব্যর্থতায়
পর্যবসিত
হলো?
দেখা
গেছে
খুচরা
ও
পাইকারি
পর্যায়ে
প্রতিযোগিতামূলক
বাজার
ব্যবস্থা
বিরাজ
করলেও
ফ্যাক্টরি
গেট
সরবরাহ
ব্যবস্থায়
মুষ্টিমেয়
লোকের
দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত
বাজার
কাঠামো
ও
বৈশিষ্ট্য
লক্ষ
করা
যায়।
কিন্তু
বাজারের
শীর্ষ
পর্যায়ে
প্রতিযোগিতা
বজায়
না
থাকলে
যেকোনো
ধরনের
অসঙ্গতি
পুরো
বাজার
ব্যবস্থায়
দ্রুত
ছড়িয়ে
পড়ার
আশঙ্কা
থেকে
যায়।
অন্যদিকে চাহিদার
তারতম্য,
উৎপাদন
ক্ষেত্রে
economics
of scale, সার
কারখানা
প্রতিষ্ঠা
ও
সম্প্রসারণের
ঐতিহাসিক
কারণ:
ইত্যাদির
কারণে
শীর্ষ
পর্যায়ে
প্রতিযোগিতা
বজায়
রাখা
কঠিন।
এ।
সমস্যার
সমাধান
করা
যায়:
(১) ব্যবস্থাপনা
তদারকি
পদ্ধতি
চালুর
মাধ্যমে,
যা
আগেই
সমস্যাগুলো
শনাক্ত
করতে
পারে,
ফলে
নীতিনির্ধারকরা
প্রয়োজনীয়
সংশোধনমূলক
ব্যবস্থা
গ্রহণ
করতে
পারেন
এবং
(২) ফ্যাক্টরি
গেট
থেকে
সার
সরবরাহ
ও
মূল্যনির্ধারণের
ক্ষেত্রে
নিয়ন্ত্রণমূলক
ব্যবস্থা
প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে।
অধিকন্তু, সরকার
কর্তৃক
বাজার
নিয়ন্ত্রণ,
যেমন
সার
সংকটের
সময়
সার
বিতরণে
জেলা
প্রশাসকদের
ক্ষমতা
প্রদান
ছিল
একটি
উৎপাদনবিমুখ
প্রচেষ্টা।
দেশে
উৎপাদিত
সারের
মূল্যনির্ধারণ
প্রক্রিয়া
সাধারণত:
সরকার
নিয়ন্ত্রণ
করে
থাকে।
সংস্কার
প্রক্রিয়া
শুরু
হওয়ার
সময়
থেকে
ফসফেট
ও
পটাশজাত
সারের
ব্যবহার
নাইট্রোজেনজাত
সারের
(ইউরিয়া) তুলনায়
কমতে
শুরু
করে।
যেহেতু
দীর্ঘমেয়াদে
মাটির
গুণাগুণ
রক্ষায়
ফসফেট
ও
পাটাশজাত
সার
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা
পালন
করে,
সেহেতু
ইউরিয়া
সারের
তুলনায়
তাদের
ভর্তুকি
বেশি
দেয়া
এবং
মূল্য
কম
নির্ধারণ
করা
উচিত।
প্রকৃতপক্ষে, সার
সরবরাহ
ও
বিপণনে
সরকারি
হস্তক্ষেপের
শুরু
হয়
নব্বই
দশকের
মাঝামাঝি
সময়ে
বিশেষ
করে
১৯৯৫
সালের
সার
সংকটের
কারণে।
বাংলাদেশের
সার
সংকটের
ঘটনা
বিশেষ
করে
উচ্চ
চাহিদার
সময়ে
সংকট
সৃষ্টি
কোনো
অস্বাভাবিক
ব্যাপার
নয়,
তবে
বিশদ
গবেষণার
অভাবে
এ
ধরনের
সংকটের
পেছনে
এক
বা
একাধিক
কী
ধরনের
কারণ
রয়েছে
তা
স্পষ্ট
নয়।
উদাহরণস্বরূপ
বলা
যেতে
পারে
সরকার
যেখানে
বাজারের
অসম্পূর্ণতাকে
দায়ী
করে,
সেখানে
পাইকারি
বিক্রেতা
ও
অন্যরা
অতিরিক্ত
সরকারি
হস্তক্ষেপকেই
এ
সংকটের
জন্য
দায়ী
বলে
মনে
করে।
সার সংকট
সৃষ্টির
জন্য
নানাবিধ
কারণের
উল্লেখ
করা
যেতে
পারে।
যেমন
অপর্যাপ্ত
প্রাকৃতিক
গ্যাস
সরবরাহ
বা
অন্য
কোনো
কারিগরি
অসুবিধার
জন্য
দেশীয়
সার
উৎপাদন
হ্রাস,
প্রয়োজনীয়
সার
আমদানির
ঘাটতি
বা
বিলম্ব,
অরক্ষিত
সীমান্তপথে
দেশের
বাইরে
সারের
চোরাচালান,
অতি
মুনাফা
লাভের
জন্য
সার
ব্যবসায়ীদের
অসৎ
উদ্দেশ্য
এবং
অন্যান্য
কারণ।
২০০৮
সালের
সার
সংকটের
অন্যতম
প্রধান
কারণ
ছিল
ইউরিয়া
সারের
অপর্যাপ্ততা
এবং
নন-ইউরিয়া
সারের
উচ্চমূল্য।
এখানে
উল্লেখযোগ্য
যে
সার
বাজারে
প্রতিযোগিতার
মাত্রা
নির্বিশেষে
সরকারের
অতিরিক্ত
হস্তক্ষেপ
এবং
শিথিল
হস্তক্ষেপ
উভয়
সময়েই
সার
সংকটের
সৃষ্টি
হয়েছে।
এটা
সার
সরবরাহ
ব্যবস্থায়
গুরুত্বপূর্ণ
মোলিক
দুর্বলতা
নির্দেশ
করে,
এজন্য
প্রয়োজন
বিশদ
গবেষণা
ও
বিশ্লেষণ
এবং
যথাযথ
সরকারি
হস্তক্ষেপ।
সরকারের ভ্রান্তনীতি
ও
অহেতুক
হস্তক্ষেপ
প্রায়ই
সারের
বাজারে
অসঙ্গতি
তৈরি
করে।
যেসব
আইনকানুন,
বিধিবিধান
রয়েছে
সেগুলো
মাঠপর্যায়ে
কোন
কোন
সার
বিক্রয়
ও
বাজারজাত
করা
যাবে
তা
নির্ধারণ
করে
দেয়।
উপজেলা
পর্যায়ে
সারের
অবাধ
প্রবাহে
এবং
বেসরকারি
খাতের
যথাযথ
ভূমিকা
পালনে
বিঘ্ন
সৃষ্টির
পাশাপাশি
প্রত্যন্ত
এলাকায়
কৃষকদের
সেবা
প্রদান
ব্যাহত
করে।
অধিকন্তু
সারের
চাহিদা
নিরূপণ
করা
হয়
কেন্দ্রীয়
পর্যায়ে,
যা
বাস্তব
চাহিদাভিত্তিক
নয়।
বাংলাদেশ
ইন্ডাস্ট্রিজ
করপোরেশন
(বিসিক) ইউরিয়া
সার
আমদানির
একচেটিয়া
প্রভাব
বিস্তার
করে;
বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানের
কার্যত
কোনো
ভূমিকা
নেই
বললেই
চলে।
বিএডিসি
এবং
বাংলাদেশ
ফার্টিলাইজার
অ্যাসোসিয়েশন
টিএসপি
এমওপি
ও
ডিওপি
আমদানি
করে
থাকে।
ফলে
সার
আমদানির
ক্ষেত্রে
কোনো
সমন্বয়
না
থাকায়
সার
মজুদে
উদ্বৃত্ত
বা
ঘাটতি
দেখা
যায়।
সংস্কারের সবচেয়ে
বেশি
প্রভাব
সেচ
ব্যবস্থার
ওপর
পড়েছিল।
১৯৮৯
সালের
প্রথম
দিকে
চার-পাঁচ
হেক্টর
জমিতে
সেচের
উপযোগী
পাম্প
ও
ইঞ্জিনসমেত
একটি
পূর্ণাঙ্গ
অগভীর
নলকূপের
দাম
পড়ত
২০
হাজার
টাকা
বা
৬০০
মার্কিন
ডলার,
যা
ছিল
বিএডিসি
ভর্তুকিসহ
নির্ধারিত
মূল্যের
৬০
শতাংশের
সমান।
১৯৮৮-৯০
সময়কালে
সেচকৃত
বা
সেচের
আওতাভুক্ত
জমির
পরিমাণ
১৯৭৮-৮৬
সময়কালের
সেচকৃত
জমির
প্রায়
দ্বিগুণ।
সেচকাজে
পাওয়ার
টিলারের
ব্যবহার
কম
হলেও
আমদানি
উদারীকরণের
ফলে
এর
মূল্য
২
হাজার
৫০০
মার্কিন
ডলার
থেকে
কমে
১৮৮৯
সালে
১
হাজার
৬০০
মার্কিন
ডলার
হয়।
অবশ্য
আমদানি
পর্যায়ে
বিরাজমান
বাধাগুলো
দূরীভূত
হওয়ায়
পাওয়ার
টিলারের
ব্যবহারের
দ্রুত
সম্প্রসারণ
ঘটে।
বীজ
ও
কীটনাশক
দ্রব্যের
বাজার
উদারীকরণের
প্রভাব
স্বল্প
মেয়াদে
কম
হলেও
দীর্ঘমেয়াদে,
বিশেষ
করে
বীজের
ওপর
এর
প্রভাব
অনেক
বেশি
হওয়ার
সম্ভাবনা
রয়েছে।
উদারীকরণের প্রভাব
উদারীকরণের
দুই
ধরনের
প্রভাব
রয়েছে
(ক) উপকরণের
ব্যবহারের
মাত্রাগত
পরিবর্তনের
ফলে
কৃষি
উৎপাদনের
ওপর
প্রত্যক্ষ
প্রভাব
এবং
(খ) ভর্তুকি
হ্রাস
অথবা
প্রত্যাহারের
কারণে
বাজেট
বরাদ্দ
পুনর্বিন্যাসের
ফলে
কৃষি
ও
অকৃষি
পণ্য
উৎপাদনের
ওপর
পরোক্ষ
প্রভাব।
কৃষিক্ষেত্রে
উদারীকরণের
প্রত্যক্ষ
প্রভাব
আমাদের
প্রধান
আলোচ্য
বিষয়
হলেও
উৎপাদনের
উপকরণের
ওপর
ভর্তুকি
হ্রাসের
প্রভাব
সম্পর্কেও
এখানে
আলোচনা
করা
হবে।
সারের ওপর
ভর্তুকির
পরিমাণ
১৯৭৯-৮০
সালে
ছিল
১
হাজার
২৮৬
মিলিয়ন
টাকা
(৮৩ মিলিয়ন
ডলার),
১৯৮৩-৮৪
সালে
১
হাজার
৪৭৬
মিলিয়ন
টাকা
(৫৭ মিলিয়ন
ডলার),
১৯৮৮-৮৯
সালে
১
হাজার
২৭৩
মিলিয়ন
টাকা
(৪০ মিলিয়ন
ডলার)
এবং
১৯৯২-৯৩
সালে
মাত্র
২৫
মিলিয়ন
টাকা
(শূন্য দশমিক
ছয়
মিলিয়ন
ডলার)।
১৯৮৩-৮৪
সালে
সারের
ভর্তুকির
পরিমাণ
ছিল
কৃষি
ও
পল্লী
উন্নয়ন
ক্ষেত্রে
প্রদত্ত
মোট
বরাদ্দের
প্রায়
১৪
শতাংশ,
যা
১৯৭৯-৮০
সালে
মোট
বরাদ্দের
২৮
শতাংশ।
সুতরাং
সারের
বাজার
উদারীকরণের
ফলে
বাজেটে
ভর্তুকির
পরিমাণ
হ্রাস
ছিল
উল্লেখযোগ্য।
সেচ
ক্ষেত্রে
এ
ধরনের
ভর্তুকির
কোনো
তুলনামূলক
চিত্র
পাওয়া
যায়নি।
বিএডিসির
লো-লিফট
পাম্প
ও
অগভীর
নলকূপের
মাধ্যমে
সেচ
কর্মসূচিতে
১৯৭৯-৮০
ও
১৯৮৩-৮৪
সালে
ভর্তুকির
পরিমাণ
ছিল
যথাক্রমে
১
হাজার
৩৫
মিলিয়ন
টাকা
(৬৭ মিলিয়ন
ডলার)
ও
৮৩০
মিলিয়ন
টাকা
(৩০ মিলিয়ন
ডলার)।
১৯৮৬
সালে
বিএডিসির
লো-লিফট
পাম্প
ও
নলকূলের
ওপর
আরোপিত
ভর্তুকি
সম্পূর্ণরূপে
প্রত্যাহার
করা
হয়।
বাংলাদেশে বাজার
ব্যবস্থা
সংস্কারের
প্রভাবসংক্রান্ত
গবেষণার
স্বল্পতা
রয়েছে।
নব্বই
দশকের
শেষার্ধে
ধান
উৎপাদনের
ওপর
কৃষি
উপকরণের
বাজার
সংস্কারের
প্রভাব
নিয়ে
আইএফপিআরআই
কর্তৃক
গবেষণা
পরিচালিত
হয়।
এ
গবেষণায়
বহু-সমীকরণভিত্তিক
মডেল
ব্যবহার
করে
উপকরণের
বাজার
উদারীকরণের
প্রত্যক্ষ
প্রভাব
নিরূপণ
করা
হয়
যেখানে
একটি
প্রতিরূপক
চলকের
মাধ্যমে,
প্রাক-উদারীকরণ
এবং
উদারীকরণের
পার্থক্যের
চিত্র
তুলে
ধরা
হয়েছে।
গবেষণা
থেকে
দেখা
গেছে,
১৯৮৪-৯২
সময়কালে
ধান
উৎপাদনে
সফলতার
মূল
কারণ
ছিল
সার
ও
সেচ
বাজার
ব্যবস্থার
সংস্কার
সাধন।
এ
সংস্কার
কর্মসূচি
বাস্তবায়নের
ফলে
ধানের
উৎপাদন
২০-৩২
শতাংশ
পর্যন্ত
বাড়ে।
এ
উৎপাদন
বৃদ্ধিতে
মূলত
সার
ব্যবহার
এবং
বেসরকারি
পর্যায়ে
সেচ
ব্যবস্থা
সম্প্রসারণের
অবদান
ছিল
সবচেয়ে
বেশি।
বস্তুতপক্ষে
বাংলাদেশে
কৃষি
উৎপাদনের
উপকরণের
বাজারে
সরকারি
হস্তক্ষেপ
নীতির
পরিবর্তন
না
হলে
খাদ্যশস্যের
স্বল্পতার
ফলে
উচ্চমূল্য
বিরাজ
করত।
উদারীকরণ প্রভাবের
যথাযথ
পরিমাণ
নির্ণয়ের
চেয়ে
এর
গতিবিধি
নিরূপণ
করাই
ছিল
উপরোক্ত
আলোচনার
মূল
উদ্দেশ্য।
এ
প্রসঙ্গে
কতিপয়
প্রশ্ন
কৃষিনীতি
প্রণয়নের
ব্যাপারে
প্রতিধানযোগ্য:
(ক) কৃষিক্ষেত্রে
প্রবর্তিত
বাজার
সংস্কার
ব্যবস্থা
টেকসই
করতে
এবং
প্রক্রিয়াটি
সম্পন্ন
করতে
আর
কী
পদক্ষেপ
নেয়া
যেতে
পারে?
কৃষি
বাজারে
সরকারের
ভূমিকা
কী
হওয়া
উচিত?
(খ) কৃষি
খাতের
প্রবৃদ্ধি
ত্বরান্বিত
করতে
বাজার
সংস্কার
কি
যথেষ্ট?
যদি
যথেষ্ট
না
হয়,
তাহলে
আর
কী
পদক্ষেপ
নেয়া
যেতে
পারে?
(গ) যদি
সংস্কার
কর্মসূচি
বাস্তবায়ন
করা
হয়
এবং
কৃষি
বাজার
প্রতিযোগিতামূলকভাবে
চালু
থাকে,
তাহলে
বার্ষিক
৩-৪
শতাংশ
হারে
কৃষি
প্রবৃদ্ধি
অর্জনে
কি
তা
যথেষ্ট
হবে?
কেবল
বাজার
সংস্কার
কর্মসূচি
যদি
সাফল্যের
সঙ্গে
বাস্তবায়ন
করা
হয়,
তাহলেও
বার্ষিক
৪
শতাংশ
হারে
কৃষি
প্রবৃদ্ধি
অর্জনে
সহায়তা
করবে
কিনা
তা
নিয়ে
সংশয়
রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি
বৃহৎ
ও
টেকসই
জোগান
প্রতিক্রিয়া
নির্ভর
করে
মৌলিক
কাঠামোগত
উপাদানের
ওপর,
যা
কৃষি
উৎপাদনকারীরা
বিচ্ছিন্ন
প্রচেষ্টার
মাধ্যমে
অর্জন
করতে
অপারগ।
অতীত খাদ্যনীতির মূল্যায়ন
প্রধান
খাদ্যশস্য
উৎপাদনে
প্রণোদনা
প্রদানে
১৯৭০
দশকের
শেষার্ধে
সরকার
ধান
ও
গমের
ক্ষেত্রে
মূল্যসহায়তা
নীতি
গ্রহণ
করে।
অভ্যন্তরীণ
খাদ্যশস্য
সংগ্রহ
নীতির
অন্যতম
প্রধান
লক্ষ্য
সরকারি
বিতরণ
প্রক্রিয়া
চালু
রাখা।
এক্ষেত্রে
আরেকটি
লক্ষ্য
ছিল
চালের
মূল্য
স্থিতিশীল
রাখা।
সরকার
বিভিন্ন
নগদকৃত
চ্যানেলের
মাধ্যমে
বাজার
মূল্যের
চেয়ে
কম
মূল্যে
খাদ্যশস্য
বিতরণ
করে,
যেমন
শহুরে
ভোক্তাদের
জন্য
সংবিধিবদ্ধ
রেশন
ব্যবস্থা, গ্রামীণ
ভোক্তাদের
জন্য
সংশোধিত
রেশন
ব্যবস্থা,
অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত
শ্রেণী,
যেমন
প্রতিরক্ষা,
আইন
প্রয়োগকারী
সংস্থা
এবং
নিম্ন
আয়ের
সরকারি
কর্মচারীদের
জন্য
বিশেষ
রেশন
ব্যবস্থা।
১৯৭৪ সালের
দুর্ভিক্ষের
পর
খাদ্যসহায়তাপুষ্ট
ব্যাপক
গণপূর্ত
কর্মসূচির
মাধ্যমে
অনগদীকৃত
চ্যানেলে
খাদ্যশস্য
বিতরণ
ব্যবস্থা
চালু
করা
হয়।
‘কাজের
বিনিময়
খাদ্য’
(কাবিখা) কর্মসূচি
অদ্যবধি
চালু
আছে।
এ
কর্মসূচির
উদ্দেশ্য
হলো:
(ক) কৃষি
কাজে
যখন
মন্দা
অবস্থা
বিরাজ
করে,
তখন
ভূমিহীন
কৃষকদের
ত্রাণ
প্রদান
করা
এবং
(খ) গ্রামীণ
অবকাঠামো
উন্নয়নের
মাধ্যমে
কৃষি
উৎপাদনের
সক্ষমতা
বৃদ্ধি
করা।
১৯৮০
সালে
আরেকটি
অনগদীকৃত
খাদ্যসরবরাহ
চ্যানেলের
মাধ্যমে
‘দুস্থদের
জন্য
খাদ্যসহায়তা
কর্মসূচি’
চালু
করা
হয়
এ
কর্মসূচির
আওতায়
নিঃস্ব
ও
অসহায়
মহিলা
এবং
মহিলা-প্রধান
পরিবারকে
মাসিক
খাদ্যসহায়তা
প্রদান
করা
হয়।
এ
কর্মসূচি
পরবর্তী
সময়
দুস্থ
উন্নয়ন
কর্মসূচিতে
(ভিজিডি) রূপান্তরিত
হয়।
এ
কর্মসূচির
আওতায়
সরকার
বিভিন্ন
এনজিওর
সহায়তায়
আয়বর্ধক
কার্যক্রমে
দুস্থ
মহিলাদের
প্রশিক্ষণ
প্রদানের
পাশাপাশি
সড়ক
রক্ষণাবেক্ষণ
কর্মসূচিতে
কর্মসংস্থান
সৃষ্টির
প্রয়াস
চালায়।
সরকার ক্রমান্বয়ে
রেশন
মূল্য
ও
বাজারের
মূল্যের
ব্যবধান
কমিয়ে
আনে।
ফলে
রেশন
পদ্ধতিতে
খাদ্যশস্য
ক্রয়
ব্যাপকভাবে
হ্রাস
পায়।
মূল্য
স্থিতিশীল
রাখতে
সরকার
খাদ্যশস্য
বিতরণের
পরিবর্তে
‘খোলা
বাজারে
বিক্রয়’
কর্মসূচি
চালু
করে।
সুবিধাবঞ্জিত
গ্রামীণ
ভোক্তাদের
জন্য
সরকার
১৯৮৯
সালে
সংশোধিত
রেশন
ব্যবস্থার
পরিবর্তে
গ্রামীণ
রেশন
ব্যবস্থা
চালু
করে।
উদ্দীষ্ট
সুবিধাভোগীদের
সহায়তা
প্রদানে
ব্যর্থ
হওয়ায়
এ
ব্যবস্থাও
পরবর্তীকালে
বিলুপ্ত
করা
হয়।
কাবিখা কর্মসূচি
মন্দার
সময়
কর্মসংস্থানের
সুযোগ
সৃষ্টির
পাশাপাশি
দরিদ্রদের
ক্ষেত্রে
স্ব-উদ্দীষ্ট
হলেও
নির্মাণ
কাজের
নিম্নমানের
এবং
আনুষঙ্গিক
মূলধনের
অভাবে
এর
উন্নয়ন
প্রভাব
ছিল
সীমিত।
পয়োনিষ্কাশন
ও
জলাবদ্ধতার
ক্ষেত্রে
রাস্তাঘাট
ও
বাঁধের
অপরিকল্পিত
সম্প্রসারণের
নেতিবাচক
প্রভাব
১৯৮৭
ও
১৯৮৮
সালের
বন্যার
সময়
দৃশ্যমান
হয়।
ফলে
১৯৯০
সালে
সরকার
কাবিখা
কর্মসূচির
উন্নয়ন
লক্ষ্যের
গুরুত্বারোপ
করে
এবং
ক্ষুদ্র
সেচ
প্রকল্প
ও
মজবুত
সংযোগ
সড়ক
নির্মাণের
স্থানীয়
সরকার
প্রকৌশল
বিভাগের
(এলজিইডি) মাধ্যমে
খাদ্যসহায়তা
চালু
রাখে।
এছাড়া
সরকার
প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে
ঝরে
পড়া
হার
রোধকল্পে
খাদ্যসহায়তার
আওতায়
নির্বাচিত
উপজেলাগুলোয়
পরীক্ষামূলক
ভিত্তিতে
স্কুল
লাঞ্চ
কর্মসূচি
চালু
করে,
যা
শিক্ষার্থী
ঝরে
পড়ার
হার
হ্রাস
ও
অপুষ্টিরোধ—এই
দ্বিবিধ
উদ্দেশ্যে
পূরণে
‘শিক্ষার
বিনিময়ে
খাদ্য’
(এফএফই) কর্মসূচি
প্রবর্তনে
সহায়তা
করে।
উল্লিখিত পরিবর্তনগুলোর
কারণে
সরকারি
খাদ্যশস্য
বিতরণ
ব্যবস্থার
আকার
এবং
অভ্যন্তরীণ
খাদ্যশস্য
সংগ্রহের
পরিমাণ
বহুলাংশে
হ্রাস
পায়।
এছাড়া
শুষ্ক
মৌসুমের
বোরো
ধান
প্রধান
শস্য
হিসেবে
পরিগণিত
হওয়ায়
খাদ্যশস্যের
দামের
মৌসুমভিত্তিক
ওঠানামা
হ্রাস
পায়।
ফলে
খাদ্যশস্যের
বাজারে
সরকারের
সম্পৃক্ততা
কমে
যায়।
উপসংহার
গত
চার
দশক
বা
তার
বেশি
সময়ে
কৃষিতে
কাঠামোগত
পরিবর্তন
সাধিত
হয়েছে।
পানি
নিয়ন্ত্রণ,
কৃষি
উৎপাদনের
উপকরণ
সংগ্রহ
ও
বিতরণ,
খাদ্যশস্য
বাজারজাতে
সহায়তা,
প্রযুক্তির
উদ্ভাবন
ও
সম্প্রসারণে
গবেষণা
প্রভূতি
ক্ষেত্রে
সরকারি
সহায়তায়
ওপর
গুরুত্ব
দিয়ে
বাংলাদেশে
যেসব
কৌশল
ও
নীতি
গ্রহণ
করা
হয়েছে,
তা
মূলত
শস্য
(বিশেষ করে
ধান
ও
গম)
উৎপাদনকে
কেন্দ্র
করেই
হয়েছে।
সময়ের
পরিক্রমায়
এসব
কৌশল
ও
নীতির
পরিবর্তন
আনা
হয়েছে।
কৃষিখাতে
উদ্ভূত
নতুন
চ্যালেঞ্জ
মোকাবেলায়
বিদ্যমান
নীতি
ও
কৌশলগত
আরো
পরিবর্তন
আনতে
হবে
কিনা,
সে
ব্যাপারে
আরো
বিশদ
গবেষণার
প্রয়োজন
রয়েছে।
এটা অনস্বীকার্য
যে
উৎপাদনের
উপকরণের
বাণিজ্য
ও
বিপণন
নীতি
সংস্কারগুলো
মূল্যনির্ধারণ
প্রক্রিয়ায়
কেবল
সাময়িক
প্রভাব
বিস্তার
করে।
যখন
এ
প্রভাবগুলো
পরিপূর্ণভাবে
সমন্বয়
লাভ
করে,
তখন
মূল্য
ও
বহির্ভূত
উপাদানগুলো যেমন
অবকাঠামো
উন্নয়ন
ও
নতুন
প্রযুক্তি
উদ্ভাবন
এবং
কৃষকদের
মাঝে
সেগুলো
সম্প্রসারণের
মাধ্যমে
কৃষিতে
প্রবৃদ্ধি
বজায়
রাখতে,
বিশেষ
করে
খাদ্যনিরাপত্তা
নিশ্চিত
করতে
বাংলাদেশের
কৃষি
গবেষণায়
প্রচেষ্টা
এবং
বিনিয়োগ
অব্যাহত
রাখা
উচিত।
ড. কাজী সাহাবউদ্দিন: সাবেক
মহাপরিচালক
বিআইডিএস





