বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। যেখানে অধিকাংশ মানুষই নিজেদের খামারে উৎপাদিত ফসলের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকনির্ভর এবং সীমিত সম্পদ দ্বারা পরিবেষ্টিত। বাংলাদেশে প্রধান শস্যবিন্যাসগুলো ধানকেন্দ্রিক। অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশের ফার্মিং সিস্টেম একটি খামারে একটি উৎপাদনশীল ইউনিট এবং একটি পরিবার একটি ভোগ ইউনিট হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার প্রতিটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চর হচ্ছে মূলত নদীবেষ্টিত এলাকা, যেখানে সবচেয়ে গরিব মানুষের বাস এবং তারা নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। চরাঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। চরাঞ্চলে প্রায় ১০ মিলিয়ন লোকের বাস, যারা মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের প্রধান প্রধান চর মেঘনা, পদ্মা ও যমুনা নদীর অববাহিকায় গঠিত। অকালবন্যা ও নদীভাঙন তাদের নিত্যসঙ্গী। প্রতিটি চর এলাকাই অস্থায়ী, কারণ প্রতি বছর নদীভাঙন এবং বন্যায় চর ডুবে যায়। আবার কখনো কখনো নতুন চর জেগে ওঠে। চর এলাকার শস্যবিন্যাস মূলত মাটির গঠন, বৃষ্টিপাত, সেচের ব্যবস্থা, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। চরে ফসল উৎপাদনে যেসব ঝুঁকি রয়েছে তা মোকাবেলা করার জন্য শস্যের বহুমুখীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই চর এলাকায় যে সীমিত সম্পদ রয়েছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার জরুরি। চর এলাকার প্রধান প্রধান শস্যবিন্যাস হচ্ছে ভুট্টা-পাট-রোপা আমন, মরিচ-পাট-পতিত, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, বোরো-পতিত-রোপা আমন, বাদাম-পতিত-পতিত, গম-পাট-রোপা আমন, আলু-বাদাম-রোপা আমন ইত্যাদি। যদিও অনেক শস্যবিন্যাস বিদ্যমান কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে অকালবন্যা ও নদীভাঙন। তাই সব শস্যবিন্যাস অস্থায়ী এবং বন্যা ও নদীভাঙনের ওপর নির্ভরশীল। চরের শস্যবিন্যাসে যেসব ফসল রয়েছে তাদের মধ্যে স্থানীয় জাতগুলোই বেশি ব্যবহার করা হয়। কৃষকরা উচ্চফলনশীল জাত সম্পর্কে কম অবগত এবং পাশাপাশি তারা উন্নত জাতের ফসলের চাষাবাদ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নয় এবং ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনাও তাদের কাছে সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। চরাঞ্চলে অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে ভালো এবং গুণগত মানসম্পন্ন বীজের অভাব। কীভাবে বীজ সংরক্ষণ করতে হয়, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় বীজ সংরক্ষণ করে, ফলে বীজের গুণগত মান ঠিক থাকে না, অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কমে যায় এবং সর্বোপরি ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বাজার থেকে ক্রয়কৃত বীজেও ভেজাল থাকে। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হচ্ছে সার সরবরাহ। বাজারগুলো চর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হওয়ায় সার ক্রয় এবং পরিবহনে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাছাড়া কৃষকরা সারের জন্য সম্পূর্ণরূপে ডিলারদের ওপর নির্ভরশীল। ডিলাররা অনেক সময় ভেজাল সার সরবরাহ করে। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
চরাঞ্চলে সেচের পানির অভাব প্রকট। কারণ বালি মটির গঠনের কারণে পানির স্তর অনেক নিচে থাকে। তাছাড়া গভীর ও অগভীর নলকূপের সংখ্যা অনেক কম। বেলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা খুবই কম বলে বেলে মাটিতে ফসল চাষে অনেক সেচ লাগে। কৃষকরা ফসল উৎপাদনে ব্যবহূত কীটনাশকের জন্য স্থানীয় বাজার এবং দোকান মালিকদের ওপর নির্ভরশীল। কারণ এ বিষয়ে কৃষকদের কোনো সম্যক ধারণা নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভেজাল কীটনাশক কৃষকের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে। ভেজাল কীটনাশক বাজারে থাকায় অনেক কৃষক কীটনাশক ব্যবহারে উদাসীন ও কখনো কখনো কীটনাশক ব্যবহার করতে চান না। ফলে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফসল সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় সংগ্রহের পর পরই কৃষক কম মূল্যে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। অনেক সময় উৎপাদন খরচ উঠে আসে না। প্রতিবাদস্বরূপ কৃষকরা উৎপাদিত ফসল রাস্তায় ফেলে দেন। শুধু তাই নয়, উৎপাদিত ফসল প্রক্রিয়াজাতের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি চরাঞ্চলে। ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার অভাব। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষক স্থানীয় বাজারে কম মূল্যে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে এবং বিপণন ব্যবস্থায় সরকারের সঠিক তদারকির অভাবে কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। উপযুক্ত ঋণের ব্যবস্থা না থাকায় মূলধনের অভাবে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে ঠিকমতো বিনিয়োগ করতে পারেন না।
টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখিত সমস্যাগুলো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেকসই কৃষি বলতে সাধারণত আর্থিকভাবে স্থায়ী, পরিবেশগতভাবে নিরাপদ ও জনস্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিকে বোঝায়। টেকসই কৃষির মূলনীতিগুলো হলো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, শস্য আবর্তন, কম বা শূন্য চাষাবাদের মাধ্যমে ভূমি ক্ষয় রোধ, ফসলের বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় দমন, সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চারণভূমির ব্যবহার, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। চরাঞ্চলের মানুষের যেখানে কৃষি সম্পূর্ণ অস্থায়ী তাই তাদের ক্ষেত্রে টেকসই কৃষিপ্রযুক্তি বাস্তবায়ন একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির মূলনীতিগুলো সম্পর্কেও নেই কোনো সম্যক ধারণা। নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পর্কে কৃষকরা অজ্ঞ। অল্পসংখ্যক কৃষকের বাড়িতে সোলার প্যানেল আছে, যা শুধু পারিবারিক কাজে ব্যবহূত হয়। কৃষকরা ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধু কীটনাশক দিয়েই পোকা দমন করেন। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তারা অবগত নন। শস্য আবর্তনের আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মাটির পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় সাধনের জন্য স্বল্প মূলী ফসলের পর গভীর মূলী ফসলের চাষ করা কিন্তু কৃষকরা প্রতি বছর একই জমিতে একই ধরনের ফসল চাষ করেন। ফলে মাটির পুষ্টি উপাদান সমহারে ব্যবহূত হচ্ছে না, যা ভবিষ্যতে মাটির সুস্থ পুষ্টি উপাদান সরবরাহে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। চরাঞ্চলে ভূমি ক্ষয় খুবই মারাত্মক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। আবার কৃষকরা গভীরভাবে জমি চাষ করে ফসল উৎপাদন করে। ফলে ভূমিক্ষয় বেশি হয়। যুগের পর যুগ কৃষকরা একই ধরনের ফসল চাষে অভ্যস্ত। নতুন ফসল অন্তর্ভুক্তিতে নেই কোনো আগ্রহ নেই। মানুষের জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যেমন ডালজাতীয় ফসলের চাষ চরাঞ্চলে খুব কম। কৃষকরা শুধু ধানভিত্তিক শস্যবিন্যাসে অভ্যস্ত। প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় দমন টেকসই কৃষির একটি অন্যতম উপাদান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি অন্যতম কার্যক্রম হচ্ছে পার্চিং, যার মাধ্যমে অনেক ক্ষতিকারক পোকা দমন সম্ভব। চরাঞ্চলের কৃষকরা এটিতে কিছুটা হলেও অভ্যস্ত। কারণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরাসরি কৃষকের মাঠে পার্চিং বাস্তবায়নে সহায়তা করেন। তবে উপকারী পোকা/পাখি যেমন লেডি বার্ড বিটল, বাদুড় ইত্যাদির সংরক্ষণ জরুরি। চরাঞ্চলে প্রচুর চারণভূমি রয়েছে, বিশেষ করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রচুর পশু চারণভূমিতে বিচরণ করে এবং সেখান থেকে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য দুধ উৎপাদিত হয়। তার পরও সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চারণভূমির সংরক্ষণ বিষয়টি চরাঞ্চলে অবহেলিত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কিছু কৃষক বেশ সচেতন। তারা গৃহস্থালিতে উৎপাদিত বর্জ্য যেমন গো-শালার বর্জ্য, সবজি উচ্ছিষ্টাংশ ইত্যাদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্তূপাকারে অথবা গর্ত করে জমিয়ে রাখে এবং পরবর্তী সময়ে কম্পোস্ট হিসেবে জমিতে ব্যবহার করে, যা জৈব পদার্থ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। চরাঞ্চলের কৃষকদের সেচের পানির যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাছাড়া তারা বৃষ্টির পানি ধরে রেখে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করার যে প্রযুক্তি সে সম্পর্কে অবগত নয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞান এবং সুযোগের অভাবে চরাঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন সামগ্রিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চরের কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন এবং যেসব বাধা কৃষি ক্ষেত্রে রয়েছে সেগুলো বিবেচনায় এনে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে কৃষি, কৃষক ও চরাঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও অবদান আশা করা যায়। সেক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত এবং স্থায়ী কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, যা কৃষি উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
ফসলের উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শস্য আবর্তন অনুসরণ করতে হবে। নন-লিগিউম ফসলের পরে লিগিউম জাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে। কারণ লিগিউম জাতীয় ফসলগুলোর মূলে নডিউল থাকায় বাতাস থেকে সরাসরি নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে, যা মাটিতে নাইট্রোজেন সঞ্চিত করে এবং ফসল উৎপাদনে নাইট্রোজেনের ব্যবহার নিশ্চিত করে। যেসব ফসল বেশি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে যেমন ভুট্টা, আলু ইত্যাদি ফসল চাষের পরে ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের চাষ করতে হবে। আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বোরো ধানের চাষ করা গেলে উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। যেসব জায়গায় শুধু বোরো ফসল চাষ হয় সেখানে ফ্লোটিং বেড সিস্টেমে বিভিন্ন সবজির চাষ করা যেতে পারে।
ডাল ও তেলজাতীয় ফসলের আওতায় জমির পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে এ ফসলগুলো বিদ্যমান শস্যবিন্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। আন্তঃপরিচর্যা যেমন আগাছা দমন, গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেয়া, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সঠিকভাবে পালন করলে ফসল উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। ‘কভার ক্রপ’ যেমন ঘাসজাতীয় ফসলের চাষাবাদ বাড়ানো গেলে ভূমিক্ষয় রোধ করা সম্ভব। বসতবাড়িতে সবজি বাগান করা গেলে চরাঞ্চলের মহিলারা কৃষিকাজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। বসতবাড়ির ছায়াযুক্ত স্থানে আদা, হলুদ, কচু ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে এবং বৃষ্টি মৌসুমে পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে শুকনা মৌসুমে ব্যবহার করা যায়। এতে পানির ব্যবহার দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষিবিষয়ক এনজিও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া, মাঝে মাঝে কৃষকদের নিয়ে আদর্শ কৃষকের বাড়ি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যার মাধ্যমে সাধারণ কৃষকের আগ্রহ বাড়বে।
কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন কম্বাইন্ড হারভেস্টার, ট্রাক্টর, রোটাভেটর ইত্যাদির জোগান দিতে হবে। চরাঞ্চলে লাউজাতীয় শস্য চাষের জন্য ‘সেন্ড বার কালচার’ প্রবর্তন করা যেতে পারে। সংরক্ষণ পদ্ধতিতে জমি চাষ করার কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দিতে হবে। এতে ভূমিক্ষয় রোধ হবে এবং মাটির পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। সুষম সার ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাত্রা ও সময় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। আইপিএনএস পদ্ধতিতে সারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ফসল সংগ্রহের পর ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে, এতে করে মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়বে। মূল ফসল চাষের আগে সবুজ সার জাতীয় ফসল চাষ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে। চরের নিকটবর্তী স্থানে বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বিক্রি করতে পারেন এবং কৃষির যাবতীয় উপাদান তথা সার, বীজ, কীটনাশক সহজে ক্রয় করতে পারেন। কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষককে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং ব্লক পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ভূমিকা রাখতে পারেন। সরকারি সহায়তায় পোস্ট হারভেস্ট প্রসেসিং কারখানা তৈরি করা গেলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যকে সহজে প্রক্রিয়াজাত করে অধিক দামে বিক্রি করতে পারবেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হিমাগার স্থাপন করতে পারলে পচনশীল পণ্য সহজে সংরক্ষণ করা যাবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় জমি নির্মাণ করলে নদীভাঙন রোধ হবে এবং চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত পণ্য উৎপাদন বাড়াতে পারবেন। পরিশেষে, চরের সার্বিক কৃষি উন্নয়নে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কৃষক সচেতন হলে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, দেশের খাদ্য চাহিদা মেটানো যাবে এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
ড. মো. রমিজ উদ্দিন: অধ্যাপক, কৃষিতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ড. উত্তম কুমার সরকার: সহযোগী অধ্যাপক, কৃষিতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ড. নাজিয়া তাবাসসুম: অধ্যাপক, কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়





