সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা নদীবিধৌত কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আয়তন ১৪.৮৬ মিলিয়ন হেক্টর, যার প্রায় ৮.৫২ মিলিয়ন হেক্টর জমি চাষাবাদে ব্যবহূত হয়। বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ আসে কৃষি খাত থেকে। ধান, গম ও ভুট্টা এ দেশের উল্লেখযোগ্য খাদ্যশস্য। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৮ সালের তথ্য অনুসারে প্রধান খাদ্যশস্য ধানের উৎপাদন প্রায় ৫৩.৬ মিলিয়ন টন। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের চাষযোগ্য জমি প্রতি বছর প্রায় ০.৭৪ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে, যা কিনা বর্ধিত জনসংখ্যাকে নাগরিক সুবিধা (রাস্তাঘাট, বাসস্থান ইত্যাদি) প্রদানে ব্যবহূত হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে খাদ্য চাহিদা (প্রধান মৌলিক চাহিদা)। এ অবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে খাদ্য চাহিদা পূরণকল্পে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি একর জমিতে ফসলের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে। লাগসই প্রযুক্তি ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এক্ষেত্রে এনে দিতে পারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

বর্তমান অত্যধিক জনসংখ্যার বিপরীতে সীমিত কৃষিজমিতে চাহিদা অনুযায়ী ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হলে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে ফসলের মৌসুমে যেমন সম্পূর্ণ যান্ত্রিকীকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে তেমনি প্রয়োজন শস্য সংগ্রহোত্তর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু তদারকি। বীজের স্বাস্থ্য রক্ষা থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে শস্য পৌঁছার আগ পর্যন্ত থাকতে হবে কৃষি যন্ত্রাংশের পর্যাপ্ত জোগান ও সুনির্দিষ্ট ব্যবহার। একমাত্র কৃষিক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ নিশ্চিত করতে পারে কম সময়ে, কম খরচে, কম লোকবলের মাধ্যমে সঠিক সময়ে সঠিক শস্যের যথার্থ জোগান। ফসল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণে কর্তন-পূর্ব, কর্তনকালীন ও কর্তনোত্তর সময়ে ফসলের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশে দানাশস্যে ফসল কর্তনোত্তর ক্ষতির পরিমাণ মোট উৎপাদনের ১২-১৫ শতাংশ, যা ফল ও শাকসবজির ক্ষেত্রে প্রায় ২৫-৪০ শতাংশ। এছাড়া গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭ শতাংশ গম, ১২.০৫ শতাংশ তৈলবীজ, ২৫ শতাংশ শাকসবজি ও আলু, ১২.০৫ শতাংশ ডাল শস্য এবং ১০.০৫ শতাংশ মরিচ ফসলে কর্তনোত্তর ক্ষতি হয় কেবল দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার ফলে। ফসল মাড়াই ও কর্তনের কাজকে সহজ করতে ১৯ শতকের শেষে আসে মাড়াই ও কর্তনযন্ত্রের সমন্বয়ে কম্বাইন হারভেস্টার, যা ব্যাপক হারে বাঁচিয়ে দেয় সময়, কমিয়ে দেয় পশু ও মনুষ্য শক্তির ব্যবহার।

১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত শর্তগুলো শিথিল করলে দেশে পাওয়ার টিলার আমদানি বেড়ে যায়। এভাবে দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সূত্রপাত হয়। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে জমি চাষের পর বীজ বপন, গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ, শস্য কর্তন, শস্য মাড়াই, শস্য ঝাড়াইসহ অন্যান্য কার্যাবলিতে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই যান্ত্রিকীকরণের বহুবিধ সুবিধাদির ফলে কৃষক দিন দিন কৃষিযন্ত্রের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের ফসল উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে একটা ফসল থেকে আরেকটা ফসল লাগানোর মধ্যবর্তী সময় কমে যাওয়ায় কৃষকরা বছরে বর্তমানে দুটি ফসলের স্থলে তিনটি ফসল পর্যন্ত অনায়াসে ইচাষ করতে পারছে। এমনকি সুনির্দিষ্ট শস্য বিন্যাস ও স্বল্প জীবত্কালের ফসল নির্বাচন করে যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো কোনো এলাকায় বছরে চারটি ফসল পর্যন্ত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশে জমি তৈরির ৯৫ শতাংশ কাজ পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর দিয়ে করা হচ্ছে। সার প্রয়োগ ও আগাছা দমনের কাজে যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিপর্যায়ে ভাড়ার ভিত্তিতে ফসল কাটার যন্ত্র রিপার/কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার শুরু হয়েছে। এছাড়া মাড়াই কাজে বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টাসহ সব দানাদার ফসল মাড়াইয়ের কাজে প্রায় ৯৫ শতাংশ যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান, যা সম্পূর্ণভাবেই পানি ও ইউরিয়া সারের ওপর নির্ভরশীল। আগাছা ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, যা ফসলে প্রয়োগকৃত সারের অনেকাংশই শুষে নেয়। ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই সার প্রয়োগের পূর্বে আগাছা দমনও জরুরি, কিন্তু আলাদাভাবে আগাছা দমন এবং সার প্রয়োগে সময় ও শ্রম দুটোই অপচয় হয়। সাধারণ ইউরিয়ার পরিবর্তে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে ১৫-২০ শতাংশ বেশি ফসল পাওয়া যায়। গুটি ইউরিয়া পরিমাণে শতকরা ৩০ শতাংশ কম লাগে। মৌসুমে একবার গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলেই হয়। তাই এর জন্য এমন যন্ত্র প্রয়োজন যা একই সাথে দুটো কাজই সহজে, স্বল্প সময়ে ও অল্প খরচে করতে সক্ষম। তাই অদূরভবিষ্যতে সারের অপচয় কমাতে উইডার-কাম-গুটি-ইউরিয়া এপিকেটর ব্যবহারের বিকল্প নেই।

পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের জলবায়ু পাট চাষের জন্য এতই উপযোগী যে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো মানের পাট বাংলাদেশে উত্পন্ন হয়। তবে পাট চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনো সনাতন পদ্ধতি প্রচলিত। প্রাচীনকাল থেকেই সাধারণত পাটবীজ ছিটিয়ে বপন করা হয়। ফলে একদিকে যেমন চারার ঘনত্ব বেড়ে যায়, তেমনি বীজের পরিমাণও বেশি লাগে। চারার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার দরুন পরিচর্যা করাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া ছিটিয়ে বপন করলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে চারা পাতলা করার প্রয়োজন হয়। তাই আমরা যদি কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সারিতে বীজ বপন করি তবে শ্রম ও ব্যয় দুটোই কমে যাবে। এতে জমির সর্বত্র গাছের বিস্তৃতি সমভাবে থাকে এবং পরিচর্যার সুবিধা হয়। সারিতে বপন করা হলে বীজের পরিমাণ কম লাগে এবং গজায়ও ভালো। সারিতে বীজ বপন করার জন্য বীজ বপন যন্ত্র বা সিডার ব্যবহার অত্যন্ত লাভজনক। সারিতে বপন করলে বিঘাপ্রতি দেশী পাটের ক্ষেত্রে ১ কেজি এবং তোষা পাটের ক্ষেত্রে ৬০০-৭০০ গ্রাম বীজ লাগে। অন্যদিকে ছিটিয়ে বপন করলে বিঘাপ্রতি দেশী পাটের ক্ষেত্রে দেড় কেজি ও তোষা পাটের ক্ষেত্রে ১২০০-১৩০০ গ্রাম বীজ লাগে। আবার প্রাচীনকাল থেকেই পাট কাটার ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ দা বা কাঁচি ব্যবহার করে পাট কাটে। সেক্ষেত্রে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যা খুবই সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ব্যাপার। কিন্তু পাট কাটার ক্ষেত্রে আমরা যদি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারি, তবে আমাদের সময় ও ব্যয় বহুলাংশে লাঘব হবে। পাট কাটার পর পাটের আঁশ সংগ্রহ একটি প্রধান কাজ। পাটের আঁশ সঠিকভাবে সংগ্রহ এবং পাট পচানোর প্রক্রিয়ার ওপর পাটের মান বহুলাংশে নির্ভর করে। তবে বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে রিবন পদ্ধতি বা ছাল পচানো পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। রিবন পদ্ধতিতে পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অল্প পানিতে পাট পচানো হয়, যা পাটের গুণগত মান বৃদ্ধি করে। তাই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো পাট উৎপাদন পদ্ধতিতে ব্যাপকভাবে যন্ত্রের ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া গম, ভুট্টা, আলুসহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ পদ্ধতিও সম্পূর্ণভাবে যান্ত্রিকীকরণের প্রতি সমভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রধান অন্তরায় প্রান্তিক কৃষকের কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের অনুপযোগী ছোট কৃষিজমি, যেখানে মানসম্মত কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় না। দেশের প্রান্তিক কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবেও অসচ্ছল। তাদের উচ্চমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সামর্থ্য নেই। এছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। বিগত দশকগুলোতে বাংলাদেশ সফলভাবে তার আর্থসামাজিক উন্নয়নকে টেকসই করেছে এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় উচ্চতর সূচক অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষির আধুনিকায়নে সরকার নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি সরকার ৩০২০ কোটি (৩০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) টাকার একটি মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে প্রায় ৫৬ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০২০ সালেই শুরু হতে যাচ্ছে। প্রকল্পে সরকার স্থানীয় যন্ত্রপাতি নির্মাতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পৃষ্ঠপোষকতা করবে, যাতে তারা আরো উৎপাদনশীল ও স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে। এ অতিরিক্ত বিনিয়োগ অবশ্যই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। খামার যান্ত্রিকীকরণ নীতি ২০২০ অনুসারে কৃষকরা কম দামে কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে সক্ষম হবে এবং সাশ্রয়ী শর্তে স্বল্প সুদে বা সুদমুক্ত ঋণ পেতে সক্ষম হবে।

বিশ্বের অনেক উন্নত রাষ্ট্রে এখন আধুনিক কৃষি ও খামার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতিতে এখন সংযোজিত হচ্ছে মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ধরনের সেন্সর প্রযুক্তি। পাশাপাশি মাটিস্থ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ জানা, জমিতে প্রয়োজনীয় পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পোকামাকড় ও বালাই ব্যবস্থাপনা, সার ও কীটনাশকের প্রয়োজনীয় ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহূত হচ্ছে জিপিএস ও জিআইএস ট্র্যাকিং পদ্ধতির বদৌলতে। কৃষক এখন ঘরে বসেই জানতে পারছে কখন মাঠের কোন অংশে সেচ দরকার, কোন উদ্ভিদে পোকার আক্রমণ ঘটেছে, কোন ফলটি উত্তোলন উপযোগী, কোন গাভী কতটুকু দুধ দিচ্ছে, কখন দিতে হবে মাছকে খাবার ইত্যাদিসহ নানা তথ্য। মোবাইল ফোনে অ্যাপের ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকের কাজ হয়েছে আরো সহজ। যন্ত্রে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে দিলে যন্ত্র নিজেই ভূমি কর্ষণ করে দিচ্ছে পর্যাপ্ত গভীরতায়, গাছ লাগানো হচ্ছে নির্দিষ্ট দূরত্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে যন্ত্র গাছ থেকে ছিঁড়ে আনছে ফল, রেখে দিচ্ছে সঠিক জায়গায়, আক্রান্ত ফসল তুলে ফেলে দিচ্ছে বাইরে। বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষি বিপণনের জন্য এসব প্রযুক্তির ব্যবহার দরকার। এছাড়া উৎপাদিত খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বর্তমানে অধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন খাদ্য ও ফলের পুষ্টিমান, উপাদান, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা, উৎপাদিত ফসল ও ফলের আকার, আকৃতি, রঙের তারতম্য ও বাহ্যিক আঘাত বা ক্ষত নির্ণয় করা যায়। বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র, ধ্বনিতরঙ্গ, তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের সঠিক ব্যবহার দ্বারা অতি অল্প সময়েই ফলের মিষ্টতা, পানি ও চিনির পরিমাণ, খুঁত, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ আকৃতি ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমে গুণগত ও পরিমাণগত বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। প্রয়োজনীয় ও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, বিপণন ও রফতানির ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইওটি ও অধ্বংসাত্মক পদ্ধতির যথোপযোগী ও কার্যকর ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া উন্নত বিশ্বে কৃষিতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কীটনাশক ছিটানো থেকে শুরু করে খামার বা জমির ম্যাপিং, অবস্থা, গোটা দেশের ফসলের অবস্থা নিরূপণ ও খামার পরিচালনা পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোনের ব্যবহার অভাবনীয়ভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে একসূত্রে বেঁধে সনাতন পদ্ধতি থেকে বের হয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এতে একদিকে কৃষি শ্রমিক সংকট যেমন কমানো যাবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এতে কৃষিকাজে যুক্ত হবে শিক্ষিত তরুণেরা এবং বৃদ্ধি পাবে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা। তবুও বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাত, প্রক্রিয়াজাত এবং মত্স্য ও পশুসম্পদ খামারের আরো আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজন বহির্বিশ্বের সাথে প্রযুক্তিগত ও প্রয়োগগত দিক থেকে তাল মিলিয়ে চলা। তাহলে কৃষি খাত দেশের জিডিপিতে রাখতে পারবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

 

ড. মো. রোস্তম আলী: অধ্যাপক, কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ