উনিশশ একাত্তর সালের পঁচিশ মার্চ। অন্যান্য দিনের মতোই দিনমজুর সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ক্লান্ত দেহখানি এলিয়ে দিয়েছিল বিছানায়, দোকানি তার দোকান বন্ধ করে ঘরে ফিরেছে, গৃহবধূ সারা দিনের কাজ সেরে কেবল বিছানায় শুয়েছে, শিশুরা গভীর ঘুমে নিমগ্ন, ছাত্ররা সবে লেখাপড়া শেষ করেছে, চাষী তার নতুন ফসলের স্বপ্নে বিভোর; ঠিক সে মুহূর্তে ইয়াহিয়ার নরপিশাচরা পাশবিক হত্যাযজ্ঞ শুরু করল।

বাঙালি জাতির ওপর নেমে এল সেই কালরাত্রির নিষ্ঠুরতা। রাতের অন্ধকারে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুরু করল ইতিহাসের এক জঘন্যতম গণহত্যা। নিরস্ত্র, নিরপরাধ জনগণের লাল রক্তে প্লাবিত হলো বাংলার মাটি।

দেশে উদ্ভূত চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক সম্পর্কে জনগণ একটা সমঝোতা আশা করছিল। কিন্তু পঁচিশ মার্চ দুপুরের পরই স্পষ্ট হয়ে উঠল মুজিব-ইয়াহিয়ার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। ওইদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ বললেন, ‘আর আলোচনা নয়, এবার সুস্পষ্ট ঘোষণা চাই।’ ঘটনার দ্রুত পটপরিবর্তন হলো। শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আলোচনায় বসলেন। মেখ মুজিব সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দিলেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সামরিক কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশ দিয়ে গোপনে করাচি যাত্রা করলেন। সূর্য ডুবল। ৫টা বেজে ৪৪। ঠিক ১ মিনিট পরই ঢাকার প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে জেনারেল ইয়াহিয়া সোজা এয়ারপোর্টে চলে গেলেন। কিন্তু খবরটা জানা যায় রাত পৌনে ৮টায়। ততক্ষণে প্রেসিডেন্টের বিমান করাচির পথে যাত্রা করেছে। আরো ২ ঘণ্টা পর ক্যান্টনমেন্ট থেকে জিপ, ট্রাকবোঝাই সৈন্য বেরিয়ে পড়ল। গোলন্দাজ, সাঁজোয়া পদাতিক বাহিনী থেকে বাছাই তিন ব্যাটালিয়ন ঘাতক।

রাত ১০টা ৩০ মিনিট। সৈন্যরা নর্থ ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঘিরে ফেলেছে। রিসেপশনের কালো বোর্ডে চকখড়ি দিয়ে একজন বাচ্চা ক্যাপ্টেন লিখে দিল, বাইরে বেরুলেই গুলি। বিদেশী সাংবাদিকরা বেরুতে না পেরে রেডিও ধরলেন। কিন্তু কারফিউয়ের কোনো ঘোষণা নেই। বাইরে কেবল ট্যাংকের ঘড় ঘড় শব্দ। রাত ১২টা পেরিয়ে যেতেই হঠাত্ নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে উঠল মেশিনগান। একটি নয়, দুটি নয়, অসংখ্য। আগুনে আগুনে লাল হয়ে গেল সারা আকাশ। চারদিক আলোকিত করে ছুটল হানাদারদের রঙ-বেরঙের ম্যাগনেশিয়া ফ্ল্যাশ। আগুন জ্বলছে রাজারবাগে, আগুন জ্বলছে পিলখানায়, আগুন জ্বলছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, জ্বলছে বস্তিতে বস্তিতে। হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুর মর্মভেদী আর্তচিত্কারে ভরে উঠল ঢাকার আকাশ-বাতাস। ঘরে ঘরে উঠল হাহাকার। রাস্তায় রাস্তায় জমে উঠল লাশের স্তূপ। কিন্তু এর মধ্যেও গড়ে উঠল সশস্ত্র প্রতিরোধ। হানাদারদের প্রতিরোধ করা হলো রাজারবাগে, পিলখানায়। স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত দুঃসাহসী বাঙালি তরুণরা দুর্জয় আক্রোশে রুখে দাঁড়াল।

পঁচিশ মার্চ পিলখানায় ইপিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ১৩ নং উইং, ১৫ নং উইং এবং ১৬ নং উইংয়ের হেডকোয়ার্টার উইং এবং সিগনাল ইউংয়ে অবস্থান করছিল। এছাড়া ছিল প্রশিক্ষণরত প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাঙালি সৈন্য। বেশকিছু বাঙালি অফিসার এখানে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা সেক্টরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর সিরাজুল ইসলাম, হেডকোয়ার্টার উইংয়ের সহকারী উইং কমান্ডার ক্যাপ্টেন দেলোওয়ার হোসেন, ১৬ নং উইংয়ের ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আজাদ, ক্যাপ্টেন এমএ লতিফ ও ক্যাপ্টেন দানিয়াল ইসলামের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৫ নং উইংয়ের সহকারী উইং কমান্ডার ক্যাপ্টেন রেজাউর রহমান ব্যক্তিগত কাজে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান।

বস্তুত মার্চ থেকে ঢাকা শহরে আইএস (ইন্টারনাল সিকিউরিটি) ডিউটি বেড়ে যায়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ার ফলে ঊর্ধ্বতন সামরিক জান্তার নির্দেশক্রমে ইপিআরের একেকটি কোম্পানিকে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদাসম্পন্ন অফিসার পরিচালনা করছিলেন। ক্যাপ্টেন লতিফ, ক্যাপ্টেন আজাদ, ক্যাপ্টেন দানিয়াল ইসলাম প্রমুখ কোম্পানি কমান্ডের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পিলখানায় ছয়টি গেট। প্রত্যেক গেটে সবসময়ই ইপিআর গার্ড থাকত। নং গেটটির কার্যকারিতা তেমন ছিল না। মার্চের শুরুতেই গেটগুলোয় গার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হয়।

৪, ৫ ও ৬ নং গেটে যথাযথ ইপিআর সৈন্য প্রহরায় ছিল। প্রহরারত সৈন্যরা অধিকাংশই ছিল বাঙালি এবং তাদের ২০ রাউন্ড গুলি সরবরাহ করা হয়েছিল।

ঢাকার গভর্নর হাউজ, প্রেসিডেন্ট হাউজ, মিরপুর, গুলশান, রমনা ডাকঘর, কমিশনার ভবন ইত্যাদি স্থানে মার্চ (কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও আগে) থেকে ইপিআর বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছিল। পঁচিশ মার্চ আইএস ডিউটিরত ইপিআর বাহিনীর অধিকাংশ সৈনিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইপিআর সদর দপ্তর পিলখানায় চলে আসে। কিন্তু তবু গভর্নর হাউজ, প্রেসিডেন্ট হাউজ, মিরপুর ইত্যাদি স্থানে ইপিআররা স্ব স্ব স্থানেই কর্মরত ছিল। পঁচিশ মার্চের বেলা ২টার দিকে ২২তম বালুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানিকে পিটি ড্রেসে সমগ্র পিলখানা প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেল। প্রকৃতপক্ষে এ সময় ২২তম বালুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা পিটি ড্রেসে পিলখানার গেটগুলো ঘুরে দেখছিল।

পিলখানায় বিকালের দিকেই গুজব রটে যায়, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া শেখ মুজিবের সব দাবি-দাওয়া মেনে নিয়েছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন। আরো শোনা গেল, পাক সেনারা ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে এবং বাঙালি অফিসার ব্রিগেডিয়ার করিম ইপিআর বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। ওই তারিখের রাতে বালুচ রেজিমেন্টের গতিবিধিকে অনেকে সহজভাবে নিয়েছিল এই ভেবে যে, হয়তো পাক সেনারা সেনানিবাসের ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে অথবা ব্রিগেডিয়ার করিমকে এয়ারপোর্টে স্বাগত জানাতে যাচ্ছে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২তম বালুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা পিলখানার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে এবং আক্রমণের জন্য নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। রাত ঠিক ১২টায় একটি গুলির শব্দ হয় এবং তার পর পরই একসঙ্গে সমগ্র পিলখানার ওপর ২২তম বালুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা আক্রমণ চালায়। কেন্দ্রীয় কোয়ার্টার গেটে ১৮ জন বাঙালি গার্ড থাকলেও তারা পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পায়নি। তাছাড়া জওয়ানদের কাছে মাত্র পাঁচ রাউন্ড করে গুলি ছিল। ৩ ও ৪ নং গেটে এবং বিক্ষিপ্তভাবে ইপিআর বাহিনী প্রতিরোধের চেষ্টা করে, কিন্তু পাক সেনাদের পূর্বপরিকল্পিত ব্যাপক আক্রমণের মুখে সে প্রতিরোধ ভেঙে যায়। পাক সেনারা কোয়ার্টাগার্ডসহ সমগ্র পিলখানা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। বেশকিছু ইপিআরের জওয়ান ওই রাতেই শহীদ হয়। কিছু ইপিআর সৈন্য পালাতে সমর্থ হয়। অবশিষ্ট অধিকাংশই বন্দি হয় পাক সেনাদের হাতে।

পিলখানা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাঁখারী বাজারসহ সমগ্র ঢাকায়ই শুরু হয়ে যায় আক্রমণের পালা। ব্যাপকভাবে ট্যাংক, এলএমজি, চায়নিজ রাইফেল, এসএমজি ইত্যাদির গুলিবর্ষণ অব্যাহত থাকে। ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে শত শত নরনারীর আর্তচিত্কার, হাহাকার আর শিশুর ক্রন্দনে ঢাকার আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে।

গভর্নর হাউজ, প্রেসিডেন্ট হাউজ, মিরপুর ইত্যাদি এলাকায়ও হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও গ্রেফতার চলতে লাগল ক্রমাগত।

রাত ১২টার সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ডিআইটি ভবনের ওপর থেকে গভর্নর হাউজে অবস্থানরত ইপিআর বাহিনীর ওপর মেশিনগানের গুলিবর্ষণ শুরু করে। এখানেই ইপিআর বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১১০ জন। কর্তব্যরত সুবেদার বছির আলী তখন সবে গার্ড চেক করে ১ নং গেটে একজন সিপাইর সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি আসতে থাকে। ইপিআর বাহিনীর জওয়ানরা সঙ্গে সঙ্গে অবস্থান গ্রহণ করে। সুবেদার বছির আলী সবাইকে অবস্থান নিয়ে চুপচাপ থাকতে বললেন। রাত ২টার সময় গভর্নর হাউজে অবস্থানরত উইং কমান্ডার মেজর জাহানজেবকে তিনি বিষয়টি জানালেন। মেজর জাহানজেব দরজা না খুলে ঘরের ভেতর থেকেই বললেন, ‘চুপচাপ পজিশন নিয়ে থাকো, গেটগুলো ভালো করে বন্ধ করে দাও।’ ইপিআরের জওয়ানরা তেমনিভাবে রইল সারা রাত।

২৬ মার্চের সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের সময় বালুচ রেজিমেন্টের একটি প্লাটুন ট্যাংকসহ ১ নং গেট দিয়ে গভর্নর হাউজে প্রবেশ করে। পাক সেনারা সরাসরি ইপিআর বাহিনীকে ঘিরে ফেলে। মেজর জাহানজেব ও ক্যাপ্টেন জিলানি এসে সবাইকে অস্ত্র দিয়ে দিতে বললেন। ইপিআর বাহিনীর অনেকেই অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকার করল। তারা ইশারায় সুবেদার বছিরের কাছে নির্দেশ চাইল আক্রমণের। কিন্তু সুবেদার বছির অন্য চিন্তা করে সবাইকে অস্ত্র দিতে বললেন। এ ঘটনা সম্পর্কে সুবেদার বছির বলেন, ‘আমাদের কাছে যে অস্ত্র ছিল, তা দিয়ে এক প্লাটুন বালুচ সৈন্য খতম করা যেত। কিন্তু পরে আমরা একজনও বাঁচতে পারতাম না। কারণ পাক সেনাদের সঙ্গে ছিল ট্যাংক এবং আমাদের পিছু হটার সব পথ ছিল বন্ধ।’

২৭ মার্চ কারফিউ শিথিল হলে ইপিআর এর জওয়ানরা পালানো শুরু করে। গভর্নর হাউজের অধিকাংশ ইপিআর সদস্যই সেদিন পালিয়ে আত্মরক্ষা করে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

গভর্নর হাউজের মতো প্রেসিডেন্ট হাউজেও সৃষ্টি হলো এক বর্বর পাশবিকতা। সে ইতিহাস বড় করুণ, বড় মর্মান্তিক। ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট হাউজে ইপিআর বাহিনীর দুটি কোম্পানি (‘এ’ এবং ‘বি’) প্রহরারত ছিল। পাক সেনাবাহিনীর পাঞ্জাব রেজিমেন্টের দুটি ব্যাটালিয়ন (ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর্টিলারি) থাকা সত্ত্বেও ওই তারিখ সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে ট্যাংক ও সাঁজোয়া বাহিনী এসে প্রেসিডেন্ট হাউজে জমা হতে থাকে। সন্ধ্যার পর পরই ঢাকা সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল আনোয়ার শাহ ইপিআর বাহিনীর সবাইকে বললেন: ‘প্রেসিডেন্ট চলে গেছেন, সবাই অস্ত্র জমা দিয়ে বিশ্রাম করো।’ এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি-অবাঙালি সবাই অস্ত্র জমা দিয়ে বিশ্রাম করতে থাকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এদের সবাইকে বন্দি করে। বন্দির পর পরই অবাঙালিদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। ২৬ মার্চ ইপিআর বাহিনীর বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন আজাদসহ ২০ জন জওয়ানকে কন্ট্রোল রুম থেকে বন্দি করে প্রেসিডেন্ট হাউজে অন্য বাঙালি ইপিআর বাহিনী সঙ্গে আটক রাখে। ২৯ মার্চ রাতে ১০০ জনের মতো বাঙালি ইপিআরকে পাক সেনারা প্রেসিডেন্ট হাউজ থেকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে রেসকোর্স ময়দানে অবস্থিত (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কালিবাড়ী মন্দিরের কাছে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ইপিআর বাহিনীতে চাকরিরত অবাঙালি অফিসার এবং জওয়ানরাই এ হত্যাযজ্ঞ সম্পন্ন করে। প্রথম গ্রুপে সুবেদার আবদুল লতিফ, নায়েক সুবেদার দবিরউদ্দিন, নায়েব সুবেদার এয়ার মোহাম্মদ প্রমুখকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই হাবিলদার আকরাম আলী, হাবিলদার মমতাজ, হাবিলদার ফরিদ, নায়েব মোহাম্মদ আলী, নায়েক আবদুস সামাদ, নায়েক মুজিবুল হক, নায়েক শাহাবউদ্দিন, নায়েক আমীর আলী, হাবিলদার মোবারক আলী, নায়েক মমতাজ, নায়েক আছহাব আলী প্রমুখকে হাতবাঁধা অবস্থায় একটি গাড়িতে তুলতে দেখা গেল। ইপিআর অবাঙালি অফিসার মেজর গোলাম মোহাম্মদ নিজে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। অবাঙালি ইপিআর চায়নিজ রাইফেল সামনে রেখে রেসকোর্স ময়দানে কালিবাড়ী মন্দিরের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছে সবাইকে নিচে নামানো হয় এবং মেজর গোলাম মোহাম্মদ স্বয়ং গুলির নির্দেশ দিলে ঝাঁক ঝাঁক গুলি এসে সবাইকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়। এ গুলির মধ্যেও নায়েক মোহাম্মদ আলী, নায়েক মুজিবুল হক আকস্মিকভাবে বেঁচে যান। গুলির পর মেজর গোলাম মোহাম্মদ ও তাঁর দলবল মরদেহ পরীক্ষা করতে এলে নায়েক মুজিবুল হক, নায়েক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ মরদেহের মাঝে মৃতের ভান করে পড়ে থাকেন। পাকিস্তানিরা তখনই চলে যায় পরবর্তী শিকার আনতে। নায়েক মোহাম্মদ আলী গুরুতর আহত অবস্থায় মরদেহগুলোর মধ্য থেকে পালিয়ে পরবর্তীকালে ৮ নং সেক্টরে যোগ দেন। নায়েক মুজিবুল হক ওই রাতে মারাত্মক আহত অবস্থায় এক মসজিদে আশ্রয় নেন। মসজিদের কয়েকজন সহূদয় ব্যক্তি নায়েক মুজিবুল হককে মিটফোর্ড হাসপাতালের ২৪ নং সিটে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালের বাঙালি ডাক্তার মুরীদ আলী আন্তরিকতার সঙ্গে মুজিবুল হকের চিকিত্সা করতে থাকেন এবং নায়েক মুজিবুল যে ইপিআর বাহিনীর লোক, সে খবর গোপন রাখেন। কিন্তু হাসপাতালের অবাঙালি সুপারিনটেনডেন্ট এবং একজন অবাঙালি মহিলা নার্স এ সংবাদটি পেয়ে পাকসেনাদের খবর দিলে ৩ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী হাসপাতাল ঘিরে ফেলে। পাকসেনারা মুজিবুল হককে গ্রেফতার করতে আসছে ডাক্তার মুরীদ আলী তা আগেই জানতে পেরেছিলেন। তিনি হাসপাতালের ছাড়পত্র দিয়ে মুজিবুল হককে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বললেন। ওই তারিখে পাকসেনাদের আসার আগেই হাসপাতালের স্টোরকিপার শাহাদাত্ হোসেনের সহায়তায় মুজিবুল হক পালিয়ে যেতে সমর্থ হন। পাকসেনারা মুজিবুল হককে না পেয়ে ডাক্তার মুরীদ আলী এবং নার্স ব্রাদার এনামুল হককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এর পর এ দুজনের ওপর নয় মাস ধরে চালানো হয় অকথ্য অত্যাচার। নায়েক মুজিবুল হক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগদান করেন।

মিরপুর এলাকায় ইপিআর বাহিনীর দুটি কোম্পানি ছিল। পঁচিশে মার্চের রাতে পাকসেনারা অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে অধিকাংশকে বন্দি করে ফেলে। ইপিআর বাহিনী প্রতিরোধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

এদিকে রমনা থানা এলাকায় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে পাকসেনাদের সামান্য সংঘর্ষ হলেও পাকিস্তান সেনাবাহিনী কিছুক্ষণের মধ্যেই সমগ্র এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ডিএসপি জিয়াউল হক লোদী (শহীদ) তাঁর পুলিশ ফোর্স নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সংঘর্ষে বেশকিছু পুলিশ নিহত হয় এবং অবশিষ্টরা বন্দি হয়ে যায়। সূত্রাপুর এলাকা, ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ি পাকসেনারা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

পঁচিশ মার্চ রাত ১১টার দিকে পাকসেনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে, বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা, রেলওয়ে বস্তি ইত্যাদি স্থানে ব্যাপকভাবে গোলাবর্ষণ করতে থাকে। ছাত্রদের জঙ্গি কর্মী এবং জনতা মিলে সামান্য অস্ত্র নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। হিংস্র পাকসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফজুলর রহমান, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, ড. মনিরুজ্জামান ও অধ্যাপক আনিসুর রহমান প্রমুখকে।

পিলখানার সঙ্গে সঙ্গে রাজারবাগ পুলিশ দপ্তরও আক্রান্ত হয়। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাজারবাগেও আক্রমণ চালায়। পঁচিশ মার্চ রাত পৌনে ১০টার সময় ঢাকা সেনানিবাস থেকে সশস্ত্র পাকসেনাভর্তি প্রায় ৪০টি ট্রাক এয়ারপোর্ট রোড ধরে ঢাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সংবাদ তেজগাঁ পুলিশ কন্ট্রোল রুম রাজারবাগ পুলিশ বেইসকে জানিয়ে দেয়। পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে ট্রাকগুলোর ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। পাকসেনারা অগ্রসর হয়ে সারা ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাদের একটি দল ফার্মগেট পর্যন্ত এসে রাত ১১টার দিকে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টিকারী জনতার ওপর হঠাত্ করে বেপরোয়াভাবে গুলিবর্ষণ করতে থাকে। গুলির আঘাতে বেশকিছু নিরীহ বেসামরিক লোক নিহত হয়। ফার্মগেটের গুলি সম্পর্কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন আবু তাহের সালাহউদ্দিন বলেছেন:

‘আমরা ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসার পথে ফার্মগেটে ছাত্রদের একটা বিরাট মিছিলের মাঝে পড়ি। ছাত্ররা ফার্মগেটে প্রতিবন্ধকতা (ব্যারিকেড) সৃষ্টি করেছিল যেন শহরে সেনাবাহিনীর যে সমস্ত গাড়ি গিয়েছে, সেগুলো ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসতে না পারে। আমরা যখন মিছিলের মাঝে পড়ি, তখন কয়েকজন ছাত্র আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমি সেনাবাহিনীর পরিচয় না দিয়ে বাঙালি সাধারণ মানুষ এবং গুলশানে বাড়ি আছে বলে জানাই। তখন তারা আমাদের গাড়ি চলার একটু জায়গা পরিষ্কার করে দেয়। রাত তখন এগারোটা। ব্যারিকেড অতিক্রম করার পরই আমরা দেখলাম সেনাবাহিনীর চারটি গাড়ি (মেশিনগান লাগানো এবং বাতি নেভানো) ফার্মগেটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গাড়ি কয়খানা ফার্মগেটের কাছাকাছি গিয়েই ছাত্র ও জনতার ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। ফলে বেশকিছু সংখ্যক ছাত্র ও জনতা সেখানেই নিহত হয়।’

রাত ১২টার দিকেই পাকসেনারা প্রথমবারের মতো রাজারবাগ পুলিশ হেডকোয়ার্টার আক্রমণ করে। রাজারবাগের চারশ পুলিশ আক্রমণের আশঙ্কায় তাদের হাতিয়ারসহ প্রতিরক্ষা অবস্থান নিয়েছিল। পাকসেনারা প্রথম রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দিক থেকে আক্রমণ চালায়। পুলিশ বাহিনীর হাতের রাইফেলগুলো একসঙ্গে গর্জে উঠলে কিছুক্ষণের মধ্যে পাকসেনারা পিছু হটে যায়। পাকসেনাদের নাজুক পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর মনোবল বেড়ে যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ট্যাংক ও যাবতীয় ভারী অস্ত্র নিয়ে বেপরোয়াভাবে আক্রমণ করে। পুলিশ বাহিনী তাদের সামান্য ‘থ্রি নট থ্রি’ রাইফেল দিয়ে অজেয় মনোবল নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু পাকসেনাদের ব্যাপক আক্রমণের মুখে পুলিশ বাহিনীর পক্ষে বেশিক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ওয়্যারলেসে বারবার পাকসেনাদের রাজারবাগ আক্রমণের খবর প্রচার করতে থাকে, আহ্বান জানায় সশস্ত্র সাহায্যের। সেই কালরাতে এসআই আসমত আলী আখন্দ, সুবেদার আবুল কাশেম ও হাফিজুর রহমান, সুবেদার আবুল হাশেম, নায়েক মোহাম্মদ আলী, সার্জেন্ট মর্তুজা হোসেন প্রমুখ নিজেদের দলের নেতৃত্ব দিয়ে দেশপ্রেমের উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ভোরের দিকে রাজারবাগ পাকসেনাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বস্তুত বলা যায়, ২৬ মার্চের মধ্যে সমগ্র ঢাকা পাকসেনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

২২তম বালুচ রেজিমেন্ট প্রতিটি ইপিআর ব্যারাকের সন্নিকটে পঁচিশে মার্চ রাতের প্রথম লগ্নেই অবস্থান নিয়েছিল। নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে একযোগে সমগ্র ইপিআর ব্যারাক, কোয়ার্টারগার্ড গেট আক্রমণ করে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পিলখানার ইপিআর বাহিনী পঁচিশের রাতেই বন্দি হয়ে যায়। বন্দি ইপিআরদের নিয়ে ২৯ মার্চ সকাল ৮টায় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার নেসার আহমদ ময়দানে একসভা করেন। সে সভায় তিনি বন্দি সবাইকে ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর অফিসকক্ষে চলে যান। এর পর পরই পুনরায় সবাইকে বন্দির আদেশ দেয়া হয়। সবাইকে বন্দি অবস্থায় পরবর্তীকালে মোহাম্মদপুর শরীরচর্চা মহাবিদ্যালয় মাঠে যাওয়া হয়। এ বন্দিশিবিরে পাকসেনারা দিনের পর দিন অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে একে একে হত্যা করে সুবেদার মেজর শওকত, নায়েক সুবেদার শামসুল হক, নায়েক মহিউদ্দিনকে। হত্যা করে আরো অসংখ্য ইপিআর সৈনিককে। ইপিআর বাহিনীর ওপর অত্যাচারের সে করুণ ও বীভত্স চিত্র সঠিকভাবে বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব। পিলখানায় চারটি উইংয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ইপিআর সৈনিক সঠিক নির্দেশ এবং নেতৃত্ব পেলে যেকোনো পরিস্থিতিতে আক্রমণ অব্যাহত রাখতে পারত বলে অনেকে মনে করেন। বিভিন্ন জওয়ানের সাক্ষাত্কারে জানা যায়, তারা নিয়মিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল। পঁচিশ তারিখেও অনেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে নির্দেশের জন্য গেছে, কিন্তু কোনো নির্দেশ তারা পেয়েছে বলে জানা যায় না। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবও পিলখানায় বিডিআরের এক অনুষ্ঠানে তার ভাষণে একাত্তরের পঁচিশ মার্চের রাতে পিলখানায় অবস্থানরত ইপিআর বাহিনীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন।

পঁচিশ মার্চের ঘটনা সম্পর্কে অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস বলেছেন: ‘শেখ মুজিব ও তাঁর সহকর্মীদের চোখ ও কানের সম্মুখে বেদনাদায়ক সাক্ষাত্-প্রমাণের স্তূপ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ইয়াহিয়া খানের ফাঁদে সহজেই ধরা দিয়ে শাসনতান্ত্রিক ফর্মুলার ওপর আলাপ-আলোচনা নামক উন্মাদের নাচে অংশগ্রহণ করলেন এবং পরিণামে মেষের মতো কসাইয়ের শানিত অস্ত্রের মুখে নিক্ষিপ্ত হলেন। পঁচিশ মার্চে চরম আদেশ দানের পর ইয়াহিয়া খান যখন করাচিতে ফিরে যাচ্ছিলেন, আর পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদল যখন ঢাকা ও চট্টগ্রামে হত্যাযজ্ঞের উদ্যোগ গ্রহণ করছিল, তখন আওয়ামী লীগের একজন সংবাদবাহক স্থানীয় ও বিদেশী সাংবাদিকের মধ্যে শেখ মুজিব স্বাক্ষরকৃত একটি প্রেস-বিজ্ঞপ্তি বিতরণ করছিলেন।

‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা শেষ হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পর্কে আমরা মতৈক্যে পৌঁছেছি এবং আমি আশা করি, প্রেসিডেন্ট এখন তা করবেন। আমার দুঃখ হয়। এ নির্বুদ্ধিতা সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য নেই।

পঁচিশ মার্চের রাতে পিলখানা আক্রমণের পর যে কিছু সংখ্যক ইপিআর পিলখানা থেকে সরে যেতে পেরেছিল, তারা বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ঢাকার জিঞ্জিরা নামক স্থানে সুবেদার গনির নেতৃত্বে একত্র হওয়ার চেষ্টা করে। সুবেদার গনি ইপিআর সৈনিকদের নিয়ে প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানিদের অগ্রাভিযান প্রতিরোধ করার জন্য অগ্রসর হন। কিন্তু পাকিস্তানিদের তীব্র চাপের মুখে ইপিআর বাহিনীর প্রতিরোধ ভেঙে যায়। ইপিআর বাহিনীর এ দলের কিছু অংশ নরসিংদী এবং কিছু মানিকগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল হালিমের নেতৃত্বে স্থানীয় পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ ও ছাত্র নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। সুবেদার ইসাহাক, সুবেদার মেজর রাহাত আলী, হাবিলদার রফিক, সিপাই মোস্তফা, সিপাই আবুল কাশেম, সিপাই জাহাঙ্গীর প্রমুখকে ক্যাপ্টেন হালিমের নেতৃত্বে অক্লান্ত পরিশ্রম করে একটি বাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের আক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হওয়ায় ইপিআর বাহিনী এবং অন্যরা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে এ দলটি নবাবগঞ্জ, দোহার ও শ্রীনগর থানা এলাকায় বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেয়। কেউ কেউ ভারতের পথে পা বাড়ায়। ঢাকায় ইপিআর, পুলিশ এবং অন্যরা পাকিস্তানিদের আক্রমণের মুখে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার মরণপণ চেষ্টা করলেও প্রকৃতপক্ষে ২৫ মার্চেই পাকিস্তানিরা ঢাকা শহরকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সমর্থ হয়।

[‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ: প্রতিরোধের প্রথম প্রহর’ বই থেকে নেয়া]

 

লেখক: মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা